


৫ মিমি ব্যাসের মূত্রনালি থেকে ‘হাপিস’ ২২ মিলিমিটারের কিডনি স্টোন! এই অসম্ভব সম্ভব হল হোমিওপ্যাথিতে। শুধু এক ৫৬ বছরের শ্রমিকের ২২ মিমি ব্যাসের পাথরই নয়, আরও ২২ জনের কিডনি স্টোন বের করা সম্ভব হয়েছে। এমনই দাবি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের। প্রতিটিরই সাইজ ছিল ৫ মিমি’র বেশি! বাংলার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি হাসপাতাল, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ১২ জন হোমিওপ্যাথের এই কাজ হইচই ফেলেছে। কারণ, এই প্রথম দেশে কিডনি স্টোনে হোমিওপ্যাথির কার্যকর ভূমিকার কথা আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হল। ২৩টি এমন ঘটনার কথা স্কোপুস এবং ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, স্টোনগুলির গড়পড়তা ব্যস ছিল ৯.২ মিমি। ‘উধাও’ হওয়ার গড় সময়সীমা হল ১৫২ দিন। সর্বনিম্ন ৪৩ দিনে এবং সর্বোচ্চ ১৩৫৭ দিনে শরীর থেকে বেরিয়েছে। ডান কিডনিতে থাকা ২২মিমি স্টোনটি ইউরিনের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। সেটি রোগী ডাক্তারকে দেখিয়েও যান। রোগীর চিকিৎসক মহেশ ভট্টাচার্য হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ অলোক মিশ্র বলেন, ‘তিন মাস চিকিৎসা করেছি। শক্ত অক্সালেট স্টোন ছিল। মূত্রনালী ডায়ালেট করে স্টোনটি বেরিয়েছে।’ যেসব চিকিৎসকের কাজের উল্লেখ রয়েছে গবেষণাপত্রে, তাঁদের অন্যতম ডাঃ প্রীতম গোস্বামী ও ডাঃ অরিজিৎ মান্না বলেন, ‘রোগীভেদে লাইকোপোডিয়াম, ক্যালকেরিয়া কার্ব, ন্যাট্রাম মিওর, নাক্স ভমিকা, পালসাটিলা, থুজা, ট্যাবাকম প্রভৃতি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ব্যবহার করেছি। তাতেই কাজ হয়েছে। স্টোনগুলি ছোট নয়তো গুঁড়ো হয়ে বেরিয়ে গিয়েছে।’ নেফ্রোলিথিয়াসিস বা কিডনি স্টোনের রোগ দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষে দেখা যায়। ৫ মিমি’র নীচের ব্যসের অধিকাংশ স্টোন জল খেলেই বেরয়। তার বেশি হলে আলফা ব্লকার ও মর্ডান মেডিসিনের অন্যান্য ওষুধপত্রেই কাজ হয়। বাকি ক্ষেত্রে লেজার লিথোট্রিপসির মাধ্যমে ইউরেটেরোস্কপি বা পারকিউটেনাস নেফ্রোলিথোটমি সার্জারির দরকার পড়ে। যদিও এন আর এস-এর নেফ্রোলজি’র প্রধান ডাঃ পিনাকী মুখোপাধ্যায় বলেন, স্টোনগুলির প্রকৃতির, বেরনোর পর রোগীর কিডনি, আনুষঙ্গিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবস্থা ইত্যাদি বহু বিষয়ই অস্বচ্ছ রয়েছে। আদৌ স্টোন বেরিয়েছে কি না দেখতে সিটি স্ক্যান করাও দরকার। বিশিষ্ট ইউরোঅঙ্কোলজিস্ট ডাঃ সত্যদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ৯৫ শতাংশ কিডনি স্টোনই প্রাকৃতিকভাবেই বেরিয়ে যায়। কোনও অপারেশনের দরকার পড়ে না।
লিখেছেন বিশ্বজিৎ দাস