Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চারিদিকে ছড়িয়ে আবর্জনা, রাস্তায় নোংরা জল পুরুলিয়া মেডিকেলে চরম অব্যবস্থা, ক্ষোভ

মূল প্রবেশপথ দিয়ে ভিতরে ঢুকলেই নজরে পড়বে স্বচ্ছতার বার্তা।

চারিদিকে ছড়িয়ে আবর্জনা, রাস্তায় নোংরা জল পুরুলিয়া মেডিকেলে চরম অব্যবস্থা, ক্ষোভ
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: মূল প্রবেশপথ দিয়ে ভিতরে ঢুকলেই নজরে পড়বে স্বচ্ছতার বার্তা। সেখান থেকে কয়েক পা এগিয়ে গেলেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নোংরা-আবর্জনা। রাস্তার উপর দিয়ে বয়ে চলেছে নিকাশি নালার নোংরা জল। এখানেই শেষ নয়, বহুতল ভবনের একাধিক কার্নিশেও নোংরার স্তূপ। পুরুলিয়ার দেবেন মাহাত গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাসের এই অবস্থা। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ রোগীর পরিজনরা কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, স্বচ্ছতার বার্তা টাঙিয়ে লোকদেখানো প্রচারের ফাঁকে হাসপাতাল চত্বরের পরিবেশ ক্রমেই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জেরেই এই অব্যবস্থা। রোগীর পরিবারের সদস্যদের একাংশের আশঙ্কা, দিনের পর দিন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ কার্যত মেনে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে এমএসভিপি সুকমল বিষয়ী বলেন, নিকাশি ব্যবস্থা বহু পুরনো। ফলে বেশকিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেসব দ্রুত সংস্কার করা হবে। গোটা হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে পুরুলিয়া জেলার সদর শহরে অবস্থিত এই হাসপাতাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাসে প্রতিদিনই বহু রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আনাগোনা হয়। চিকিৎসাধীন রোগীর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল চত্বরেই রাত কাটান। অভিযোগ, মাথার উপর ছাউনি থাকলেও চারপাশ নোংরা-আবর্জনায় ভরা। ফলে মশা ও মাছির উপদ্রব লেগেই রয়েছে। সেইসঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। রোগীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, কর্তৃপক্ষ সাফাইয়ের দিকে কোনও নজর দেয় না। তার জেরেই প্রায় প্রতিটি বিল্ডিংয়ের কার্নিশেই নোংরার স্তূপ জমতে শুরু করেছে। এছাড়াও শিশু বিভাগের পাশের দিয়ে ক্যান্টিন যাওয়ার পথে নোংরা জল বয়ে চলেছে। নোংরা জল পেরিয়েই ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বলরামপুরের বাসিন্দা মঙ্গল সোরেন তাঁর মেয়ের চিকিৎসা করাতে এসেছেন। গত তিনদিন ধরে তিনি হাসপাতাল চত্বরেই থাকছেন। তিনি বলেন, ক্যান্টিনে খাবার খেতে যেতে হলে নোংরা জল পেরিয়ে চলাফেরা করতে হয়। এছাড়াও গোটা হাসপাতাল চত্বরই নোংরা আবর্জনায় ভরা। মশা ও মাছির উপদ্রবে রাতে ঘুমানো যায় না। দুর্গন্ধে টেকা দায়। এহেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিজে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। বান্দোয়ানের বাসিন্দা সুকুমার সিংয়ের ছেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুকুমারবাবু বলেন, হাসপাতাল চত্বর অত্যন্ত নোংরা। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ