Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চূড়ান্ত বিপদসীমার কাছে গঙ্গার জলস্তর, ঘুম নেই শান্তিপুরের

শনিবারের পর রবিবারও নদীয়ায় মুষলধারে বৃষ্টিতে গঙ্গার জলস্তর চূড়ান্ত বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে। শান্তিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কিত এবং বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দিন গুনছেন।

চূড়ান্ত বিপদসীমার কাছে গঙ্গার জলস্তর, ঘুম নেই শান্তিপুরের
  • ১১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: শনিবারের পর রবিবারও নদীয়ায় মুষলধারে বৃষ্টিতে গঙ্গার জলস্তর চূড়ান্ত বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে। শান্তিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কিত এবং বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দিন গুনছেন। তবে বিপদ মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসনও। গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ৮.৪৪ মিটার ছাড়িয়েছে বহু আগেই। বর্তমানে প্রায় তার জলস্তর ৯ মিটার। ৯.০৫ মিটারকে ধরা হয় চূড়ান্ত বিপদসীমা হিসেবে। ফলে সহজেই অনুমেয়, গঙ্গা সংলগ্ন এলাকার মানুষজনের বিনিদ্র রজনী কাটছে গত কয়েকদিন। বিপদের আশঙ্কায় শান্তিপুর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কালনা ঘাট, গুপ্তিপাড়ার ফেরি চলাচল। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয় বলেই জানা গিয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। প্রতিদিন শান্তিপুর থেকে গঙ্গা পার করে হুগলি অথবা বর্ধমানের কর্মক্ষেত্রে যান হাজার হাজার মানুষ। এখন তাঁদের একমাত্র ভরসা নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ সেতু অথবা কল্যাণীর ঈশ্বর গুপ্ত সেতু। ফলে বহু কিলোমিটার বাড়তি ঘুরে কাজে যেতে হচ্ছে তাঁদের। যেমন পম্পা সরকার সুদুর শিমুরালি থেকে শান্তিপুরে এসে জানতে পারেন, বন্ধ কালনাঘাট। বিপাকে পড়েন তিনি। বলেন, এই ধরনের ঘাট বন্ধের নির্দেশিকা আগে জারি না করলে সমস্যায় পড়তে হয়। আমি আসার পর জানতে পারছি ঘাট বন্ধ। এখন আমাকে বাড়তি পথ ঘুরে নবদ্বীপ হয়ে যেতে হবে। আগে জানলে আমি শিমুরালি থেকে কল্যাণী দিয়ে গঙ্গা পার করতে পারতাম। এদিকে, মানুষের ঘরবাড়ি প্লাবিত না হলেও শান্তিপুরের বহু এলাকায় চাষের জমি, পথঘাট সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্মীনাথপুর, গয়েশপুর, হরিপুর, চৌধুরীপাড়া, তিওয়ারির চর, মেথিরডাঙ্গা, টেংরিডাঙ্গা, ভোলাডাঙ্গা সহ শান্তিপুর শহরের স্টিমার ঘাট, বড় বাজার ঘাট সহ বিভিন্ন এলাকা। আতঙ্কে প্রহর গুনছেন এই সমস্ত এলাকার মানুষ। মেথিরডাঙ্গার বাসিন্দা সদানন্দ বিশ্বাস বলেন, আমরা চাইছি প্রশাসনের সহযোগিতা। যেভাবে জল বাড়ছে তাতে যে কোনও মুহূর্তে ঘরবাড়ি ভেসে যেতে পারে। খুবই আতঙ্ক এবং সমস্যার মধ্যে রয়েছি। বিষয়টি নিয়ে শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, ঘাট বন্ধ হওয়া নিয়ে একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। কোথাও একটা সমন্বয়ের সমস্যা হচ্ছে। বর্ধমান এবং হুগলির প্রশাসনের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আর যে সমস্ত এলাকায় জল বাড়ছে অথবা মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন সেই সমস্ত জায়গার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছি। প্রশাসন অন্যান্য সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।  জল পেরিয়ে যাতায়াত। শান্তিপুরে অভি ঘোষের তোলা ছবি।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ