Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুক থেকে দীঘা, ইউনিয়নের চাঁদার জুলুমে অতিষ্ঠ বাসমালিকরা

উনিয়ন ফি-র নামে প্রতিদিন পূর্ব মেদিনীপুরে যাত্রীবাহী বাস থেকে আদায় হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা।

তমলুক থেকে দীঘা, ইউনিয়নের  চাঁদার জুলুমে অতিষ্ঠ বাসমালিকরা
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দকুমার: ইউনিয়ন ফি-র নামে প্রতিদিন পূর্ব মেদিনীপুরে যাত্রীবাহী বাস থেকে আদায় হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। বাম জমানায় সিটুর চালু করা ইউনিয়ন ফি আজও চলছে। নিমতৌড়ি, নন্দকুমার হাইরোড, চণ্ডীপুর, বাজকুল, হেঁড়িয়া সহ অন্তত ১০টি স্টপে এভাবে ইউনিয়ন ফি দিতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা বাস মালিকদের। নন্দকুমার হাইরোড মোড়ে তমলুক, হলদিয়া এবং দীঘাগামী বাস তিনটি জায়গায় স্টপ দেয়। প্রতিটি জায়গায় ইউনিয়নের লোক ফি আদায় করছে। হাওড়া-দীঘা দূরপাল্লার বেসরকারি বাস থেকে ওইসব স্টপে ৪০ টাকা করে আদায় করা হয়। লোকাল বাসের চার্জ ২০ টাকা। ইউনিয়ন ফি-র নামে এই জুলুমবাজি অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য বিধায়ক থেকে বাস মালিকরা সরব হয়েছেন।

Advertisement

সোমবার বেলা তখন সাড়ে ১১টা। নন্দকুমার হাই রোডে পথসাথীর সামনে দীঘাগামী একের পর এক বাস থামছে। বাসের কন্ডাক্টররা নীচে নামলেই তাঁদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন নীল টি-শার্ট পরা মাঝবয়সি এক ব্যক্তি। দূরপাল্লার বাসের কন্ডাক্টররা ৪০ টাকা করে এবং লোকাল বাসের কন্ডাক্টররা ২০ টাকা করে তুলে দিচ্ছেন তাঁকে। একটিও বাস বাদ পড়ছে না। 
নন্দকুমার হাই রোড মোড়ে আইএনটিটিইউসি-র একটি অফিস রয়েছে। এই অফিস থেকেই ইউনিয়ন ফি আদায়ের জন্য কর্মী লাগানো হয়। সারাদিনের সংগৃহীত টাকা ইউনিয়ন অফিসে জমা পড়ে। কালেক্টরদের দৈনিক ৫০০ টাকা দিয়ে বাকি টাকা ইউনিয়নের নেতারা নিয়ে যান। নন্দকুমার ব্লক তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি ইশাক শেখ এই অফিস নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর নির্দেশে ইউনিয়ন ফি সংগৃহীত হয়। ইশাক বলেন, ২০০৪ সাল থেকে এখানে বাস থেকে ইউনিয়ন ফি তোলা হয়। আমি তখন সিটু করতাম। এখন আইএনটিটিইউসি-র সঙ্গে যুক্ত। 
শুধু নন্দকুমার হাইরোডে নয়। দীঘা যাওয়ার রাস্তায় নিমতৌড়ি, নন্দকুমার, চণ্ডীপুর, বাজকুল, হেঁড়িয়া সহ প্রায় ১০টি বাস স্টপে এভাবে ইউনিয়ন ফি দিতে হয়। একটি দূরপাল্লার বাসের হাওড়া থেকে দীঘা পর্যন্ত যেতে ইউনিয়ন ফি বাবদ প্রতি ট্রিপে ৪০০ টাকা দিতে হয়। বাম জমানায় হলদিয়ার সম্রাট এই ইউনিয়ন ফি চালু করেছিলেন। জমানা বদলালেও ফি আদায় আজও চলছে। 
নন্দকুমারের তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার দে বলেন, হাইরোডে যেভাবে টাকা পয়সা তোলা হয় তাতে পুলিসের হস্তক্ষেপ জরুরি। পুলিস নিশ্চুপ বলেই এসব চলছে। এনিয়ে আমি প্রতিবাদ করি বলেই এর সঙ্গে যুক্তরা আমাকে অপছন্দ করেন। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, এই সিস্টেম ভাঙা উচিত।
নন্দকুমারের বাসিন্দা শ্রীকান্ত সাহুর ১২টি দূরপাল্লার বাস রোজ হাওড়া-দীঘা রুটে চলাচল করে। শ্রীকান্তবাবু বলেন, তমলুক থেকে দীঘা পর্যন্ত ১০টির বেশি স্টপেজে ইউনিয়ন ফি দিতে হয়। এটা বছরের পর বছর চলে আসছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুকুমার বেরা বলেন, বাম জমানায় চালু হওয়া ইউনিয়ন ফি এখনও চলছে। বাস দাঁড়ালেই ইউনিয়নের লোক এসে কন্ডাক্টরের থেকে টাকা তুলছেন। রাজনৈতিক দলের নেতাদের মদতে ইউনিয়ন এই কাজ করে। এর বিরুদ্ধে নালিশ করেও কোনও লাভ হয় না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ