নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পেট বড় বালাই! আর তাই ঝুঁকি নিয়ে সাইকেলে সার্কাস দেখান জলপাইগুড়ির রাহুত বাগানের গৌরাঙ্গ দাস। একটি সাইকেলে দাঁড়িয়ে দুই কাঁধে দু’টি এবং হাতে আরও একটি সাইকেল নিয়ে ব্যালান্সের খেলা দেখান তিনি। দর্শকদের আনন্দ দিতে মুখের ভিতর আগুন জ্বালানো থেকে চোখ দিয়ে ব্লেড তোলা কিংবা মুখে সূঁচ এফোঁড় ওঁফোড়, দিন-রাত মাটির নীচে ‘কবরে’ থাকার মতো ঝুঁকিপূর্ণ খেলা দেখান তিনি।
গত ২০ বছর ধরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি অসমে খেলা দেখিয়ে পেটের ভাত জোগাড় করছেন বছর চল্লিশের গৌরাঙ্গ। কিন্তু আগের মতো এখন তাঁর সাইকেলে সার্কাস দেখতে ভিড় হয় না। গৌরাঙ্গর আক্ষেপ, ‘নতুন প্রজন্ম মোবাইলে রিল বানাতে ব্যস্ত। এসব খেলা দেখে উৎসাহ পায় না তারা। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাইকেলের উপর অনেক কঠিন খেলা দেখিয়েও এখন আর তেমন রোজগার হয় না।’
সেকারণে সংসার খরচ জোগাড়ের পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চালাতে বাড়িতেই একটি ছোট মুদি দোকান করেছেন গৌরাঙ্গ। সংসার সামলে ওই দোকান চালান স্ত্রী শেফালি। পড়াশোনার ফাঁকে ছেলেমেয়েরাও দোকানে বসে। আগের থেকে রোজগার কমলেও গৌরাঙ্গ অবশ্য সাইকেলে সার্কাস দেখানো বন্ধ করতে নারাজ। বললেন, ‘এই খেলা শেখার নেশায় ১৫ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতায় গিয়েছিলাম। বেহালায় এক ব্যক্তির কাছে পাঁচ বছর থেকে সাইকেলে ব্যালান্সের খেলা শিখি। খেলা দেখানোর বিনিময়ে সেসময় শুধু থাকাখাওয়া মিলত। বাবা-মা ভেবেছিল, ছেলে বোধ হয় মারা গিয়েছে! কিন্তু পাঁচবছর পর যখন বাড়ি ফিরে এসে বলি, আমি কলকাতা থেকে সাইকেলে সার্কাস দেখানোর খেলা শিখে এসেছি। আর আমাদের অভাব থাকবে না। মা শুনে খুশি হয়েছিল।’
গৌরাঙ্গর ছেলে সাগর দাস। এবার মাধ্যমিক দেবে। মেয়ে সঙ্গীতা। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বাউল গান শিখছে সঙ্গীতা। গৌরাঙ্গর কথায়, ‘ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা শিখিয়ে বড় করাই আমার লক্ষ্য।’