Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সহশিক্ষকের কাছে ছাত্রীরা নিরাপদ নয়! ডিএম, এসপিকে চিঠি স্কুলের টিচার ইনচার্জের

স্কুলের এক সহশিক্ষক কুনজরে তাকাচ্ছেন ছাত্রীদের দিকে। তাঁর কাছে ছাত্রীরা নিরাপদ নয়। কাঁথি-৩ ব্লকের ভাইটগড় একে হাইস্কুলের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমনই মারাত্মক অভিযোগ তুলে জেলাশাসক, পুলিস সুপার এবং স্কুল পরিদর্শকের দ্বারস্থ হল স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সহশিক্ষকের কাছে ছাত্রীরা নিরাপদ নয়! ডিএম, এসপিকে চিঠি স্কুলের টিচার ইনচার্জের
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: স্কুলের এক সহশিক্ষক কুনজরে তাকাচ্ছেন ছাত্রীদের দিকে। তাঁর কাছে ছাত্রীরা নিরাপদ নয়। কাঁথি-৩ ব্লকের ভাইটগড় একে হাইস্কুলের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমনই মারাত্মক অভিযোগ তুলে জেলাশাসক, পুলিস সুপার এবং স্কুল পরিদর্শকের দ্বারস্থ হল স্কুল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ওই স্কুলের টিচার ইন-চার্জ তুহিনকুমার মেইকাপ এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ ওসমান মহম্মদ এনিয়ে চিঠি দিয়েছেন। গোটা ঘটনায় শিক্ষামহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ১৫ জুলাই কাঁথি-৩ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ওই স্কুল ভিজিট করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পলাশ রায় জানিয়েছেন।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে ভাইটগড় একে হাইস্কুল তৈরি হয়। বর্তমানে মোট ১৩২জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শিক্ষক সংখ্যা চারজন। ওই স্কুলে আরও চারজন আংশিক সময়ের শিক্ষক ছিলেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের দুর্ব্যবহারের কারণে তাঁরা প্রত্যেকে স্কুল ছেড়েছেন বলে টিচার ইন-চার্জের দাবি। ২০২২ সালের ৩০জুন অভিযুক্ত শিক্ষক উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে বদলি হয়ে ওই স্কুলে যোগ দেন। ৫২বছর বয়সি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাঁর পূর্বতন দু’টি স্কুলেও এধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভাইটগড় স্কুলে যোগদানের কিছুদিন পর ছাত্রীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ নিয়ে তাঁকে সতর্ক করা হয়। ম্যানেজিং কমিটির প্রায় পাঁচটি মিটিংয়ে ধারাবাহিকভাবে সতর্ক করা হলেও তাঁর কোনও পরিবর্তন হয়নি।
গত ১৫জুলাই কাঁথি-৩ চক্রের এসআই শ্রাবস্তী দাসঅধিকারী ওই স্কুল পরিদর্শনে যান। অভিভাবক, ছাত্রছাত্রীদের বয়ান রেকর্ড করেন। ১৬তারিখ, বুধবার ক্লাস চলাকালীন ওই শিক্ষক আচমকা স্কুল ছেড়ে চলে যান। টিফিন আওয়ার্সের পর গ্রামের কয়েকজন ধাওয়া করলে তিনি স্কুলে গিয়ে আশ্রয় নেন। জানা গিয়েছে, ওই শিক্ষক লুকিয়ে গ্রামেরই একটি পুকুরে এক যুবতীর স্নানের ভিডিও তুলছিলেন। ওই ঘটনায় হইচই পড়ে যায়। বৃহস্পতিবার ফের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ওই স্কুলে যান। এদিন স্কুলের টিচার ইন-চার্জ সহ অন্যান্য শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। এদিন অভিযুক্ত শিক্ষক স্কুলে আসেননি। বৃহস্পতিবার অভিভাবকরা অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে তাঁরা স্কুলে ঢুকতে দেবেন না। রোজ স্কুল টাইমে তাঁরা গেটে পাহারা দেবেন। ওই শিক্ষককে এখান থেকে সরাতে হবে।
টিচার ইন-চার্জ তুহিনকুমার মেইকাপ বলেন, আমাদের এই স্কুলে মাধ্যমিক পর্যন্ত পঠনপাঠন হয়। এখানে আগে কখনও কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু, ওই শিক্ষক যোগদান করার করার পর থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। ক্লাস চলাকালীন ছাত্রীদের ছবি তুলছেন। অভব্য আচরণও করছেন। এর আগে দু’টি স্কুলেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এরকম ‘কেস হিস্ট্রি’ রয়েছে বলে জেনেছি। ধারাবাহিকভাবে আমাদের স্কুলে পরিচালন কমিটির মিটিংয়ে সতর্ক করার পরও কোনও সংশোধন হয়নি। এই অবস্থায় স্কুলের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে জেলাশাসক, পুলিস সুপার, স্কুল পরিদর্শক সহ প্রত্যেকের শরণাপন্ন হয়েছি।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) বলেন, অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। আমরা বিষয়টি ভীষণ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এধরনের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ