সংবাদদাতা, বজবজ: শব্দই ব্রহ্ম। কিন্তু শালতিঘাটার শুভজিতের শব্দ শোনার এবং বলার ক্ষমতা নেই। কারণ জন্মের পরই তা হারিয়ে গিয়েছিল। তাই আর পাঁচটি শিশু যেমন কথা বলে শোনে তা পারেন না শুভজিৎ। ফলে তিনি কারও কাছ থেকে ছোট থেকেই গুরুত্ব পাননি, উপেক্ষিতই থেকেছেন। মনের আবেগ, আনন্দ, বেদনা, উচ্ছ্বাস, অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেননি কোনওদিন। কিশোর বয়সে বাবা রামকৃষ্ণ সাউয়ের সঙ্গে গৌরাঙ্গ স্টুডিওতে যাওয়ার পর তাঁর চোখ খুলে যায়। বাবা মৃৎশিল্পী। প্রতিমা তৈরি করেন। তিনি চেয়েছিলেন, মূক ও বধির সন্তানটি শিল্পী হোক। ভাবরাজ্যে বসবাস করুক। নাম হোক। উপেক্ষার জবাব দিক। তাই ধীরে ধীরে শালতিঘাটার স্টুডিওতে নিয়ে এসে মৃৎশিল্পী হওয়ার পাঠ দিতেন সন্তানকে। হাতে তুলি ও রং দিয়ে পরখ করতেন ছেলের অনুভূতি। ধীরে ধরিয়ে দেন মাটির দলা। মূর্তির চেহারায় রূপ দেওয়াও শেখান। কোন রঙের সঙ্গে কোন রং মেশালে নতুন ধরনের রং হবে, তা কীভাবে মৃন্ময় মূর্তি হয়ে উঠবে, কিভাবে চোখ আঁকলে তা সুন্দর ও জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে, সব শেখালেন ছেলেকে। এই শিক্ষা হতো ইশারার মাধ্যমে। পরবর্তীকালে স্কুলে ভর্তি হন শুভজিৎ। তারপর সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ মাধ্যম শেখেন।



