সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ভৌগলিক অবস্থানগত কারণেই শিলিগুড়িকে টার্গেট করছে বাইরের দুষ্কৃতীরা। একাধিক আন্তঃরাজ্য সীমানা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘিরে রেখেছে শিলিগুড়িকে। এতে বাইরে থেকে এসে দুষ্কৃতীরা অপরাধ করে করে সহজে গা ঢাকা দিতে পারে। শহরে একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় এই দিকটি ফের সামনে এসেছে।
সবদিক দিয়ে শিলিগুড়ি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নিরাপত্তা জোরদার করতে এবার শিলিগুড়িকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর ঘোষণার দাবি জানাতে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রস্তাব পাঠাবেন মেয়র গৌতম দেব। শনিবার শিলিগুড়ি পুরসভার টক টু মেয়র ফোন ইন লাইভ অনুষ্ঠানে ২২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে অরিজিত দাশগুপ্ত শহরে একের পর এক চুরি-ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তার প্রশ্নে পুলিসের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শিলিগুড়িতে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা একা রাজ্য পুলিসের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করেন মেয়র। তিনি বলেন, শিলিগুড়ির গা ঘেঁষে রয়েছে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ সীমান্ত। শিলিগুড়ি থেকে নেপালে পালিয়ে যাওয়া খুবই সহজ। বিহার সীমানাও শিলিগুড়ির গা ঘেঁষে রয়েছে।
তাঁর মতে, প্রতিদিন এই শহরে বাইরে থেকে আড়াই-তিন লক্ষ মানুষ আসেন। এই প্রেক্ষাপটে বাইরে থেকে অপরাধীরা শিলিগুড়িতে ডেরা বেঁধে অপরাধ সংঘটিত করছে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে শিলিগুড়িতে নিরাপত্তার সবকিছু নজরদারি রাখা একা রাজ্যের পক্ষে সম্ভব নয়। শিলিগুড়ি সবদিক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যা দেশের জন্যও বিপজ্জনক। এখানে একাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনীর দপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে। কেন্দ্রের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এখানে কাজ করছে। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের আরও নিবিড়ভাবে নজরদারি রাখতে হবে। রাজ্য ও কেন্দ্রকে যৌথভাবে শিলিগুড়ির নিরাপত্তার দিকটি দেখতে হবে। ভালোমতো সেই কাজ করার জন্য শিলিগুড়িকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর ও হিসেবে ঘোষণার সময় এসেছে।
দেশের নিরাপত্তার জন্য শিলিগুড়ি শহরকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার ব্যাপারে কেন্দ্রের সরকারের ভাবা উচিত বলে মনে করেন মেয়র। তিনি বলেন, একারণেই আরও অনেক কিছু বিষয় উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীকে আলাদা করে রিপোর্ট পাঠাব। যাতে কেন্দ্রের কাছে বিষয়টি রেখে শিলিগুড়িকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর ঘোষণার উদ্যোগ
শুরু হয়।