নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: তালডাংরায় পুকুর সংস্কার কাণ্ডে বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বাঁকুড়া জেলা পরিষদের। তালডাংরার হাড়মাসড়া গ্রামে এক জলাশয়ের নামে অর্থ বরাদ্দ করে অন্য পুকুর সংস্কারের অভিযোগ তুলে আগেই বাসিন্দারা সরব হয়েছিলেন। এবার সেই পুকুরে তৈরি স্নানের ঘাটও ধসে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। শনিবার ঠিকাদার সংস্থার লোকজনকে কোদাল, গাঁইতি নিয়ে ওই ধসে পড়া ঘাটের ভগ্নাবশেষ পরিষ্কার করতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, পুকুর সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। স্নানের ঘাট ভেঙে পড়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) রোহন লক্ষ্মীকান্ত যোশী কিছু বলতে চাননি। তবে জেলা পরিষদের অপর এক আধিকারিক বলেন, হাড়মাসড়ায় পুকুর সংস্কার নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করার জন্য ডিস্ট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারকে পেমেন্ট দিতেও নিষেধ করা হয়েছে। তারপরেও কেনও কাজ চালু রাখা হয়েছে, তা আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।
হাড়মাসড়া গ্রামে শেখপুকুর নামে একটি বড় জলাশয় সংস্কার করার কথা ছিল। সেইমতো পঞ্চদশ অর্থ কমিশন থেকে জেলা পরিষদের তরফে ১৫ লক্ষ ৪৮হাজার ১৩১ টাকা বরাদ্দ করা হয়। পুকুর খননের পাশাপাশি সৌন্দর্যায়ন, আলো লাগানো সহ অন্যান্য কাজও হওয়ার কথা রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ওই জলাশয়ের পরিবর্তে গ্রামেরই খান ডোবা বলে পরিচিত ছোট একটি পুকুর মেশিনের সাহায্যে খনন করেছেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এক-দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে ওই ডোবা কাটানো হয়েছে। কারণ সেটি কয়েকবছর আগেই ১০০দিনের কাজে সংস্কার করা হয়েছিল। ফলে সামান্য মাটি কেটেই দায়সারা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রথম জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু, কাজ বন্ধ রাখার পরিবর্তে বর্তমানে ওই ঠিকাদার ডোবায় স্নানের ঘাট ও অন্যান্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দ্রুত কাজ শেষ করে ‘ঝামেলা’ থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইছেন বলেও বাসিন্দারা মনে করছেন। শেখপুকুর সংস্কার হলে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার চাষিরা সেখান থেকে সেচের জল পেতেন। তা না হওয়ায় কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এব্যাপারে ‘দিদিকে বলো’য় অভিযোগ জানিয়েছেন। ৪০০জন চাষির সই সম্বলিত অভিযোগপত্র তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়ারও উদ্যোগ নিয়েছেন। হাড়মাসড়া গ্রামের বাসিন্দা এক তৃণমূল নেতা বলেন, তালডাংরায় দলের হেভিওয়েট এক নেতা পুকুর সংস্কারের বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে চার লক্ষ টাকা কাটমানি নিয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ওই নেতার চাপেই জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ খান ডোবার কাজ বন্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ঠিকাদার সংস্থাও নামমাত্র কাজ সেরে পাততাড়ি গুটিয়ে নিতে চাইছে। তড়িঘড়ি করে কাজ করতে গিয়েই খান ডোবায় নবনির্মিত স্নানের ঘাট ধসে পড়েছে বলে আমরা মনে করছি। পুরো বিষয়টি দলকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার বিল্টু ঘোষ বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন। জেলা পরিষদের নির্দেশমতো আমি পুকুর সংস্কারের কাজ করেছি।