সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: নিতুড়িয়া ব্লকের পারবেলিয়া সরস্বতী ক্লাবের তরফে জাঁকজমকের সঙ্গে গণেশপুজো আয়োজন হয়েছে। ২৭তম বর্ষের পুজো ঘিরে এলাকায় উন্মাদনা তুঙ্গে। বুধবার ক্লাবের সদস্যরা দামোদর নদ থেকে জল তুলে পুজোপ্রাঙ্গণ অবধি নিয়ে আসেন। সেই অনুষ্ঠানে সমস্ত ধর্মের মানুষ হাজির ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ অজিত বাউরি, জেলা পরিষদ সদস্য বাবুজান হেমব্রম, নিতুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা পুজো কমিটির আহ্বায়ক শান্তিভূষণ প্রসাদ যাদব সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পারবেলিয়া ইসিএল ফুটবল মাঠে এই পুজো হচ্ছে। নেপালের জানকী মন্দিরের আদলে গণেশপুজোর মণ্ডপ সাজিয়ে তোলা হয়েছে। নিতুড়িয়া ব্লকের পারবেলিয়া হিন্দিভাষী অধ্যুষিত। আসানসোল ঘেঁষা কোলিয়ারি এলাকা হওয়ায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ এখানে কর্মরত রয়েছেন। এখানে গণেশপুজো করার জন্য প্রাক্তন ব্লক তৃণমূল সভাপতি শশীভূষণ প্রসাদ যাদব উদ্যোগী হয়েছিলেন। ১৯৯৮-’৯৯ সালে ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে নিতুড়িয়ায় গণেশপুজোর সূচনা করেন তিনি। ২০১০সালের ২৯মার্চ শশীভূষণবাবু আততায়ীদের গুলিতে নিহত হয়। তারপর থেকে তাঁর তৈরি ক্লাবের সদস্যরা সেই পুজো করে আসছেন।
এখন এটি জেলার সবচেয়ে বড় গণেশপুজো। জেলার মানুষ ছাড়াও বাঁকুড়া, বর্ধমান এবং ঝাড়খণ্ডের বহু মানুষ পুজো দেখতে আসেন। এবছর ১০দিন ধরে পুজো চলবে। সেই উপলক্ষ্যে মাঠে নাগরদোলা সহ মেলা বসেছে।
ক্লাবের সভাপতি মৃদুল সরকার বলেন, এবছর পুজোর বাজেট ১৭লক্ষ টাকা। পুজোয় এলাকার সমস্ত ধর্মের মানুষ সামিল হন। পুজো কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় যাদব বলেন, প্রতিদিন সাংস্কৃতিক মঞ্চে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে। রক্তদান, চক্ষু ও স্বাস্থ্যপরীক্ষা শিবির হবে। দু’দিনের যাত্রাপালা রয়েছে।
শান্তিভূষণবাবু বলেন, সরস্বতী ক্লাব ও দাদার নামে তৈরি শশীভূষণ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্যদের নিয়ে পুজো পরিচালনা করা হয়। ৫সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালন ও রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পূজোর সমাপ্তি হবে। এবারও লক্ষাধিক মানুষ আমাদের গণেশপুজো দেখতে আসবেন।