Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়ূরেশ্বরের ঘোষগ্রামে প্রথা মেনেই হয় ধনলক্ষ্মীর আরাধনা, ভক্তের ঢল

প্রাচীন রীতির গেরোয় গতবার লক্ষ্মীগ্রাম ময়ূরেশ্বরের ঘোষগ্রামে হয়নি কোজাগরীর আরাধনা।

ময়ূরেশ্বরের ঘোষগ্রামে প্রথা মেনেই হয় ধনলক্ষ্মীর আরাধনা, ভক্তের ঢল
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: প্রাচীন রীতির গেরোয় গতবার লক্ষ্মীগ্রাম ময়ূরেশ্বরের ঘোষগ্রামে হয়নি কোজাগরীর আরাধনা। শুধু তাই নয়, কোজাগরী পূর্ণিমায় প্রতিটি হিন্দু ধর্মাবলম্বী পরিবার মা লক্ষ্মীর আরাধনায় যখন মেতে উঠেছিল, ঠিক তখন বন্ধ ছিল রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রতিষ্ঠিত গ্রামের লক্ষ্মী মন্দির। এবছর তাই ধূমধামের সঙ্গে মন্দিরে ধনলক্ষ্মীর আরোধনা হয়। বীরভূম তো বটেই, লাগোয়া মুর্শিদাবাদ ও বর্ধমান জেলার বহু মানুষ সোমবার মন্দিরে ভিড় জমিয়েছিলেন। 

Advertisement

ঘোষগ্রামে বাড়ি, বাড়ি লক্ষ্মীপুজোর চল নেই। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত মন্দিরের দারু মূর্তির মা লক্ষ্মী গ্রামের আরাধ্যাদেবী। কয়েক যুগ ধরে এই মূর্তিতেই লক্ষ্মীপুজো হয়ে আসছে। কিন্তু গতবার সেই মন্দিরে ধনলক্ষ্মীর আরাধনা হয়নি। কারণ, মন্দিরের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, প্রত্যেক বছর ২৮ আশ্বিন থেকে চারদিন মন্দির বন্ধ থাকে। কথিত আছে, মা এই সময় জগৎ পরিক্রমায় বের হন এবং শস্য শ্যামলা বসুন্ধরা রচনা করেন। ভ্রমণ শেষে ২ কার্তিক দেবী মন্দিরে ফিরে আসেন। ওইদিন হরিনাম সংকীর্তন, যজ্ঞ সহ নানা আড়ম্বরের মধ্য দিয়ে মন্দিরের দ্বার খোলা হয়। গতবছর যেহেতু এই নিয়মের মধ্যেই পড়ে গিয়েছিল লক্ষ্মীপুজোর তিথি, তাই পুজোর আয়োজন করা যায়নি। তবে প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী, দেবীর সন্ধ্যাপ্রদীপ থেকে খড় দিয়ে তৈরি ৫১ টি বর জ্বালানো হয়। সেই বর নিয়ে দেবীর স্বপ্নাদেশপ্রাপ্ত ৫১টি গ্রামে পৌঁছে গিয়েছিলেন সেবাইতরা। সেই বরের আগুন থেকে গ্রামগুলির বাড়ি বাড়ি জ্বলে ওঠে হাজার হাজার প্রদীপ। সেবাইতদের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বরের ভস্ম। গ্রামবাসীরা সেই ভস্ম জমির ইশান কোণে রেখে ভালো ফলন কামনা করে বিশেষ পুজো করে থাকেন। এবছর ১৯ আশ্বিন কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর তিথি পড়েছে। তাই  এবছর হাজার, হাজার ভক্তপ্রাণ মানুষ ঘোষগ্রামের প্রাচীন মন্দির প্রাঙ্গনে দেবী লক্ষ্মীর পুজো দিয়েছেন। 
জনশ্রুতি আছে, হর্ষবর্ধনের আমলে পরিব্রাজক সাধক কামদেব ব্রহ্মচারী মায়ের সাধনার আসনের সন্ধানে বীরভূমের রাঢ় অঞ্চল ঘুরতে, ঘুরতে ঘোষগ্রামে এসে পৌঁছান। সেখানে তিনি স্বপ্নে দেখেন ক্রেতাযুগে রাম, লক্ষণ, সীতা ও হনুমান বনবাসের জন্য কিছুদিন এই গ্রামে বিচরণ করে গিয়েছেন। আবার দুর্যোধনের চক্রান্তের শিকার হয়ে পান্ডবরা কিছুদিন এই এলাকায় অজ্ঞাতবাসে ছিলেন। এরপরই নিম গাছের নিচে সাধনা শুরু করেন কামদেব ব্রহ্মচারী। দীর্ঘদিন কঠোর সাধনা শেষে মা লক্ষীর স্বপ্নাদেশ পান তিনি। এরপরই কাঁদর থেকে শ্বেতপদ্ম ও একটি নিম কাঠের খণ্ড তুলে নিয়ে গঙ্গামাটির প্রলেপ দিয়ে মা লক্ষ্মীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন ওই সাধক। সেদিনটাই  ছিল কোজাগরী পূর্ণিমা। সেই থেকে ঘোষগ্রামে আরাধ্যাদেবী রূপে পুজিতা হয়ে আসছেন মা লক্ষী। পরবর্তীকালে মুর্শিদাবাদের কান্দির রাজা কৃষ্ণচন্দ্র মায়ের মন্দির নির্মাণ করে দেন। মন্দিরের সেবাইত গুরুশরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চিরাচরিত প্রথা মেনে এবারও মহাযজ্ঞে ১০৮টি ক্ষীরের তৈরি নারু আহুতি দেওয়া হয়েছে। ফি-বছর হাজার হাজার ভক্ত সমাগম হয় মন্দিরে। গতবার প্রাচীন রীতি মেনে লক্ষ্মী পুজোর সময় মন্দির বন্ধ রাখা হয়েছিল। ভক্তরা নিরাশ হয়েছিলেন। তাই এবছর পুজো উপলক্ষ্যে প্রচুর ভক্ত সমাগম ঘটেছে। সেবাইতরা ভক্তদের ডালা নিয়ে 
গিয়ে পুজো করিয়ে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ভোগ প্রসাদ বিতরণও 
চলে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ