সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: শুক্রবার থেকে নবদ্বীপের ধামেশ্বর মহাপ্রভু মন্দিরে গৌরাঙ্গের ঝুলনযাত্রা উৎসব শুরু হল। প্রতিপদ থেকে শুরু হয়ে ঝুলন পূর্ণিমা অবধি এক পক্ষকাল এই উৎসব চলবে। রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। সেকারণে শ্রীকৃষ্ণের ঝুলনযাত্রার আগেই এই মন্দিরে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ঝুলন শুরু হয়।
শুক্রবার থেকে ঝুলন পূর্ণিমা পর্যন্ত গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে রুপোর সিংহাসনে দোলানো হবে। পূর্ণিমার দিন সোনার বিভিন্ন সাজে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে সাজানো হবে। সোনার নানারকম হার, হাতে রাজদণ্ড, বাজুবন্ধ, পায়ে নুপূর, মাথায় মুকুট-অর্থাৎ পাঁচরকম স্বর্ণালঙ্কার পরানো হবে। ৫আগস্ট একাদশী থেকে শুরু হবে শ্রীকৃষ্ণের ঝুলনযাত্রা।
সেদিন থেকে ৯আগস্ট ঝুলন পূর্ণিমা অবধি মহাপ্রভুকে পাঁচদিন নতুন পোশাক পরানো হবে। একাদশীতে নটবর বেশ, দ্বাদশীতে রাজ নটবর, ত্রয়োদশীতে নাগরী ও চতুর্দশীর দিন রাখাল বেশ পরানো হবে। সেদিন হাতে দেওয়া হবে রুপোর বাঁশি। আর পূর্ণিমার দিন পরানো হবে রাজবেশ। এই পাঁচদিনই ৭০-৮০ভরির গয়না ও ফুলের সাজে মহাপ্রভুকে সাজানো হবে। পাঁচদিন ধরে ঝুলনলীলা কীর্তন, ভাগবতপাঠ, অষ্টপ্রহর নামসংকীর্তন ও ঝুলন গান হবে। ঝুলন উৎসবের প্রতিদিন এক-এক পদের ভোগ দেওয়া হয়। ঝুলনপূর্ণিমার সন্ধ্যায় লুচি, মালপোয়া, ছানার বড়া, ক্ষীর, রাবড়ি ভোগ দেওয়া হবে। নবদ্বীপ বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সভাপতি সুদিনকুমার গোস্বামী বলেন, আমাদের ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মন্দিরে ১৫দিনের ঝুলনযাত্রা হয়। উৎসব দেখতে বহু জায়গা থেকে ভক্তরা আসেন। বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির কোষাধ্যক্ষ তথা অন্যতম সেবায়েত প্রদীপকুমার গোস্বামী বলেন, আমরা এই ঝুলন উৎসবকে হিন্দোল যাত্রা বলে থাকি। বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সম্পাদক জয়ন্তকুমার গোস্বামী বলেন, শুক্রবার থেকে মহাপ্রভুর ঝুলনযাত্রা শুরু হয়েছে। ঝুলন পূর্ণিমা অবধি এই উৎসব ঘিরে আনন্দঘন পরিবেশ থাকে। এদিকে, রাধাকৃষ্ণের ঝুলন উপলক্ষ্যে রাধা মদনমোহন মন্দির, গানতলার বলদেব জিউ মন্দির, সমাজবাড়ি, গোবিন্দ জিউ মন্দির, শ্রীবাস অঙ্গন, জন্মস্থান মন্দির, রাধা মদনগোপাল মন্দির, শ্যামসুন্দর মন্দির, কানাই বলাই মন্দির, রাধাবাজারের পুরীর মন্দির সাজিয়ে তোলা হবে।