নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ঘন কুয়াশার দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হল মুর্শিদাবাদ জেলায়। বুধবার ভোর থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল পথঘাট। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে গিয়ে রোদ ওঠে। বেলা দশটা পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দৃশ্যমানতা কম থাকায় রাস্তায় সকালের দিকে যান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি নৌ পরিবহণেও সমস্যা দেখা দেয়। সকালের দিকে বাজারহাটেও লোকজন ছিল বেশ কম। বহরমপুর, ডোমকল, কান্দি, লালবাগ ও জঙ্গিপুর মহকুমার সর্বত্রই কুয়াশার দাপট ছিল। বেশ কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের থেকে দেরিতে ছেড়েছে। সকালের হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস এবং ধনধান্যে এক্সপ্রেস কুড়ি মিনিট দেরিতে চলে। জেলার বিভিন্ন রুটের বেশ কিছু সরকারি বাসও নির্ধারিত সময়ের পরে ছেড়েছে। এদিন ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে ভোর থেকে তুলনামূলক কম গাড়ি যাতায়াত করেছে। যান চলাচলের প্রভাব পড়ে রাজ্য সড়কগুলিতেও। সেখানেও অন্যান্য দিনের তুলনায় এ দিন সকালে অল্প সংখ্যক গাড়ি যাতায়াত করেছে। বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বোঝাই করার ট্রাক কুয়াশার জন্য রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। বেলা বাড়লে তারা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বহরমপুর জলঙ্গি রাজ্য সড়কে বেলা বাড়তেই গাড়ির ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ফরাক্কা-হলদিয়া বাদশাহী সড়কেও এদিন একটু বেলার পর থেকে গাড়ি চলাচল শুরু হয়। টোটো চালক রমেশ মণ্ডল বলেন, এত কুয়াশা এর আগে দেখিনি। সকাল হয়েছে তো বুঝতেই পারিনি। তিন-চার হাত দূরের কিছুই কিছু দেখা যাচ্ছিল না। টোটো চালাতে খুব সমস্যা হয়েছে। লালবাগ স্টেশনের এক যাত্রী রত্না হালদার বলেন, হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস কুড়ি মিনিটের বেশি দেরিতে এসেছে। সকালে এত কুয়াশায় রাস্তাঘাট পুরো ভিজে ছিল। স্কুটি চালিয়ে আসতে খুব সমস্যা হয়েছে। বহরমপুরের রাধারঘাটের এক মাঝি মামুন শেখ বলেন, ভাগীরথীতে নৌকা পারাপারের সমস্যা হয়েছে। সকালের দিকে চার-পাঁচ ঘণ্টা আমরা অপেক্ষা করে করে নৌকা ছেড়েছি। একটি নৌকা এলে তবেই উল্টো দিকে আর একটি নৌকা গিয়েছে।



