Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মূক-বধির শুভজিতের আঁকা চোখে আরও জীবন্ত লাগে দেবী দুর্গাকে, বিষ্ণুপুর ছাড়িয়ে কদর কলকাতা ও অন্য জেলায়

শব্দই ব্রহ্ম। কিন্তু শালতিঘাটার শুভজিতের শব্দ শোনার এবং বলার ক্ষমতা নেই। কারণ জন্মের পরই তা হারিয়ে গিয়েছিল

মূক-বধির শুভজিতের আঁকা চোখে  আরও জীবন্ত লাগে দেবী দুর্গাকে, বিষ্ণুপুর ছাড়িয়ে কদর কলকাতা ও অন্য জেলায়
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বজবজ: শব্দই ব্রহ্ম। কিন্তু শালতিঘাটার শুভজিতের শব্দ শোনার এবং বলার ক্ষমতা নেই। কারণ জন্মের পরই তা হারিয়ে গিয়েছিল। তাই আর পাঁচটি শিশু যেমন কথা বলে শোনে তা পারেন না শুভজিৎ। ফলে তিনি কারও কাছ থেকে ছোট থেকেই গুরুত্ব পাননি, উপেক্ষিতই থেকেছেন। মনের আবেগ, আনন্দ, বেদনা, উচ্ছ্বাস, অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেননি কোনওদিন। কিশোর বয়সে বাবা রামকৃষ্ণ সাউয়ের সঙ্গে গৌরাঙ্গ স্টুডিওতে যাওয়ার পর তাঁর চোখ খুলে যায়। বাবা মৃৎশিল্পী। প্রতিমা তৈরি করেন। তিনি চেয়েছিলেন, মূক ও বধির সন্তানটি শিল্পী হোক। ভাবরাজ্যে বসবাস করুক। নাম হোক। উপেক্ষার জবাব দিক। তাই ধীরে ধীরে শালতিঘাটার স্টুডিওতে নিয়ে এসে মৃৎশিল্পী হওয়ার পাঠ দিতেন সন্তানকে। হাতে তুলি ও রং দিয়ে পরখ করতেন ছেলের অনুভূতি। ধীরে ধরিয়ে দেন মাটির দলা। মূর্তির চেহারায় রূপ দেওয়াও শেখান। কোন রঙের সঙ্গে কোন রং মেশালে নতুন ধরনের রং হবে, তা কীভাবে মৃন্ময় মূর্তি হয়ে উঠবে, কিভাবে চোখ আঁকলে তা সুন্দর ও জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে, সব শেখালেন ছেলেকে। এই শিক্ষা হতো ইশারার মাধ্যমে। পরবর্তীকালে স্কুলে ভর্তি হন শুভজিৎ। তারপর সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ মাধ্যম শেখেন। 

Advertisement

এই কাহিনি বললেন শুভজিতের ভাই বরুণ সাউ। তিনি বলেন, ‘কাকা রামকৃষ্ণ সাউ মারা গিয়েছেন। তাঁর জায়গা পূরণ করেছে দাদা। কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায় ভাইয়ের হাতে তৈরি দুর্গা যাচ্ছে।’ তিনি জানান, তাঁরা সকলে মিলে প্রতিমা তৈরি করেন। কিন্তু মায়ের এবং সহ অন্যান্য মূর্তির চোখ আঁকেন দাদা। এমনভাবে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে যা অবাক করে দেয়। সেই কারণেই এখান থেকে প্রতিমা নেওয়ার জন্য বহুজন আসেন। এবার নিউ জার্সি থেকেও নেবে বলে পাকা কথা হয়েছিল। কিন্তু শেষ সময় জিএসটির কারণে তা বাতিল হয়। এখানে তৈরি প্রতিমা প্রতিবার পুরস্কার পায়। ঠাকুরদার সময় বিষ্ণুপুরের শালতিঘাটায় স্টুডিও তৈরি হয়েছিল। পরে বাবা ও কাকা মূর্তি তৈরি করতেন। আগে বেশি চাহিদা ছিল না। এখন শুভজিতের হাতের ছোঁয়ায় চাহিদা বাড়ছে। এবার ৫৬টি প্রতিমার বায়না হয়েছে। বায়নার আরও চাপ ছিল। কিন্তু দু’মাস আগে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করা হয়।  চক্ষুদানে মগ্ন শুভজিৎ।- নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ