সংবাদদাতা, ঘাটাল: ওসিদের হাত-পা ভেঙে ল্যাঙড়া করে দেওয়ার হুমকি দিলেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। শনিবার রাতে ঘাটাল বিধানসভার সুলতানপুরে বিজেপির পরিবর্তন সভা থেকে প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শারীরিক আক্রমণের হুমকি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সুলতানপুরে দলের পরিবর্তন সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন শীতলবাবুই। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে সরাসরি প্রশাসনিক আধিকারিকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে কোনও ওসি, বিডিও, এসডিও থাকবে না। কোনও সরকারি কর্মী বা আধিকারিক থাকবে না। এমনকী পিকেও থাকবে না। সমস্ত ওসির একটা হাত একটা পা ভেঙে দেওয়া হবে। ল্যাংড়ার মতো ওরা চলতে থাকবে, বাঁচার চেষ্টা করবে। ফলে তৃণমূলকে ওরা বাঁচাতে যাবে না। বিধায়ক এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি আরও যোগ করেন যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে পুলিশের হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে, তখন পুলিশ বলবে ‘আমাদের বাঁচতে দিন’।
তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, এটা রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার চরম নিদর্শন। ক্ষমতায় আসার আগেই যারা একজন প্রশাসনিক আধিকারিকের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিতে পারে, তারা যদি সত্যি ক্ষমতায় আসে, তবে রাজ্যে কী ধরনের অরাজকতা তৈরি হবে তা সহজেই অনুমেয়। এই ভাষা শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, এটি একটি ফৌজদারি অপরাধের ইঙ্গিত। এটি প্রশাসনিক কাঠামোকে ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা। একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এই ধরনের বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের সুস্থ রাজনীতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা মনে করি, এই মন্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মানুষের কাছে এর থেকেই স্পষ্ট, বিজেপি শুধুমাত্র গুণ্ডামি আর বিশৃঙ্খলার প্রতীক।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ঘাটালের এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হুঁশিয়ারির সংস্কৃতির নির্লজ্জ নিদর্শন। বিরোধী বিধায়কের এমন খোলাখুলি হুমকি আইন-শৃঙ্খলা এবং গণতন্ত্রের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অনেকে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি বিধায়কের এই হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে দিল।
শীতলবাবু বলেন, আমার কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। বিজেপি ওসির ঠ্যাং ভেঙে দেবে একথা কখনও বলা হয়নি। আমি যেটা বলতে চেয়েছি তা হল, ২০২৬ সালের নির্বাচন এমন ভাবে হবে যার ফলে পুলিশের কোনও খবরদারি থাকবে না। পুলিশ প্রতিবন্ধী হয়ে যাবে। সেটাকেই ‘ল্যাংড়া’ শব্দ দিয়ে প্রকাশ করেছি। সরকারি আধিকারিকরাও অন্যান্য বারের মতো দাদাগিরি করতে পারবেন না। এই কথাটারই ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।