সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির রিচা সহ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটাররা এখন সেলিব্রিটি। গোটা দেশে তাঁদের নিয়ে উন্মাদনা। তবে সকলের থেকে রিচার কৃতিত্ব একটু আলাদা। অনূর্ধ্ব ১৯-র বিশ্বকাপ জয়ের পর এশিয়ান গেমসে সোনা জয়, ডব্লুপিএলে চ্যাম্পিয়ন, তারপর সিনিয়র বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ট্রফি স্পর্শ করেছে শিলিগুড়ির মেয়ে। যা বাংলার কোনও ক্রিকেটারের নেই। অথচ খেলার শুরুর সময় রিচা জানতেন না মহিলাদের আলাদা ক্রিকেট খেলা হয়। ছোটবেলায় শিলিগুড়ি কলেজ মাঠে বাবার হাত ধরে ক্রিকেট মাঠে প্রবেশ। তখন মাঠে রিচা ছাড়া আর কোনও মেয়ে ক্রিকেট খেলতে আসত না। ছেলেদের সঙ্গে রিচা ক্রিকেট খেলত।
রিচা বলেন, আমি ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতাম। খেলা শুরুর সময় মাঠে আমি কোনও মেয়েকে পাইনি। তাই আমি জানতাম না যে মেয়েদের জন্য আলাদা ক্রিকেট খেলা হয়। প্রথম জানতে পারি জেলা দলে সুযোগ পাওয়ার পর।
বিশ্বকাপ জয়ের পর শুক্রবার বাড়িতে এসেছিলেন রিচা। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস উন্মাদনার, অভিনন্দন ও সংবর্ধনায় ভেসে শনিবার সকালেই তিনি শহর ছাড়েন। শুক্রবার অনেক রাত পর্যন্ত শিলিগুড়ির সুভাষপল্লিতে রিচার বাড়ির সামনে অগণিত মানুষের অপেক্ষা দেখা গিয়েছে। সকলেই একটু সামনে থেকে রিচাকে দেখতে চান। এদিন সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে রিচাকে দেখার জন্য বহু মানুষ সাতসকালেই তার বাড়ির গেটের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন।
রিচার এবারের লক্ষ্য টি-২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। রিচা ফিরে গেলেও শিলিগুড়ি শহর এদিনও রিচা বন্দনায় মাতোয়ারা ছিল। শহরজুড়ে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে রিচার ফ্লেক্স, হোর্ডিং, পোস্টার ও কাটআউট। বিশ্বকাপে রিচার বিস্ময়কর ব্যাটিং নিয়ে এদিনও শহরের মানুষ আলোচনায় মশগুল ছিল। মেয়র গৌতম দেবও অবসর সময়ে রিচার শিলিগুড়িতে আগমন, পুরসভার নাগরিক সংবর্ধনার নানা মুহূর্ত স্মৃতিচারণ করেন। রিচার বাবার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন মেয়র। তিনি বলেন, বিচার বাবা মানবেন্দ্র ঘোষ আমার কাছে জানতে চান, আমাদের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কোনও তহবিল রয়েছে কি না। রয়েছে জানার পর তিনি সেই তহবিলে টাকা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁকে বলেছি, তিনি কলকাতা থেকে ফিরে আসার পর আমরা এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।