দেবারতি ভট্টাচার্য, মুম্বই: এই ছবিতে আপনার সহঅভিনেতা দশজন বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ। ওদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
দেবারতি ভট্টাচার্য, মুম্বই: এই ছবিতে আপনার সহঅভিনেতা দশজন বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ। ওদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
প্রায় ৩৫ বছর ধরে আমি এই ছবির দুনিয়ায় রয়েছি। এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। ওরা যখন শ্যুটিংয়ে আসত, ওদের প্রাণশক্তি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ত। ওরা আমাদের উন্নত মানুষ করে তুলেছিল।
‘সিতারে জমিন পর’ পরিচালনার কথা ভাবেননি?
না, একেবারেই ভাবিনি। মনেপ্রাণে এখনও আমি একজন অভিনেতা। পরিচালক হিসেবে যখন পুরোদস্তুর কাজ শুরু করব, তখন হয়তো আর অভিনয় করব না। পরিচালনার স্বাদ একবার পেলে তখন অভিনয়ের স্বাদ ফিকে লাগবে হয়তো (হাসি)। দু-তিন বছর পর হয়তো পরিচালনা শুরু করব।
শিশুদের জন্য কম ছবি তৈরি করা হয়। এর কারণ কী?
হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি শিশুদের জন্য সত্যিই খুব কম ছবি তৈরি করে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার মনে হয়, নির্মাতারা মনে করেন, শিশুদের ছবির বাজার নেই। ভারতীয় শিশুদের এখন পাশ্চাত্য ছবি বেশি দেখানো হয়। সেখানেও বদল জরুরি। আমি বাচ্চাদের জন্য এমন ছবি তৈরি করতে চাই, যা ওদের সংবেদনশীল করে তুলবে।
বিনোদন দুনিয়ার ভবিষ্যৎ কি ওটিটি?
আগামী দিনে কি হবে তা আমার জানা নেই। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে, আমি সিনেমার প্রতি অত্যন্ত অনুগত। আজ আমি যে জায়গায় পৌঁছেছি, তা সিনেমা এবং থিয়েটারের কারণেই। ওটিটি ভালো প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু আমার কাছে সিনেমা প্রথমে থাকবে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সিনেমার জন্য লড়াই করব।
গৌরীর সঙ্গে সম্পর্ক আপনাকে কতটা বদলে দিয়েছে?
আমার মতে একটা মানুষের প্রভাব অন্য মানুষের উপর পড়ে। গৌরী খুবই শান্ত। ও সবকিছুর মধ্যে ব্যালেন্স রেখে চলে। আমি পুরোপুরি ওর বিপরীত। টানা ৩৬ ঘণ্টা কাজ করি, আবার টানা ৩৬ ঘণ্টা ঘুমোই। আমি নিজের দুনিয়ায় মগ্ন থাকি। আমরা একে অপরের থেকে একদমই আলাদা। আমার মনে হয় তাই আমরা একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি। গৌরী আমার জীবনে স্থিরতা আর শান্তি নিয়ে এসেছে। আর আমার বিশ্বাস আমি ওর জীবনে উত্তেজনা নিয়ে এসেছি (সশব্দে হেসে)।
‘লাল সিং চাড্ডা’র ফ্লপ হওয়া নাকি আপনি আজও মেনে নিতে পারেননি?
সত্যিই মেনে নিতে পারিনি। আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। তার আগে ‘ঠগস অব হিন্দোস্তান’ও ফ্লপ করেছিল। কিন্তু আমি জানতাম ছবিটা ফ্লপ করবে। আমি ভিক্টর (পরিচালক) আর আদিকে (আদিত্য চোপড়া) বলেছিলাম ছবিটা ঠিক ভাবে তৈরি করা হয়নি। কিন্তু ওরা আমার কথা শোনেনি। ওদের মনে হয়েছিল আমির ছবিটা বিগড়ে দেবে। সেসময় পরিবার আমার পাশে ছিল। ছেলে, মেয়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। ওরাই আমার মন ভালো করতে সাহায্য করেছিল। আমার তো মনে হয়েছিল, ছবি হিট হওয়ার দরকার নেই, ফ্লপ করুক। তাহলে পরিবারের এত আদর পাব (হাসি)।