Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অনাদরে মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র সিংহের স্মৃতি বিজড়িত জিয়াগঞ্জের গাম্ভীলা শ্রীপাট

মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র সিংহের স্মৃতি বিজড়িত জিয়াগঞ্জের গাম্ভীলা শ্রীপাট অর্থাৎ বড় গোবিন্দ বাড়ি বৈষ্ণব ধর্মালম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান।

অনাদরে মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র সিংহের স্মৃতি বিজড়িত জিয়াগঞ্জের গাম্ভীলা শ্রীপাট
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র সিংহের স্মৃতি বিজড়িত জিয়াগঞ্জের গাম্ভীলা শ্রীপাট অর্থাৎ বড় গোবিন্দ বাড়ি বৈষ্ণব ধর্মালম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান। জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ওই পর্যটনকেন্দ্রটি অবহেলা ও অনাদরে পড়ে থাকায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার ইতিহাসপ্রেমী মানুষ থেকে শহরবাসী। শতাব্দী প্রাচীন এই বৈষ্ণব চর্চাকেন্দ্রটিকে জেলা পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত করার দাবিতে তাঁরা সরব হয়েছেন। 

Advertisement

ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দিকে জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্তী জমিদারির কাজে ওপার বাংলার রাজশাহিতে গিয়েছিলেন। সেখানে আলাপ হয় গড়ানহাটি রাজবাড়ির সন্তান বৈষ্ণব সাধক নরোত্তম দাসের সঙ্গে। তাঁর সংস্পর্শে এসে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হন গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্তী। ঘরে ফিরে বড় গোবিন্দবাড়িতে গাম্ভীলা শ্রীপাট তৈরি করে তিনি বৈষ্ণব চর্চা শুরু করেন। পরবর্তীতে বড় গোবিন্দবাড়িকে কেন্দ্র করে জিয়াগঞ্জ আজিমগঞ্জের বৈষ্ণবধর্ম চর্চা এবং শিক্ষা, সাহিত্য ও  সংস্কৃতি আবর্তিত হতে থাকে। পরম প্রেম এবং অহিংসার সন্ধান করতে গিয়ে একসময় ওই শ্রীপাটে উপস্থিত হন স্বয়ং মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র সিংহ। পরে তিনি বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেন। ভাগ্যচন্দ্র সিংহ দেহ রাখলে জিয়াগঞ্জ গাম্ভীলা শ্রীপাটে নরোত্তম দাসের সমাধির পাশে তাঁকেও সমাধিস্থ করা হয়। নরোত্তম দাসের তিরোভাব দিবসে অর্থাৎ কার্তিক মাসের পঞ্চমীতে শ্রীপাটকে ঘিরে প্রতি বছর নাম সংকীর্তন ও মেলার আয়োজন করা হয়। জেলার মানুষের কাছে যা খেতুরের মেলা হিসেবে পরিচিত। আজও একই দিন একই নামে খেতুরের মেলা অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহিতে। এই শ্রীপাটে নিত্য পুজা হয়।  দিনে রাতে কীর্তনের আসর বসে। 
মন্দিরের অন্যতম সেবাইত অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মণিপুরের বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে গাম্ভীলা শ্রীপাট একটি তীর্থস্থান। সারা বছর মণিপুর থেকে হাজার হাজার বৈষ্ণব ধর্মের মানুষ জিয়াগঞ্জের তীর্থভূমিতে আসেন। খেতুরের মেলায় বাংলাদেশ থেকেও বহু ভক্ত সমাগম হয়। অথচ বৈষ্ণব এই চর্চাকেন্দ্রটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্রাত্যই রয়ে গিয়েছে। আর তাতেই ক্ষোভ জমছে ঐতিহ্য ও ইতিহাসপ্রেমী  মানুষের মনে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনোজ বারিক বলেন, প্রচারের অভাব ও অবহেলায় শহরের অধিকাংশ মানুষ বড় গোবিন্দবাড়ির গরিমা বিষয়ে অবগত নন। তাঁদের কাছে এটিএকটি মন্দির। মণিপুরী নৃত্যশৈলীর সঙ্গে গাম্ভীলা শ্রীপাটের গড়ানহাটি কীর্তনশৈলীর বিস্তর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এই তথ্য দিয়ে জেলার ইতিহাস গবেষক সমীর ঘোষ বলেন, বাংলাদেশ তো বটেই, বৈষ্ণব চর্চার মধ্য দিয়ে সুদূর মণিপুরের সঙ্গে শিল্পকলা এবং সাহিত্যে মেলবন্ধন করে এই মন্দিরটি। তারপরেও জেলার পর্যটন মানচিত্রে উপেক্ষিত থেকে গেল গাম্ভীলা শ্রীপাট।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ