Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বকর্মা থেকেই দেদার বায়না, পুজোর মহড়ায় ব্যস্ত মেদিনীপুরের বাজনাপাড়া

পুজো শুরুর আগেই যেন মেদিনীপুর শহরের বাজনা পাড়ায় উৎসবের আলো

বিশ্বকর্মা থেকেই দেদার বায়না, পুজোর মহড়ায় ব্যস্ত মেদিনীপুরের বাজনাপাড়া
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পুজো শুরুর আগেই যেন মেদিনীপুর শহরের বাজনা পাড়ায় উৎসবের আলো। একেবারে আনন্দে আত্মহারা সিং বাজনা ও তাসাপার্টির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা। কারণ, এবছর বিশ্বকর্মা পুজোর আগে থেকেই দেদার বায়না আসতে শুরু করেছে। প্রতি বছর পুজোয় বাড়তি আয়ের আশায় তাঁরা বুক বাঁধতে শুরু করেন। এই ছবি মেদিনীপুর শহরের নিমতলা চক বাজারের বাজনা পাড়ার। এই এলাকার তিনশোরও বেশি যুবক বাজনা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। বাজনা শিল্পীদের কথায়, গত বছর অভয়া কাণ্ডের জেরে বায়না তেমন আসেনি। অনেক পুজো উদ্যোক্তা আগে কথা দিয়ে গেলেও, পরে বায়না বাতিল করেন। এবছর গণেশ পুজোয় সেভাবে বায়নাই আসেনি। তবে বিশ্বকর্মা পুজো থেকে ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে। বেড়েছে বায়নার পরিমাণ। বিভিন্ন জেলার ছোট, বড় পুজোগুলিতে অনেক শিল্পী বাজাতে যাবেন।

Advertisement

সিং বাজনা শিল্পী বিকাশ রাসা বলেন, গত বছর সেভাবে হয়নি। এবছর অনেকেই আসছেন বাজনার বুকিং করতে। হাতে টাকা এলেই জামা, কাপড় কেনা শুরু করব। এখন সবাই রাত-ভোর বাজনার মহড়ায় ব্যস্ত।
প্রসঙ্গত, মেদিনীপুর শহরের নিমতলা চক এলাকা বাজনা শিল্পীদের নিবাস। বংশ পরম্পরায় শিল্পীরা থাকেন এখানে। বর্তমানে এই এলাকায় কম, বেশি একশোরও বেশি শিল্পীর পরিবার রয়েছে। তাঁরা মূলত উৎসবের মরশুমগুলিতে বাজনা বাজানোর পাশাপাশি অন্য পেশার সঙ্গেও যুক্ত থাকেন। কিন্তু বছরের এই চার দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন শিল্পীরা। কারণ মেদিনীপুর ছাড়া অন্য আশপাশের জেলা থেকেও প্রচুর বায়না আসে। 
এক বাজনা শিল্পীর কথায়, স্থানীয় এলাকায় বাজাতে গেলে আয়ের পরিমাণ  কমে যায়। তাই দুগ্গা পুজোয় শহরই একমাত্র ভরসা। বিভিন্ন পুজোয় বাজিয়ে বছরভর ধরে যে রোজগার হয়, তাতে কোনও মতে পেট চলে। তাই বেশি টাকা রোজগারের জন্য মা দুগ্গার আসার অপেক্ষায় থাকতে হয়। স্থানীয় এলাকায় বাজাতে গেলে ১১ হাজার টাকা পারিশ্রমিক মেলে। তবে বাইরে গেলে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্তও রোজগার হয়।মেদিনীপুর শহরের এক বাজনা শিল্পীর কথায়, এবার জেলার বিভিন্ন জায়গায় বাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগে বাদ্যযন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ করতে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হতো। এখন দেড় হাজার টাকার বেশি লাগে। তবে স্থায়ী আয়ের একটা ব্যবস্থা হলে ভালো হয়। মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, বাজনা শিল্পীদের পাশে পুরসভা আছে। বাজনা শিল্পীদের পরিবার বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান।  মেদিনীপুর বাসস্ট্যান্ডে বিশ্বকর্মার মণ্ডপে ভিড়।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ