পার্সোনালাইজড মেডিসিন। কেউ কেউ আবার প্রিসিসান মেডিসিনও বলেন। এককথায় বলতে গেলে ব্যক্তি বিশেষ ভিন্ন ভিন্ন ওষুধ দেওয়ার পদ্ধতি। অর্থাৎ একই রোগ, একই বয়স, প্রায় একই ওজন, একই লিঙ্গের দুই মানুষ অথচ তাদের আলাদা ভিন্ন ওষুধ দেওয়া হচ্ছে! কেন?
শুরুতেই একটি বিভ্রান্তি দূর করা প্রয়োজন। এটি ব্যতিক্রমী কোনও বিষয় নয় বরং ভিন্ন ধরনের একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। তাই এরকম ভাবার কোনও মানে নেই যে, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে কোনও অদ্ভুত ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। যা আর কোনও রোগীকে দেওয়া যাবে না বা কোনও রোগী সেই ওষুধ আগে পায়নি। দীর্ঘ গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতিটি মানুষের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। তাদের শরীরে জিনের গঠন, প্রোটিওমিক (দেহে প্রোটিনের গঠন ও কাজ), মেটাবলিক রেট (বিপাকীয় হার), লাইফস্টাইল, ব্যবহার, জীবনধারনের পরিবেশ ভিন্ন ভিন্ন হয়। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আর একটি বিষয়ও লক্ষ করছেন চিকিৎসকরা। দেখা গিয়েছে, একই রোগে আক্রান্ত দু’জন। হয়তো তারা একই এলাকার। একই অফিসের সহকর্মী। কিন্তু দু’জনের শরীরে রোগের প্রভাব ভিন্ন। একজন হয়তো জ্বর নিয়েই অফিস যাচ্ছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর একজন একেবারে কাবু। জ্বরের সঙ্গে নানারকম উপসর্গ। দুর্বল হয়ে বিছানায় পড়ে রয়েছে। তাহলে তাদের যে ওষুধ দেওয়া হবে তা এক হবে নাকি সেখানেও পার্থক্য থাকবে? ঠিক এই পর্যবেক্ষণগুলি থেকেই পার্সোনালাইজড মেডিসিনের জন্ম। অর্থাৎ ব্যক্তি বিশেষে এই বিষয়গুলিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে ওষুধ দেওয়া হবে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সংশ্লিষ্ট ধারণাটি গোটা বিশ্বের সামনে আনেন ব্রিটিশ ফিজিশিয়ান গ্যারড। তাঁকে পার্সোনালাইজড মেডিসিনের জনকও বলা হয়। বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এর সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ দেখা যায়। যেমন অটোলোগাস কার টি-সেল ট্রান্সপ্লান্ট। এক্ষেত্রে রোগী অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয় বা কোনও বিশেষ এনজাইমের জন্যও ব্যক্তি বিশেষে ওষুধ বদলাতে হয়। কারও আবার জিনগত কিছু রোগ থাকলে, সেই বিষয়টি ভালো করে খতিয়ে দেখে আলাদা ওষুধ দিতে হয়। তবে পার্সোনালাইজড মেডিসিনের সমস্যাও রয়েছে। অনেকক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত খরচ সাপেক্ষ। পর্যাপ্ত পরিকাঠামোরও প্রয়োজন রয়েছে। তাই বিদেশে মূলত উন্নত দেশগুলিতে বিষয়টি সহজ হলেও উন্নয়নশীল দেশের আমজনতার কাছে তা এখনও সহজলভ্য নয়। এনিয়ে বিস্তর কাটাছেঁড়া চলছে। তবে আগামীতে চিকিৎসা জগতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে পার্সোনালাইজড মেডিসিন।



