Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের রূপায়ণে জমি দিতে এগিয়ে এলেন জমির মালিকরা

সোমবার থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য জমির মালিকদের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া শুরু হয়েছে

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের রূপায়ণে জমি দিতে এগিয়ে এলেন জমির মালিকরা
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়িত করতে জমি দিতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এগিয়ে এলেন জমির মালিকরা। মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ করতে জমির মালিকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ দেখে অভিভূত আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা। সোমবার থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য জমির মালিকদের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া শুরু হয়েছে। ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস বলেন, এদিন ঘাটাল শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জমির মালিকদের সঙ্গে বসা হয়েছিল। জমির মালিকদের অনেকেই জমি দেওয়ার জন্য নিজেরাই এগিয়ে এসেছেন। এলাকার বাসিন্দাদের এই সদর্থক মনোভাব দেখে বেশ ভালো লেগেছে। 

Advertisement

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি আশিস হুদাইত বলেন, কিছু মানুষ জমি নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিলেন। এদিন আমরা জমির মালিকদের সম্মতি নেওয়ার জন্য স্পটে গিয়েছিলাম। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়েছি। এদিন বহু মানুষ সম্মতিপত্র স্বাক্ষরও করেছেন।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অঙ্গ হিসেবে শিলাবতী নদী সংলগ্ন এলাকায় দু’টি পাম্প হাউস বসানোর কথা রয়েছে। তার মধ্যে ঘাটাল শহরের ১৭ ওয়ার্ড গোবিন্দপুরে, অন্যটি শহরের ৯ নম্বর  ওয়ার্ডের শ্রীরামপুরে। শ্রীরামপুরে পাম্প হাউস বসানোর জন্য প্রায় দু’একর জমির প্রয়োজন। এদিন জমির মালিকদের সামনা-সামনি উপস্থিত হয়ে তাঁদের সম্মতি নেওয়ার কথা ছিল। সেদিন শ্রীরামপুরে মহকুমা শাসক, আশিসবাবু, ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা, ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহকারী সভাপতি তথা ঘাটাল ব্লক সভাপতি দিলীপকুমার মাজি প্রমুখ গিয়েছিলেন। মহকুমা  শাসক বলেন, প্রায়  দু’একর জমির মধ্যে ১২১ জন রায়ত ছিলেন। তারমধ্যে এদিন ৪০ জনকে ডাকা হয়েছিল। ১৪ জন সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। বাকিদের স্বাক্ষর করার জন্য কাগজপত্র কাউন্সিলারকে দিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদেরও সম্মতিপত্র খুব শীঘ্রই পাওয়া যাবে বলে প্রশাসন আশা করছে।
আশিসবাবু বলেন, জমির মালিকদের নিয়মমাফিক টাকা দিয়েই জমি কেনা হবে। জমি, বাড়ি ও দোকানের মূল্য নির্ধারণ করবে প্রশাসনই। শ্রীরামপুরে ওই পাম্প বসানোর জায়গাতে কয়েকটি দোকান রয়েছে। পাম্প হাউস হলে দোকানগুলিও সরাতে হবে। এনিয়ে পুরসভাকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করতে বলা হয়েছে। 
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবেই ঘাটাল শহরের মূল বাজার এলাকায় কৃষ্ণনগর, শ্রীরামপুর ও গম্ভীরনগর-নিশ্চিন্দিপুর মৌজায় প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ উঁচু প্রাচীর তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারজন্য শহরে মূল বাজার এলাকাতে নদী থেকে ৬০ ফুট এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য বাড়ি সরিয়ে দিতে হবে। আশিসবাবু বলেন, আমরা প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দেখছি ঘাটার মাস্টার প্ল্যানের জমির মালিকরা জমি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি কিছু মানুষ জমি না দেওয়ার জন্য মানুষকে উস্কে দিচ্ছেন। সেটা কোনওভাবেই বাস্তবায়িত হবে না। কারণ ঘাটাল মহকুমার মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চাওয়ার জন্য এগিয়ে আসছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ