নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবারের গালিফ স্ট্রিট মানেই থিকথিকে ভিড়। রাস্তা বন্ধ। হরেক পশুপাখির পসরা নিয়ে ব্যবসায়ীদের হাঁকডাক। বহু কালের এই চেনা ছবি দেখা গেল না এই রবিবার! এদিনের গালিফ স্ট্রিট যেন নিষ্প্রাণ। ব্যবসায়ীদের মুখে চিন্তার ছাপ। একরাশ হতাশা নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হল ক্রেতাদের। কারণ, গালিফ স্ট্রিটে পশু-পাখি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন উচ্চ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সেখানে অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশ। বাজার বন্ধের নির্দেশ আসতেই মাথায় হাত পড়েছে ব্যবসায়ীদের। তাঁদের প্রশ্ন, ‘হাইকোর্টের রায় না মানার কোনো জায়গা নেই। কিন্তু ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে খাব কী? এতগুলো পরিবার তো ভেসে যাবে!’
প্রতি রবিবার টালা সংলগ্ন গালিফ স্ট্রিটে বসে কুকুর, বিড়াল, খরগোশ, গিনিপিগ, টিয়া, পায়রা, বদ্রিকা সহ নানা পশুপাখির হাট। পাওয়া যায় অ্যাকোয়ারিয়ামের রঙিন মাছ ও তাদের খাদ্য। কিন্তু বন্যপ্রাণ আইন অনুযায়ী, কোনো পাখিকেই খাঁচায় বন্দি রাখা যায় না। গিনিপিগ সহ বিভিন্ন পশুর ক্ষেত্রেও এই আইন প্রযোজ্য। কুকুর, বিড়ালের মতো কিছু প্রাণী কেনাবেচার ব্যবসা করা যেতে পারে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন ট্রেড লাইসেন্স। এসব নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করেই এতদিন গালিফ স্ট্রিটে অবাধে চলেছে প্রাণী কেনাবেচা। এনিয়ে ২০২০ সালে কলকাতা হাইকোর্ট একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। সেই মামলায় গত বুধবার হাইকোর্ট বাজার বন্ধ রাখার রায় দেয়। ওই নির্দেশের পর এদিনই ছিল প্রথম রবিবার। শনিবার রাতেই কলকাতা পুলিশ বাজারে নোটিস ঝুলিয়ে দেয়। সকালে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতিকে নিয়ে মাইকিং করে বাজার বন্ধ রাখার ঘোষণা করে পুলিশ।
বাজার বন্ধের খবর না জেনে সকাল সকাল অনেকে চলে আসেন পশুপাখি কিনতে। যেমন বাগুইআটির দম্পতি সোমরাজ-এলিশা। তাঁরা লাসা প্রজাতির কুকুরছানা কিনতে এসেছিলেন। একরাশ হতাশা নিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাঁদের। এলিশা বলছিলেন, ‘সোমরাজের বাড়িতে একটি পমেরিয়ান রয়েছে। এবার লাসা ব্রিড কেনার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কী আর করা যাবে!’ তাঁদের আরও বক্তব্য, ‘এখানে যত ধরনের কুকুরছানা পাওয়া যায়, পেট-শপগুলিতে তা মেলে না।’
সোদপুর থেকে এদিন পায়রা, রঙিন মাছ ও মাছের খাবার কিনতে এসেছিল একদল স্কুলপড়ুয়া। কিন্তু বাজার বন্ধ থাকায় তারাও ফিরেছে মুখ শুকনো করেই।
এই অবস্থায় জীবিকা নিয়ে সংকটে পড়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। চন্দন বিশ্বাস নামে এক কুকুরছানা বিক্রেতা বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়। আমাদের তো বিরোধিতা করার জায়গা নেই। কিন্তু এতগুলি পরিবার কি পথে বসবে? প্রায় ১৫ বছর এখানে ব্যবসা আমার। এই করেই খাই। ব্যবসা বন্ধ হলে খাব কী?’ নিজস্ব চিত্র