সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বর্ষা প্রায় বিদায় নিয়েছে। পদ্মানদীতে জলস্তর অনেকটাই কমেছে। জলস্তর কমতেই নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। চিন্তায় ঘুম উড়েছে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের, বড়শিমূল, জোতকমল ও তেঘড়ি পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের। বর্ষার মরশুমে নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির সময় ভাঙন হয়। দিন কয়েক থেকে নদীতে জল কমতে শুরু করে। একটু একটু করে জনবসতির দিকে নদী যতই এগিয়ে আসছে, কপালে চিন্তার ভাঁজ ক্রমশ চওড়া হচ্ছে স্থানীয়দের।
জঙ্গিপুর মহকুমা সেচদপ্তরের আধিকারিক সঞ্চয়কুমার সিংহ বলেন, জলস্তর কমতে শুরু করলে একটু আধটু ভাঙন হয়। তবে, সেই অর্থে এখনও তেমন বড়সড় ভাঙনের খবর নেই। জল পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর জনবহুল এলাকাগুলোতে পাড় বাঁধানো হবে।
বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান বলেন, দিন কয়েক আগেই আমি ভাঙন কবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধের কাজ যাতে শীঘ্রই শুরু করা যায় সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকের জানিয়েছি। এছাড়াও সম্প্রতি সূতির নুরপুরে ও রঘুনাথগঞ্জের জোতকমলে ভাঙন রোধের কাজ শুরু হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের অন্যতম বড় সমস্যা নদী ভাঙন। প্রতিবছরই জেলার কিছু জায়গায় নদী ভাঙনে ভিটেহারা হন মানুষ। বর্ষার জল ধারণ করে ভয়াবহ আকার নেয় ভাগীরথী ও পদ্মা নদী। দিন কয়েক আগেই সামশেরগঞ্জের উত্তর চাচণ্ড ও নতুন শিবপুর গ্রামে গঙ্গা ভাঙন শুরু হয়। প্রতি বর্ষায় গঙ্গায় হু হু করে জলস্ফীতির ফলে ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, সূতি ও রঘুনাথগঞ্জ১, ২ সহ জঙ্গিপুর মহকুমার পাঁচটি ব্লকের কোথাও না কোথাও ভাঙন হয়। বিশেষ করে বিগত বছর দু›য়েক আগে সামশেরগঞ্জে বিঘার পর বিঘা জমি, আম-লিচুর বাগান সহ কাঁচা ঘরবাড়ি তলিয়ে গিয়েছে। পাশাপশি ধুসুরিপাড়া, ধানঘড়া, শিবপুর, হিরানন্দনপুর গ্রামের প্রায় ১৫০ বাড়ি গঙ্গার গ্রাসে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত কয়েক বছরে একের পর এক কাঁচা-পাকা বাড়ি গঙ্গাগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। এবার রঘুনাথগঞ্জ ২ ব্লকের বড়শিমূল পঞ্চায়েতের জোতসুন্দরে ভাগীরথী তীরবর্তী এলাকা চিন্তা বাড়াচ্ছে স্থানীয়দের। এখানে প্রতিদিন একটু একটু নদীতে ভাঙন হচ্ছে। এছাড়াও দিন কয়েক আগেই তেঘড়ি পঞ্চায়েতের হবিবপুরে ভাগীরথী নদীতে ভাঙন হয়। বিশাল এলাকা সহ বাঁশঝাড় নদীতে তলিয়ে যায়। রঘুনাথগঞ্জ ২ ব্লকের জোতকমল পঞ্চায়েতের কাঁসারিপাড়ায় দফরপুরে ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় বর্ষার শুরুতেই ভাঙন দেখা দেয়। কয়েক মিটার এলাকাজুড়ে নদীর পাড়ে ধস নামে। বেশ কয়েকটি বড় গাছও তলিয়ে যায়। সেখানে পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র