সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: মানবিকতার সঙ্গে আইনের দ্বন্দ্ব। শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র ও কমিশনারের ঠান্ডা লড়াইয়ে ক্রমশ উত্তাপ ছড়াচ্ছে। পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রেলের অব্যবহৃত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারীদের হোল্ডিং নম্বর পুরসভা থেকে দেওয়া হবে। বোর্ড মিটিংয়ে অনুমোদিত সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করছেন না কমিশনার শেরিং ওয়াই ভুটিয়া।
শনিবার পুরসভার ‘টক টু মেয়র’ ফোন-ইন লাইভ অনুষ্ঠানে এনিয়ে কমিশনারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মেয়র গৌতম দেব। এদিনের অনুষ্ঠানে রেলের জমিতে বসবাসকারী বেশ কয়েকজন নাগরিক হোল্ডিং নম্বরের জন্য মেয়রের কাছে আবেদন জানান। তার জবাবে কমিশনারের বিরুদ্ধে বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত না মানার অভিযোগ এনে গোটা বিষয়টি তিনি প্রকাশ করেন। মেয়র বলেন, মানবিকতার কারণে আমরা রেলের অব্যবহৃত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারীদের হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হোল্ডিং নম্বর না থাকার কারণে ওই বাসিন্দারা জলের লাইন, বিদ্যুতের সংযোগ, ট্রেড লাইসেন্স কিছুই করতে পারছেন না। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও উপার্জনের ক্ষেত্রে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বোর্ড মিটিংয়ে রেলের অব্যবহৃত জমিতে হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কমিশনার আইনের দিকটিকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করছেন না। তাঁকে এও বলা হয়েছে, বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মেয়রের নির্দেশে কার্যকর করা হচ্ছে, নোট দিয়ে আপনি হোল্ডিং নম্বর দেওয়া শুরু করুন। তাতেও কাজ হয়নি। এবার নবান্নে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তার কাছে বিষয়টি জানাতে হবে।
কমিশনার বলেন, মানবিকতার খাতিরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত অমান্য করার প্রশ্ন নেই। কিন্তু আইনের দিকটিও দেখতে হবে। রেলের জমি মানে সরকারি জমিতে আমরা কাউকে এভাবে স্বীকৃতি দিতে পারি কি না সেটাও ভাবতে হবে। হোল্ডিং নম্বর দেওয়া হলে এর অপব্যবহার হতে পারে। এরমধ্যে দিয়ে সরকারি জমি দখলে উৎসাহ দেওয়ার দিকটিও চলে আসে। মেয়রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনের কাছে জানানো হবে।