নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: পাটনার হাসপাতালে বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্র ওরফে চন্দন সিং পুরুলিয়া, রানাঘাট সহ এই রাজ্যে একাধিক জুয়েলারি ও স্বর্ণঋনদানকারী সংস্থায় ডাকাতিতে জড়িত ছিল। বিহারের আর এক গ্যাংস্টার সুবোধ সিংয়ের শিষ্য চন্দনকে গ্রেপ্তারও করেছিল রাজ্য পুলিস। ধরা পড়ে তার একসময়ের সঙ্গী বর্তমানে প্রতিপক্ষ গ্যাংয়ের সদস্য শেরু সিং। দুজনেরই নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে বাংলায়। এই ঘটনায় সুপারি কিলার হিসেবে কাজ করা তৌসিফ ওরফে বাদশা ঘটনার পর এই রাজ্যে থাকা শেরুর এক সহযোগীকে ফোন করেছিল বলে জানতে পেরেছে পাটনা পুলিস। কাকে এই ফোন তাই নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পাটনা পুলিস সূত্রে খবর, বিহারের বক্সারের গ্যাংস্টার চন্দনের নামে একসময়ে বাঘে গোরুতে জল খেত। তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ছিল শেরু সিংয়ের। সুবোধ তাদের দলে নেওয়ার পর একের পর অপারেশনে গিয়ে হাত পাকায়। সোনার দোকান বা স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থার ডাকাতিতে দক্ষ হয়ে ওঠে। এরপর চন্দন ও শেরু বেরিয়ে গিয়ে আলাদা টিম তৈরি করে বিহার ,ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। বিহার পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ এর আগাস্টে রানাঘাট ও পুরুলিয়ায় নামী সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনায় তারা হাজির ছিল। সুবোধের সঙ্গী হিসেবে রানিগঞ্জ ও খড়দহে সোনার দোকান ও স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় লুট করে। রানাঘাট ও পুরুলিয়ার ঘটনায় তাদের বিহার থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে রাজ্য পুলিস। জানা যায়, এই রাজ্যে চন্দন হাফডজন ডাকাতি করেছে। বিহারে ডাকাতি, খুন মিলিয়ে ২০টির বেশি অভিযোগ রয়েছে তার নামে। শার্প শ্যুটার হিসেবে পরিচিত ছিল। পুরুলিয়া জেলে বন্দি থাকাকালীন সেখানে বসে বিহারে পরপর কয়েকটি অপারেশন চালায়। এরপরই বিহার এসটিএফ তাকে নিয়ে যায় পাটনায়। তার ঠিকানা ছিল বেউর জেল।
বিহার এসটিএফ সূত্রে খবর, জেলে থাকাকালীন চন্দন ও শেরুর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ, শেরুর গ্যাংয়ের শার্প শ্যুটারদের দলে টানছিল চন্দন। বিহারে চলতি বছরে দুটি ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া সামগ্রীর বখরা নিয়ে ঝামেলা বাধে। তখন থেকেই শেরু তার একসময়ের বন্ধু চন্দনকে নিকেশের পরিকল্পনা করে। সেইমতো শার্প শ্যুটার হিসেবে নিয়োগ করেছিল তৌসিফকে। এই সুপারি কিলার তার দলবল নিয়ে হাসপাতালে ঢুকে ঝাঁঝরা করে দেয় চন্দনকে। বিহার পুলিস তৌসিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনেছে, শেরু ও চন্দন—দুজনের ভালো নেটওয়ার্ক রয়েছে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের সীমানা লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে। বিহারে অপরাধের পর তারা এখানে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিত এই শাগরেদদের কাছে। ঘটনার পর শেরুর নির্দেশে এখানকার এক শাগরেদকে ফোন করেছিল তৌসিফের কল ডিটেইলস থেকে প্রমাণ পেয়েছে বিহার পুলিস। এ রাজ্যের কারা চন্দন ও শেরুর শাগরেদ হিসেবে রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছে বিহার পুলিসের স্পেশাল টিম।