সংবাদদাতা, বোলপুর: গত ৫জুন আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস মহাসমারোহে গোটা বীরভূম জেলাজুড়ে উদ্যাপিত হয়েছে। এবার পরিবেশকে সুস্থ ও সবুজ রাখতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। ‘প্লাস্টিক দাও, উপহার নাও’ এই থিমে ঘোষণা করে প্লাস্টিক সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। যে যত বেশি প্লাস্টিক সংগ্রহ করবে তাদের জন্য থাকবে মজার উপহার। প্রথম দিনই পেন, স্কেচ পেন, আঁকার খাতা, পেন্সিল বক্স তুলে দেওয়া হয়েছে। আর তাতে আগ্রহও বেড়েছে পড়ুয়াদের।
প্রাথমিকভাবে, ইলামবাজার ব্লক এই কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছে। এই কর্মসূচি ঘোষণা হতেই গোটা ব্লকজুড়ে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। এই প্রচেষ্টায় ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষ নিয়মিত সাড়া দিলে জেলায় প্লাস্টিক থেকে হওয়া দূষণ এড়ানো সময়ের অপেক্ষা এমনটাই মনে করছে জেলা প্রশাসন। কর্মকাণ্ড শুরু হতেই পড়ুয়ারা নিয়মিত তাতে অংশগ্রহণ করছে বলে ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বিকল্প ব্যবহার ও পিচ রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক বিধান রায়। স্বভাবতই জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে অত্যন্ত খুশি পরিবেশপ্রেমী মানুষজন।
বিশ্ব উষ্ণায়ন যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ উদ্বিগ্ন। তবুও, অনেকের অসচেতনতার ফলে দূষণ বেড়েই চলেছে। তাই শুধুমাত্র পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যেই নয়, সারা বছরই দূষণ রুখতে সকলকে তৎপর হওয়া দরকার-এই ভাবনায় রাজ্যে অন্যান্য জেলার পাশাপাশি বীরভূম জেলা প্রশাসনও জেলা, মহকুমা, ব্লক, পঞ্চায়েত ও পুরসভাস্তরে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারই একটি ‘প্লাস্টিক দাও, উপহার নাও’ কর্মসূচি। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইলামবাজার ব্লক প্রশাসন পায়ের উচ্চ বিদ্যালয়ে এই কর্মকাণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করে। প্রথম দিনেই ছাত্রছাত্রীরা প্লাস্টিক সংগ্রহ অভিযানে নেমে পড়ে এই কর্মকাণ্ডের সূচনা করে। বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্লকের অন্যান্য বিদ্যালয়েও ইতিমধ্যে প্লাস্টিক সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ইলামবাজারের বিডিও অনির্বাণ মজুমদার বলেন, এই কর্মকাণ্ডে ছাত্রছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে। তাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষরাও যাতে এগিয়ে আসে, তার জন্য ব্লকের বাসিন্দাদের হাতে প্লাস্টিকের বিকল্প কাপড়ের ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়েছে। যা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের ব্যবহৃত হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি সেই বিশেষ ব্যাগ, কাগজের ব্যাগ, পার্চমেন্ট পেপারের ব্যাগ (মাছ মাংসের জন্য) এলাকার প্রায় তিন হাজার বাসিন্দার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্লাস্টিক সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সংগ্রহ করা প্লাস্টিক দুবরাজপুরের প্রসেসিং ইউনিট পাঠানো হচ্ছে। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, স্বচ্ছ ভারত মিশন ও নির্মল বাংলার তরফে প্লাস্টিক বর্জন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এই কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার পর থেকে সকলের কাছে যেভাবে সাড়া পাওয়া গিয়েছে, তাতে আমরা অভিভূত। প্রসেসিং ইউনিটে পাঠানো প্লাস্টিককে বিকল্প ব্যবহার অথবা রাস্তা তৈরিতে পিচের সঙ্গে ওই প্লাস্টিক মেশানো হচ্ছে। এভাবেই প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহৃত হচ্ছে। এই কাজ ধারাবাহিকভাবে চললে আগামী দিনে প্লাস্টিক দূষণ থেকে মুক্তি সহজেই সম্ভব হবে।