Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বছরভর দেবতা জ্ঞানে পূজিত ষষ্ঠীতে জামাই আদর পান গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু

আজ, রবিবার জামাইষষ্ঠী। বছরভর দেবতা জ্ঞানে পূজিত হলেও জামাইষষ্ঠীতে জামাই আদর পান গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু

বছরভর দেবতা জ্ঞানে পূজিত ষষ্ঠীতে জামাই আদর পান গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু
  • ১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমীর সাহা, নবদ্বীপ: আজ, রবিবার জামাইষষ্ঠী। বছরভর দেবতা জ্ঞানে পূজিত হলেও জামাইষষ্ঠীতে জামাই আদর পান গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। আজকের এই দিনে অর্থাৎ ষষ্ঠীর সকাল থেকে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু হলেন বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর পরিবারের ‘ঘরের জামাই’। এই ভাবনা থেকেই এদিন প্রাণের গৌরকে জামাই আদরে আপ্যায়ন করা হয়। গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সহধর্মিণী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর পিতা সনাতন মিশ্রের বংশধররা পরম্পরা মেনে ষষ্ঠীর সকাল থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করেন। 

Advertisement

এদিন সকালে মঙ্গলারতির পর শৃঙ্গার করে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে সাজানো হবে জামাই বেশে। পরানো হবে গরদের জোর, চিকনের পাঞ্জাবি, পীতবর্ণের উত্তরীয়। আর মাথায় পরানো হবে পাগড়ি। গলায় জুঁই, বেল, গোলাপ, রজনীগন্ধা সহ বিভিন্ন ফুলের মালা ও হাতে ফুলের বালা পরানো হবে। এছাড়া চন্দন ও আতর মাখিয়ে দেওয়া হয় প্রভুর অঙ্গে। এদিন সকালে বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর পরিবারের মায়েরা পরম্পরা মেনে একে একে ধান, দূর্বা, হরিদ্রা, আম, খেজুর, বাঁশ পাতা দিয়ে তালপাতার পাখা দিয়ে বাতাস করেন গৌরাঙ্গপ্রভুকে। এরপর নিষ্ঠা সহকারে গঙ্গাজল দিয়ে শুরু হয় রান্নার প্রস্তুতি। কাঠের উনুন জ্বালিয়ে একে একে রান্না করা হয় কচুর শাক, শুক্তো, পাঁচ রকম ভাজা, ডাল, পটল পোস্ত, আলু ফুলকপি রসা, পনিরের রসা, মোচার ঘণ্ট, পুষ্পান্ন, বেগুনি, ছানার রসা, চাটনি পরমান্ন প্রভৃতি। ভোগের জন্য আনা হয় লাল ক্ষীর দই, রসগোল্লা, সন্দেশ আরও হরেকরকম মিষ্টি। তাঁর নির্দিষ্ট রুপোর থালা, গ্লাস, বাটিতে সাজিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। 
ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু মন্দিরের অন্যতম সেবাইত তথা বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সভাপতি সুদিন গোস্বামী বলেন, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আমাদের ঘরের জামাই। আজ সারা বিশ্বের কাছে তিনি চৈতন্যদেব। ভগবানকে জাগতিক নিয়মের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন কুলাচার মেনে  জামাই রূপে বরণ করে নেওয়ার রীতি, এক বড় বিস্ময়। সারাবছর যাকে ভগবান রূপে পুজো করা হয় তিনিই আজ ঘরের জামাই রূপে পূজিত হন। এটাই আত্মবৎ সেবা। 
ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু মন্দিরের অন্যতম সেবাইত রূপ গোস্বামী বলেন, এই জামাইষষ্ঠী প্রথা আমাদের বংশানুক্রমে চলে আসছে। আমরাও সেই প্রথা মেনে আজ মহাপ্রভুকে সেবা নিবেদন করি। বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির কোষাধ্যক্ষ তথা অন্যতম সেবাইত প্রদীপকুমার গোস্বামী বলেন, বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী তাঁর ভাই যাদবাচার্যের ছেলে মাধবাচার্যকে পোষ্য নিয়েছিলেন। সেই বংশের ১৪তম বংশধর আমরা। মহাপ্রভুকে আজ আমরা জামাইরূপে সেবা করব। শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সম্পাদক জয়ন্তকুমার গোস্বামী বলেন, এদিন সকালে গঙ্গাস্নান সেরে গর্ভ মন্দিরে গোস্বামী বংশের সদস্যরা জামাই গৌরাঙ্গকে বরণের আয়োজন করেন। জামাইষষ্ঠীর সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তরা ভিড় করেন। ভক্তদের প্রসাদ বিলি করা হয় ষষ্ঠী বন্দনায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ