সংবাদদাতা, মানিকচক: মানিকচকে চরম বিপদসীমা থেকে মাত্র ২০ সেন্টিমিটার নীচে গঙ্গা নদীর জলস্তর। বুধবার গঙ্গার জলস্তর একদিনে বাড়ল প্রায় ১৯ সেন্টিমিটার। পাশাপাশি, রতুয়া ১ ব্লকের পশ্চিম রতনপুরে গঙ্গা ভাঙন অব্যাহত। সেখানে কেশরপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয় গঙ্গায় তলিয়ে যাওয়ার মুখে। যেভাবে গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে যে কোনও সময় ভূতনির রিং বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় ওই বাঁধে আশ্রয় নেওয়া বহু পরিবার। যদিও আশঙ্কার কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছেন সেচদপ্তরের আধিকারিকরা।
বর্তমানে গঙ্গার জলস্তর ২৫.১০ মিটার। যা একেবারে চরম বিপদসীমা থেকে মাত্র ২০ সেন্টিমিটার নীচে। জলস্তর বৃদ্ধিতে মানিকচকের বিস্তীর্ণ অসংরক্ষিত এলাকা জলমগ্ন। গোপালপুরের উত্তর ও দক্ষিণ হুকুমতটোলা, ঈশ্বরলালটোলার অসংরক্ষিত এলাকায় ঢুকেছে জল। মানিকচকের রামনগর গ্রামের রাস্তায় উপর দিয়ে বইছে গঙ্গা। জল পেরিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। ভূতনির কেশরপুর, কালুটনটোলা, বসন্তটোলা জলের তলায়। এলাকার শতাধিক মানুষ ভূতনির নবনির্মিত রিং বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।
প্রশাসনের দেওয়া ত্রিপলের নীচে দিন কাটছে অসহায় পরিবারগুলির। তবে বাঁধে আশ্রয় নিলেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না তাদের। কারণ, রিং বাঁধের ধারে এসে পৌঁছেছে গঙ্গার জল। নতুন বাঁধটির বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যে ফাটল ধরেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, বাঁধের ফাটল অংশ দিয়ে জল ঢুকছে সংরক্ষিত এলাকায়।
বীরবল মাহাত বলেন, বাঁধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও জলের ব্যবস্থা করা হয়েছ। কিন্তু প্রতিদিন নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, রতুয়া-১ ব্লকের পশ্চিম রতনপুরের বাঁধ থেকে মাত্র ৪০ মিটার দূরে নদী। তারমধ্যেই প্রতিনিয়ত চলছে ভাঙন। সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে করা বস্তা ও বাঁশের খাঁচার কাজের কোনও চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।
অসংরক্ষিত এলাকায় বসবাস করা পরিবারগুলি বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিলাইমারি পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রামলাল চৌধুরী বলেন, আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। তার মাঝে সেচদপ্তর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষ খুব আতঙ্কে রয়েছেন। বাঁধ ভাঙলে ভূতনিতে আবার বন্যা হবে।
যদিও ভাঙন রুখতে বালির বস্তার কাজ জরুরি ভিত্তিতে করা হচ্ছে বলে জেলা সেচ দপ্তরের আধিকারিক শিবনাথ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন। তাঁর আশ্বাস, ভূতনির রিং বাঁধ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও বিষয় নেই। নিজস্ব চিত্র।