রাজেশ কুমার:.টেবিলে রাখা ইন্টারকমটা বিশ্রী শব্দে বেজে উঠেছিল ঠিক বেলা তিনটেয়। ওপার থেকে বড়সাহেব বলেছিলেন, চট করে একবার চলে আসুন তো। ঋজুর মনে হয়েছিল যেন সেই ছোট্টবেলার মতো দৌড়ে যাবে ছুট্টে আসবে। এর অন্যথা হওয়ার কিছু নেই। বড়সাহেবের ঘর থেকে এরকম ডাক হামেশাই আসে। ঋজু তাই সঙ্গে সঙ্গেই ছুটেছিল কোনও কিছু না ভেবে। বরং বলা যায় শিশুসুলভ সরল বিশ্বাসে। বড়সাহেবের গলায় বেশ একটা প্রশ্রয় ছিল। যেন ইঙ্গিত করছিল সামান্যই দরকার, যৎকিঞ্চিৎ। বেশিক্ষণ আটকে থাকতে হবে না। ঋজু আগে থাকতেই অফিসে জানিয়ে রেখেছিল আজ বিকেল চারটে নাগাদ বেরিয়ে যাবে সে। বড়সাহেবের মৌখিক অনুমতিও নেওয়া আছে সে-ব্যাপারে তিনদিন আগে থাকতেই। পুরো ছুটি তো আর নয়! নিদেনপক্ষে হাফছুটিও নয়। সামান্য ঘণ্টা দেড়েক আগে বেরিয়ে আসা। এর জন্য কেউ লিখিত দরখাস্ত দেয়!
অফিসে প্রচলিত আছে বড়সাহেবের মুখের কথাই সেই বিশেষ তালমিছরি বিজ্ঞাপনের মতো। কিংবা সেই বিশেষ ব্র্যান্ডের গেঞ্জি। মানে চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়! এইসব উপমা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিংবা তৈলমর্দন হলেও হতে পারে তবে ঋজু একশো শতাংশ নিশ্চিত যে, আজ সেকেন্ড হাফে বড়সাহেবের ঘরে কোনও মিটিং-টিটিং নেই, যে গুরুগম্ভীর আলোচনায় সময় চলে যাবে। তাই একপ্রকার নিশ্চিন্ত মনেই গিয়েছিল সে।
কিন্তু ওই অঙ্কে কাঁচা হলে যা হয়। ঋজুরও হল তাই। বড়সাহেব বললেন, একটা ফাইল ওপেন করতে হবে। অফিসের ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলো পাল্টাতে হবে। বাই চান্স কিছু দুর্ঘটনা ঘটে গেলে...! ঋজুর মাথায় হাত। ফাইল ওপেন! সে তো মহাঝঞ্ঝাটের ব্যাপার। কলিযুগ হলে কাগজ-কলমে মিটে যেত। কিন্তু এটা ডিজিটাল যুগ। ইলেকট্রনিক ফাইল। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জোগাড় করা, স্ক্যান করে আপলোড করা, সে-সব মহাঝকমারি কাজ। তাছাড়া সাইটটা যা স্লো! খুলতে খুলতেই হয়তো অফিস ছুটি হয়ে যাবে। এমনকী, বাড়ি পৌঁছনোরও সময় হয়ে যেতে পারে তার।
সে বলল, স্যার আজই! বড়সাহেব বললেন, অন্য কিছু হলে বলতাম না। বিষয়টা খুব সেনসেটিভ। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়বে আমার। ঋজু পড়ল মহাফ্যাসাদে। কথা চলছে আগুন নেভানোর। কিন্তু গা-পিত্তি জ্বলছে তার। ওগুলো কি আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার হয় নাকি জ্বালানোর ভগবানই জানেন! নিজের নির্বুদ্ধিতার জন্য নিজেরই মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করছে তার। কীভাবে সে ভেবে নিল যে, সে আজ ঘণ্টা দেড়েক আগে নির্বিঘ্নে বাড়ি চলে যেতে পারবে! তারপর সুনন্দাকে নিয়ে বড় কোনও রেস্টুরেন্টে। আজ যে তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী। জীবনের একটা বিশেষ দায়িত্বপূর্ণ দিন। দায়িত্ব পালনে একচুল এদিক ওদিক হলেই তার গার্হস্থ্য জীবন পড়বে মহাসংকটে। এমতাবস্থায় এই অফিসে কেউ আড়াল থেকে মজা দেখবে না তা হতে পারে না। এইসব ফায়ার এক্সটিংগুইশার ফেক্সটিংগুইশার বাজে কথা। কতদিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে কারও হুঁশ ছিল না। যেই না তার বিবাহবার্ষিকী এল বসের কানে টুক করে তুলে দিল কথাটা। তাও কায়দা করে একেবারে এই শেষবেলায়। যাকে বলে তীরের কাছে তরী ডোবানোর নিখুঁত আয়োজন। এই অফিসে এই কালচারটা আছে। নিছক রসিকতা করে কোনও কোনও সহকর্মীকে অশান্তির ভেতর ঠেলে দেওয়া। ইস্ আগে যদি বুঝতে পারত সে! সোশ্যাল মিডিয়া নোটিফিকেশনটা অফ্ করে রাখত আর আসল কারণটা চেপে যেত চুপচাপ।
কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু করার নেই তার। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ওরফে বসের চাকরি বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে হল তাকে। কারণ বউয়ের রাগ আর বসের আদেশের সামনে কখনওই শেষ কথাটা বলা যায় না। তা সে যে-ই হোক। অন্যান্য দিন অফিস থেকে বেরিয়ে সুনন্দাকে ফোন করে দেয় সে— এই বেরলাম। ছ’টার কাটোয়াটা পেয়ে যাব, রাস্তায় জ্যাম না থাকলে।
আজও সকালে বেরনোর সময় সেই মতোই বলেছিল সুনন্দা, বেরিয়ে ফোন করে দিও তাহলে! ঋজু ঘাড় নেড়েছিল। কিন্তু এখন ফোন করে সে ঠিক কী বলবে বুঝে উঠতে পারছে না কিছুতেই। অফিস থেকে বাস, ট্রেন ঠেঙিয়ে বাড়ি পৌঁছতে তার লেগে যায় প্রায় ঘণ্টা দুই। অফিস ছুটির স্বাভাবিক সময়ে বের হলেও বাড়ি ফিরে ফ্রেস হতে হতেই রাত আটটা। তারপর রেস্টুরেন্টে গিয়ে লাইন দেওয়া। আজকাল তো সন্ধে হলেই পিলপিল করে মানুষজন বেরিয়ে পড়ে রেস্টুরেন্টের বাহারি খাবার খেতে। বার্থডে, বিবাহবার্ষিকী পালন করতে। সেলফি তুলতে। বিবাহবার্ষিকীর কথা মনে হতেই কে যেন চিমটি কাটল তাকে। সে-ও তো ওই একই কারণে যাচ্ছে।
ঋজু আর সুনন্দার প্রেমের বিয়ে। দুই-তিন পাড়া এদিক ওদিক বাড়ি। বিয়ের প্রথম ‘জন্মদিন’ এটাই। এই এপ্রিল মাসে তেমন কোনও কাজ থাকে না ঋজুর। মার্চে ইয়ার এন্ডিংয়ের পর প্রথম কোয়ার্টারের অ্যালটমেন্ট আসতে দেরিই হয় একটু। এই সময় মাঝে মাঝে অফিসে বসে কম্পিউটারে তাসও খেলতে হয় তাকে, সময় কাটাতে। দুপুরের দিকে আলিস্যি আসে বেশ একটা। সুনন্দা সে খবরও জানে। মানে ঋজুই বাড়ি ফিরে বলে আর কী। সেই সব বলাগুলো যে এইভাবে বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে তা কি আর সে জানত! এখন কীভাবে সে বিশ্বাস করাবে সুনন্দাকে, আজ বিয়ের দিনেই অফিসে আগুন নেভানোর কাজ পড়েছে তার! আজ বিয়ের দিনেই বসের চাকরি আগলে বসে থাকতে হচ্ছে তাকে।
ইলেকট্রনিক ফাইল ইনিসিয়েট করতে করতেই ঋজু ভাবছিল এইসব কথা। প্রায় সপ্তাহখানেকের পরিকল্পনা কীভাবে ভেস্তে যেতে চলেছে খোলা মঞ্চে অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগে বৃষ্টিপাতের মতো। সুনন্দা বলেছিল, ছুটি নিয়ে নাও। সারাদিন গল্প করব আর রাতে রেস্টুরেন্টে খেতে যাব। ঋজু বলেছিল, তাড়াতাড়ি তো চলেই আসব। শুধু শুধু একটা ছুটি নষ্ট করার কি প্রয়োজন আছে! সামনেই দার্জিলিং বেড়াতে যাওয়া। তিনটে ক্যাজুয়াল লিভ কাটা যাবে তখন। তাছাড়া আপদে-বিপদে কখন কী দরকার পড়ে! সুনন্দা নিমরাজি হয়েছিল।
—দেখ তবে, যেটা ভালো বোঝো।
কথাটা বলার সময় ভালো করে লক্ষ করেছিল ঋজু, সুনন্দার মুখে আলো কমে এসেছিল খানিকটা। ঠিক যেন অপরাহ্ণে মেঘ জমার আশঙ্কা। আর এখন এই বিষয়টাই ভেতরে ভেতরে অস্থির করে তুলছে তাকে। কেন যে সে নিজের বুদ্ধি খাটাতে গেল! একটা ছুটি এদিক ওদিকে কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত! ওই জন্যই বিজ্ঞজনেরা বলেন, বউয়ের কথা শুনে চল। এখন এই অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র দিয়ে ঘরের আগুন সে নেভাবে কীভাবে! যদিও সুনন্দা খুব একটা অশান্তি করার মেয়ে নয়। যদি হতো তাহলে বিষয়টা অতটা চিন্তার হতো না ঋজুর কাছে। আসলে সুনন্দা মুখে কিছু বলে না। একটা গুমোটভাব তৈরি করে রাখে চারপাশে। সেটা কাটিয়ে উঠতে সময় নেয় অনেকটা। এই সময়টা প্রায় চুপ করেই কাটাতে হয় ঋজুকে। সুনন্দার পাশে তখন নিজেকে তার বেশ ক্যাবলাই মনে হয়। মনে হয় হাঁ করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনও কাজ নেই। আবার মনে হয় হাঁ করে তাকিয়ে থাকলেও এই গুমোট কাটবে না কখনও। অতএব তার কিছু করা দরকার। কিন্তু কী! উতলা হয়ে হাতড়েও নাগাল পায় না কিছুর।
ফাইল প্রস্তুত করতে করতে ঋজু ভাবছিল তার সেই হাঁ মুখটার কথাই। অনুধাবন করার চেষ্টা করছিল কীভাবে আয়ত্তের মধ্যে আনা যায় পরিস্থিতি। ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ বেজে উঠল তার মোবাইল ফোনটা। ওপার থেকে সুনন্দা জিজ্ঞেস করল, ‘হ্যাঁ গো এখনও বেরওনি! চারটে তো বেজে গেল!’ হাতঘড়ি দেখল ঋজু। ঘড়িতে বিকেল চারটে বেজে তিন মিনিট তখন। কী বলবে ঠিক ভেবে পেল না সে। মনে মনে বউয়ের সময় জ্ঞানের তারিফ না করে পারল না। ঋজুর মনে হল এবারে বুঝি না মরতেই ভূত হয়েছে সে। কোনও রকমে ঢোক গিলে বলল, ‘ইয়ে মানে অফিসে একটু আগুন লেগেছে। ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে নেভাচ্ছি। হয়ে গেলেই বেরিয়ে পড়ব।’ এমনভাবে বলল যেন আগুন নেভানো আর ঘর ঝাঁট দেওয়া একই কাজ। সুনন্দা আঁতকে উঠল ওধারে।
—একটু আগুন লেগেছে মানে! কী যা তা বকছ! আগুনের আবার একটু আধটু হয় নাকি!
ঋজু কম্পিউটারের এন্টার বটন প্রেস করতে করতে আনমনাভাবে বলল, ‘হয় হয় নিশ্চয় হয়। মিষ্টির যেমন অ্যাডেড সুগার আর সুগার ফ্রি, এও ঠিক তেমন।’ ওপারে সুনন্দা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল স্বাভাবিক ভাবেই! সে বলল, ‘কী যা তা বকছ! মাথা-ফাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি!’ ঋজু গলায় সামান্য উত্তেজনা এনে বলল, ‘এখনও হয়নি। তবে বেশি বকালে হয়ে যেতে পারে। তার চাইতে রেডি হও তুমি। দু-চারটে শাড়ি পাল্টে পাল্টে ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় দেখ কোনটায় সব চাইতে সুন্দর লাগছে। ততক্ষণে চলে আসব আমি। চাপ নিও না।’
চাপ নিতে না করল বটে কিন্তু ঋজু জানে বিষয়টা আসলে চাপেরই। কাজটা সম্পূর্ণ করে বেরতে বেরতে রেস্টুরেন্টের সব টেবিল দখল। নামীদামি কোথাও যাওয়াই যাবে না। আবার বাড়ি ফিরে সে-কথা মুখে উচ্চারণও করা যাবে না। মানে চাপ আর তাপের প্রভাবে ভূগর্ভে কয়লায় রূপান্তরের অবস্থা ঋজুর। মাথা খাটিয়ে একটা কিছু উপায় বের করতেই হবে তাকে, দ্রুত ফাইলের কাজ শেষ করতে করতে ভাবল সে। তারপর কাজ শেষ করে রোজকার নির্ধারিত সময়েই বের হল অফিস থেকে।
খুব বেশি ভাবতে হল না তাকে। একদিকে বুদ্ধু বনলে আর একদিকে মানুষের বুদ্ধি খোলে। ঋজুর মনে হঠাৎই চলে এল হাইওয়ের ধারের টি-স্টলটার কথা। বাড়ি থেকে সামান্যই দূরত্ব। বিয়ের আগে যখন দেখা করত দু’জনায় চলে যেত রাস্তার ধারের ওই টি-স্টলে। সামান্য স্ন্যাক্স আর দুই ভাঁড় চা । পকেটের পক্ষে পুষ্টিকর। সঙ্গে খোলা বাতাস। তখন অবশ্য বেকার ছিল সে। দু-চারটে টিউশনই ভরসা। তা হোক প্রেমের আবার সকার বেকার কী! প্রেম থাকা নিয়েই কথা।
আর এই বিষয়টাই বাড়ি ফিরে সে বোঝাতে গেছিল সুনন্দাকে। সুনন্দা তখন সেজে-গুজে রেডি এই যা রক্ষে। রান্নাঘরে থাকলে নির্ঘাত উড়ে আসত হাতা, খুন্তি। কোনও রকমে নিজেকে সামলে সে বলেছিল, ‘হ্যাঁ প্রেম তো পুরনো রেডিও। আছে এই অনেক। বাজছে কি বাজছে না, তা দিয়ে আর কী-ই বা আসে যায়!’ বলেই গম্ভীর হয়েছিল সে। এ-কথার উত্তরে ঋজু কী বলবে বুঝে পায় না যথারীতি। কোনও রকমে প্রশংসা করে বউয়ের।
—বাঃ বেশ বললে তো। বাংলা অনার্স ছিল বোঝা যায়।
প্রশংসায় প্রশংসাকারীর ব্যর্থতা ঢাকার প্রচেষ্টা মিশে থাকলে সারা শরীর জ্বলে ওঠে। সুনন্দারও ব্যতিক্রম ঘটল না কিছু। প্রচণ্ড গম্ভীরভাবে সে চলে এল ঋজুর সঙ্গে তাদের সেই পুরনো টি-স্টলে। এখানেও আজ থিক থিক করছে লোক। কী আছে কে জানে! তবে হাইওয়ের ধার, সবই ফ্লাইং কাস্টমার। রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে গাড়ি দাঁড় করিয়ে এসেছে। কেউই কাউকে চেনে না। সুনন্দার রাগ চড়ে গেল আরও এক কাঠি। ওদিকে ঋজুর হতাশাও। জীবনে শান্তি বলে কিছু থাকলে হয়। একটু যে নিরিবিলিতে দাঁড়াবে, দুটো কথা বলবে, ধীরে-সুস্থে কিছু খাবার অর্ডার করবে তার উপায় নেই। গুমোটভাবটা সুনন্দা ছড়াচ্ছে নাকি আজ সত্যিই হাওয়া কম বুঝতে পারছে না ঋজু। সে ফিরে যাবেই ভাবছিল। এমন সময় হঠাৎই কে যেন ডেকে উঠল সুনন্দাকে।
—আরে দিদি অনেক দিন পর যে! তা মাথা কবে ফাটালে!
দোকানের সেই কিশোর ছেলেটা। দু’জনে প্রেম করতে এসে মাঝে মধ্যেই যার নানারকম কায়দাকানুন দেখে মজা নিত তারা। সুনন্দা ছেলেটার ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে গেল হাসিমুখে।
—এই তো ভাই আজ একবছর হল। আসব কী...।
সুনন্দা খুলে বসল ঋজুর নানারকম অপারগতার কথা। এই এক বছরে সে ঠিক কতটা অসামাজিক হয়ে উঠেছে। তারপর দু’জনেই হাসতে লাগল তাকে নিয়ে।
ঋজু পাশে দাঁড়িয়ে সেই উষ্ণতার ছোঁয়া নিচ্ছিল। হঠাৎ কোথা থেকে একঝাঁক হাওয়া উঠে এল। ভাসিয়ে নিয়ে গেল তাকে। ঋজুর মনে হল, ভালোবাসা থাকলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয় আগুন নেভাতে অক্সিজেনই দরকার হয়।