নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: হস্টেল আছে। রয়েছে নামি কোম্পানির আসবাবপত্র। ছাত্রছাত্রীদের আবেদনপত্রও জমা পড়েছে। তবুও চালু হচ্ছে না গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের দু’বছর পরেও কেন চালু হল না, প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অলিন্দেই।
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: হস্টেল আছে। রয়েছে নামি কোম্পানির আসবাবপত্র। ছাত্রছাত্রীদের আবেদনপত্রও জমা পড়েছে। তবুও চালু হচ্ছে না গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের দু’বছর পরেও কেন চালু হল না, প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অলিন্দেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক সনত্ দাস বলেন, হস্টেল চালু না হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের ভীষণই অসুবিধা হচ্ছে। পরিকাঠামো যখন আছে, কর্তৃপক্ষকে আবেদন করব যাতে দ্রুত চালু করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক কোটি টাকা খরচ করে এই হস্টেল নির্মাণ করা হয়। কেনা হয়েছে নামি কোম্পানির খাট, আলমারি, পড়ার টেবিল, ডাইনিং টেবিল সহ আরও অনেক কিছু। যা এখন পড়ে পড়ে কার্যত নষ্ট হচ্ছে। ব্যবহারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে ঘরগুলিও।
সমস্ত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কেন চালু হচ্ছে না হস্টেল? বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে ব্যবহারের জল, বিদ্যুৎ সংযোগ সবই রয়েছে। কিন্তু পানীয় জলের কোনও বন্দোবস্ত নেই। নেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। এই সামান্য কারণেই হস্টেল চালু হচ্ছে না বলে দাবি একাংশের। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি অংশের দাবি, আসলে কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবেই আজও চালু হল না।
উপাচার্য আশিষ ভট্টাচার্যকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। তাঁকে মেসেজ করলেও উত্তর দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে স্নাতকোত্তর স্তরের ছেলেমেয়েদের জন্য। এখানে গবেষক ছাত্রছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থাও আছে। দেড়শো জন করে ছাত্র এবং ছাত্রী মিলিয়ে তিনশো পড়ুয়া থাকতে পারবেন। টিএমসিপির মালদহ জেলা সভাপতি প্রসূন ঘোষ বলেন, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে দ্রুত হস্টেল চালু করা হোক।
জানা গিয়েছে, অব্যবহৃত এই হস্টেলে একটি ক্যান্টিন খোলা হয়। কিন্তু যে হস্টেলে ছাত্রছাত্রীই নেই, ক্যান্টিনে খাবে কে? অগত্যা ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দশ বছরের বেশি আগে এই হস্টেলের নির্মাণ শুরু হয়। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী একটি ভার্চুয়াল সভা থেকে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলের উদ্বোধন করেন।
অধ্যাপক শান্তি ছেত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য থাকাকালীন হস্টেলের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। কিন্তু তিনিও চালু করতে পারেননি। এরপর অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক রজত কিশোর দে এবং পবিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আমলেও তা চালু হয়নি। বর্তমান স্থায়ী উপাচার্যের যোগ দেওয়ার দু’মাস হয়ে গিয়েছে। কবে চালু হবে, সেদিকেই তাকিয়ে ছাত্রছাত্রীরা। • নিজস্ব চিত্র।