অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: জাঙ্গিপাড়া ব্লকের রাজবলহাট কুলিয়াড়া গ্রামের পটের দুর্গার বয়স প্রায় ৪০০ বছর। পটের উচ্চতা প্রায় সাড়ে ন’ফুট। রায় পরিবার এই পুজো করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, হুগলি জেলায় এই একটিমাত্র পটের দুর্গা পুজো হয়। প্রতিবছরই বহু মানুষ আসেন পুজো দেখতে।
রাজবলহাটের রাজবল্লভী দেবীর বিষয়ে কথিত আছে, ডিভিসুট পরগনার জায়গিরদার ছিল এই পরিবারের এক সদস্য। ৪০০ বছর আগে মাটির মূর্তির পুজো হতো। কোনও একবছর পুজোর এক সন্ধ্যায় দেবীকে ভোগ অর্পণ করতে যান এই পরিবারের এক কন্যা। তারপর তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁর পরনের কাপড়ের টুকরো পাওয়া গিয়েছিল দেবীর মুখমণ্ডলে। তারপর পুরোহিতের বিধানে পরিবার মূর্তি পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয়। শোলার উপর কাগজ লাগিয়ে দেবীর ছবি আঁকা হয়। সাড়ে ন’ফুটের পট চিত্র তৈরি হয়। পুজো হয় সেই পটেরই। মন্দিরের পাশেই রয়েছে নারায়ণ মন্দির। তার পাশে দেবীর পুকুর। পুকুরের অপর প্রান্তে জোড়া শিবমন্দির। বর্তমানে রায় পরিবার পুজো পরিচালনার দায়িত্বে। আগে দূর্গামন্দির সহ অন্যান্য মন্দির ছিল টেরাকোটার। পরবর্তীকালে সেগুলি সংস্কার হয়। জাগ্রত ও ঐতিহাসিক এই দুর্গার গুরুত্ব বুঝে রাজ্য সরকার এলাকার সৌন্দর্যায়ন করে।
পরিবারের সদস্য পরিমল রায় জানান, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, এই তিনদিন বলি দেওয়ার প্রচলন আছে। মহালয়া থেকে শুরু হয় পুজো। পরিবারের সকলে মিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পুজোর চার দিন সবাই মিলে খাওয়াদাওয়ার করে। কে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন সে তথ্য নেই আমাদের কাছে। মালাকার পরিবার থেকে শোলা কেটে কাগজ লাগিয়ে তৈরি করা হয় পটচিত্র। এই পটও বিসর্জন দেওয়া হয় দেবীর পুকুরে। জাগ্রত ঠাকুরকে দেখতে ভিড় করে আসেন দূর দূরান্তের মানুষ। নিজস্ব চিত্র