নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রবিবারের বৃষ্টির পর ফের হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে গঙ্গার জলস্তর। ইতিমধ্যেই তা বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। সোমবারের রিডিং বলছে, বিপদসীমার .০৮ মিটার উপর দিয়ে বইছে জলের স্রোত। ক্রমশ আতঙ্ক বাড়ছে নবদ্বীপ, শান্তিপুর, চাকদহের মতো ভাঙন প্রবণ ব্লকগুলির নদী তীরবর্তী এলাকায়।
সাধারণত গঙ্গার বিপদসীমা ধরা হয় ৮.৪৪ মিটার উচ্চতার জলস্তরকে। কিন্তু, সোমবার সকালে স্বরূপগঞ্জের রিডিং বলছে, জলস্তর উঠে গিয়েছে ৮.৫২ মিটার পর্যন্ত। গত ১২ ঘণ্টায় জলস্তর বেড়েছে। এছাড়াও, মাথাভাঙা, চুর্ণী এবং ইছামতির মতো নদীগুলিতেও ক্রমশ বাড়ছে জলস্তর। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কে রয়েছেন নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষজন। কোথাও ২০ মিলিমিটার তো কোথাও ৫৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। গড়ে নদীয়া জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৩.৫ মিলিমিটার। শান্তিপুরের হরিপুর, মাঝেরচর সহ একাধিক এলাকায় ইতিমধ্যেই ভাঙন দেখা গিয়েছে। নতুন করে জলস্তর বাড়তে শুরু করায় সেই আতঙ্ক ফের মাথাচাড়া দিয়েছে।
শান্তিপুরের বাসিন্দা কাজু বিশ্বাস বলেন, আমার চাষের জমি গত বছর কিছুটা ভেঙে তলিয়ে গিয়েছে। আবার নতুন করে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এবার তো মনে হচ্ছে ভিটেমাটিও নদী গর্ভে চলে যাবে। একই আশঙ্কা করছেন অজয় দাস। তিনি বলেন, কিছু কিছু জায়গায় বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন মেরামত করা হয়। কিন্তু জল বাড়লেই তা ধসে যায়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন আটকাতে পাকাপাকি ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু, কিছু কাজ হচ্ছে না।
গঙ্গার জল বাড়তে থাকলে নদীর তীরবর্তী এলাকা জমির ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছে নবদ্বীপ ব্লকের মানুষজনও। রবিবার রাত থেকে হঠাৎ করে জল বেড়ে যাওয়ায় নবদ্বীপ ফেরিঘাট পারাপারে বাঁশের মাচা উঁচু করতে হয়েছে। আরও বৃষ্টি হলে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এখন নৌকায় পারাপারের জন্য নবদ্বীপ, মায়াপুর এবং স্বরূপগঞ্জ ফেরিঘাটে লোহার জেটিই ভরসা। গত ক›দিনে জল বাড়ার ফলে তিনটি ঘাটেই নৌকা ও লঞ্চে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত বাঁশের মাচা ডুবে গিয়েছে। যদিও যাত্রী পারাপারের কথা ভেবে ঘাটগুলিতে বাঁশের মাচাগুলি উঁচু করছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছি। গঙ্গার জলস্তর নেমে গিয়েছিল। সোমবার সকালে তা কিছুটা বেড়েছে।