


তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: প্রচারে বেরিয়ে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী তথা শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের নাম মুখে আনবেন না শংকর ঘোষ। বরং এবারের নির্বাচনের প্রচারে নীতি ও আগামীতে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় না এলে কী কী ক্ষতি সাধারণ মানুষের হতে পারে তাই দোরে দোরে গিয়ে জানাবেন বিজেপি বিধায়ক। বৃহস্পতিবার এমনভাবেই নিজের প্রচারের মূল দিক কী হবে তা জানালেন শংকরবাবু। যদিও তাঁর এই দাবিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতমবাবুর দাবি, তাঁকে অনুসরণ করছেন বিজেপি বিধায়ক। তিনি বলেন, ও জুনিয়র ছেলে। অনেকদিন আগে আমিই বলেছিলাম, যে আমার প্রচারে শংকরের নাম থাকবে না। ও এখন আমাকেই অনুসরণ করছে দেখে ভালো লাগল। শংকরবাবু বলেন, এবারে প্রচারে আমি মেয়রের নাম মুখেই আনব না। আমার প্রচারের মূল কথায় থাকবে সাধারণ মানুষের অধিকার, নারী সুরক্ষা এবং দেশবাসী হিসাবে প্রথম শ্রেণির নাগরিক হওয়ার অধিকার।
উল্লেখ্য, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রীতিমতো সম্মুখ সমরে নেমেছেন বর্তমান বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ ও শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। শিলিগুড়ির মেয়র বিগত দিনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে বিধায়ক হয়ে পরপর দু’বার জয়ী হয়ে রাজ্যে মন্ত্রীও হয়েছিলেন। তবে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সেই আসন থেকে হেরে গিয়ে শিলিগুড়ি আসনে এবারে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শঙ্কর ঘোষ। তিনি ২০২১ সালে রীতিমতো শহরে প্রায় একতরফা লড়াই করে তৃণমূল ও সিপিএম প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়ে বিধায়ক হয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে দলের একাধিক পদ সামলেছেন। রাজ্যস্তরের নেতা হিসাবে এখন তাঁর গ্রহণযোগ্যতা অনস্বীকার্য। এমন অবস্থায় দুই নেতার মধ্যে রীতিমতো উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের দিকে তাকিয়ে আছে শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহল। তবে শুরুটা খুব একটা জমকালো হয়নি। দু’পক্ষেই একে অপরের বিরুদ্ধে কথা খরচ করতে কিপটেমি করছেন। তার বদলে একদিকে, গত পাঁচ বছরে শহরবাসীর জন্য কোনো কাজ করেনি বলে অভিযোগ তুলে প্রচারে যাচ্ছেন গৌতম দেব। ঠিক তেমনই শংকর পাল্টা নাম না নিয়ে গৌতমকে খোঁচা দিয়ে দাবি করছেন, শহরের বাসিন্দাদের জন্য কোনো উন্নয়নের কাজ মানুষের চোখেই পড়ে না। তাই সাধারণ মানুষ ভোটবাক্সে তার জবাব দেবে।