Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গলে ডাকাত সর্দারকে নির্দেশ দেন দেবী, জাঙ্গিপাড়ায় ৪১৮ বছরে পা দিল জয়চণ্ডী

জাঙ্গিপাড়া ব্লকের রাধানগরে জাগলগড়ী চণ্ডীনগরের ‘জয়চন্ডী’ প্রায় ৪১৮ বছরের পুরনো। এখানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ক্ষিরোদ চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি।

জঙ্গলে ডাকাত সর্দারকে নির্দেশ দেন দেবী, জাঙ্গিপাড়ায় ৪১৮ বছরে পা দিল জয়চণ্ডী
  • ২৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: জাঙ্গিপাড়া ব্লকের রাধানগরে জাগলগড়ী চণ্ডীনগরের ‘জয়চন্ডী’ প্রায় ৪১৮ বছরের পুরনো। এখানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ক্ষিরোদ চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি। তিনি হরিপাল দ্বারহাট্টা গ্রামের চাঁদবাটি গ্রামের বাসিন্দা। 

Advertisement

জয়চণ্ডী মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে কানা নদী। নদীর চেহারা তখন ছিল অন্যরকম। যাতায়াত করতেন বণিকরা। তাদের লুট করতে ডাকাতদের আনাগোনা ছিল। এক রাতে ক্ষিরোদ স্বপ্নাদেশ পান দেবী চণ্ডীর। দেবী তাঁকে বলেন, ‘এই বাড়ির অনতিদূরে জঙ্গলের মধ্যে আমি বিরাজ করছি। উষা লগ্নে আমাকে প্রতিষ্ঠা করবি।’ তবে দ্বিধায় পড়ে যান ক্ষিরোদ। বাড়ির পাশে বহু জঙ্গল। কোথায় খুঁজবেন দেবীকে? সে রাতে নদীপথে যাচ্ছিল ডাকাতরা। তারা জঙ্গলের মধ্যে নারীকণ্ঠের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। সর্দার একটি জঙ্গলে গিয়ে দেখতে পান লাল রঙের বেনারসি এক জায়গায় পড়ে রয়েছে। কেউ নেই আশপাশে। ভৌতিক ঘটনা ভেবে নৌকার দিকে দৌড়তে থাকেন তিনি। তখন পিছন থেকে সে নারী বলে ওঠেন, ‘আমি জয়চণ্ডী। পাশের গ্রামের ক্ষিরোদ চক্রবর্তীকে নিয়ে আয়। আমায় এখানে প্রতিষ্ঠা কর।’ সর্দার ক্ষিরোদের বাড়ি যান। ওই ভোরেই দেবীর ঘট প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর পুজোর দায়িত্ব পান গোপাল চক্রবর্তী। তিনি দেবীকে নিরাকার রূপে পুজো করতে চাননি। তারপর তিনি স্বপ্নাদেশ পান। দামোদর থেকে উদ্ধার করেন জয়চণ্ডীর মূর্তি। সাধক গোপাল চল্লিশ বছর বয়সেই নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর রাম সুধীর রায় ও পুজোর দায়িত্ব পান। বর্তমানে আশিস মুখোপাধ্যায় ও তাঁর ছেলে পুজোর দায়িত্বে। 
আশিসবাবু জানান, ১৯৯২ সালে মন্দিরের পুরনো মূর্তিটি চুরি যায়। ওই বছর কার্তিক মাসের ছ’তারিখ নতুন মূর্তি এনে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে বাৎসরিক পুজো হয় ওই দিন। এছাড়া প্রতি শনি ও মঙ্গল পুজো হয়। এই দিনগুলি বলির প্রচলন আছে। বাৎসরিক পুজোয় বলি দেওয়া হয় না। এখানে দেবীর দু’টি হাত। একহাতে পদ্ম। অন্য হাতে আশীর্বাদের ভঙ্গি। কোনও বাহন নেই। পুজোর দায়িত্ব এককালে ছিল বর্ধমান মহারাজাদের উপর। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ৪৫ টাকা করে বর্ধমান রাজবাড়ি থেকে পাঠানো হতো। তিনি বলেন, ‘আমার মা রাম সুধীর রায়ের কন্যা। দুই মামার কোনও সন্তান ছিল না। ‌ মামার বাড়ি সূত্রে মন্দিরের পুজোর দায়িত্ব পেয়েছি।’ 
প্রাচীন এই মন্দিরে ঢোকার পথে ডান পাশে প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো একটি তমাল গাছ রয়েছে। পাশে রয়েছে পদ্মদিঘি। হুগলি, হাওড়া, বর্ধমান সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি শনি ও মঙ্গল পুজো দিতে আসে অসংখ্য মানুষ। ভক্তি সহকারে দেবীর পুজো করলে মনস্কামনা বিফল হয় না বলে বিশ্বাস সকলের।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ