Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তালা খোলা থেকে ঘণ্টা বাজানো, সবকিছুই করছেন প্রধান শিক্ষক

নিজের টেবিল সাফ থেকে শুরু করে অফিসের খাতাপত্র সারা। আবার খেয়াল রাখতে হয় ঘড়ির দিকেও।

তালা খোলা থেকে ঘণ্টা বাজানো, সবকিছুই করছেন প্রধান শিক্ষক
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ১৫:০৪
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: নিজের টেবিল সাফ থেকে শুরু করে অফিসের খাতাপত্র সারা। আবার খেয়াল রাখতে হয় ঘড়ির দিকেও। ক্লাসের সময়সীমা ৪৫ মিনিট পেরিয়ে গেলেই ঘণ্টাটা একবার পিটিয়ে আসতে হবে। এভাবেই এক হাতে দশ কাজ সামলাচ্ছেন রানাঘাটের রথতলা কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক অনুপ কুমার ঘোষ। চাকরি বাতিলের এ এক ভয়ানক অভিঘাত! 

Advertisement

রানাঘাটের এই স্কুলে শিক্ষক-সঙ্কট দীর্ঘদিনের। মাত্র ১০ জন শিক্ষককে নিয়ে কোনওরকমে চালিয়ে নিচ্ছিলেন প্রধানশিক্ষক। ২০১৬ সালে যোগ স্কুলে যোগ দিয়েছিলেন একজন করণিক ও একজন চতুর্থশ্রেণির কর্মী। ‘বিতর্কিত’ প্যানেলে নাম ছিল এই দু’জনের। সুপ্রিম রায়ে দু’জনই চাকরি খুইয়েছেন। তাতেই মহা ফাঁপরে পড়েছেন প্রধানশিক্ষক। স্কুল সচল রাখতে অগত্যা সব কাজ তাঁকে করতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রধান শিক্ষক পদের যে নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে, তা এখন লাটে ওঠার জোগাড়। 
অনুপবাবু রানাঘাটেরই বাসিন্দা। সোমবার সকালে স্কুলে গিয়ে দেখা গেল, স্কুটিতে চেপে এসেছেন তিনি। নিজেই খুলছেন মূল ফটকের তালা। হেডমাস্টারের ঘরে ঢুকে ঝাড়পোছ করে অফিস রুমে ঢুকলেন। সেখানে করণিকের ফাইলপত্র নিয়ে কিছু সময় কাজ করলেন। এর মধ্যেই ক্লাস শুরুর ঘণ্টাও বাজাতে হয়েছে। ক্লাস শেষ হওয়ার পরও ঘণ্টায়  হাতুড়ি পেটাতে হবে তাঁকেই। পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। যাঁকে অন্তত কিছুটা বাড়তি কাজের বোঝা দিয়ে সঙ্কট মোকাবিলা করবেন। অগত্যা সব দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিতে হয়েছে অনুপবাবুকে। তবে, করণিকের কাজে  মাঝেমধ্যে অন্যান্য শিক্ষকদের সহযোগিতা পাচ্ছেন। 
স্কুলের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৪০০ ছুঁই ছুঁই। তাদের পরীক্ষা চলছে। সেই চাপ সামলে দেখতে হচ্ছে কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, সবুজ সাথী প্রকল্পের কাজও। এইসব কাজ সাধারণত করনিক করেন। চাকরি বাতিল হওয়ার পর তিনি আর স্কুলে আসছেন না। তাঁর রেখে যাওয়া ফাইলপত্র খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রধানশিক্ষককে। প্রতিদিন অমানুষিক কাজের চাপে কাহিল অবস্থা তাঁর। 
তবুও মাথা ঠান্ডা রেখে, মুখ বুজে কাজ করে চলেছেন অনুপবাবু। এদিন কথায় কথায় তিনি বলছিলেন, ‘স্কুল শুরুর অনেক আগেই এসে তালা খুলতে হচ্ছে।  প্রতিটি ঘর খুলে আলো জ্বালাতে হচ্ছে। প্রতি পিরিয়ডের সময় ঘন্টা বাজাতে হচ্ছে আমাকেই। অফিসের কাজকর্ম করতে অন্যান্য শিক্ষকরা সহযোগিতা করছেন। মিড ডে মিলের জিনিসপত্র কেনাকাটাও আমাকেই করতে হচ্ছে।  এমনিতেই আমাদের স্কুলে শিক্ষক এবং অশিক্ষক প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। তার উপর দু›জন অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হতে তাঁরা আর  আসছেন না। মহাবিপদে পড়েছি।’ 
এতকিছু কাজ সামলেও প্রধানশিক্ষককে ক্লাসও নিতে হয়। অনুপবাবু বলছিলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে কম করে বারোটা ক্লাস নিতে হয় আমাকে। প্রধান শিক্ষক পদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু কাজ রয়েছে। ব্লকের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করতে হয়। কোনটা ছেড়ে কোনটা করব? মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করুন। উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে স্কুল চালানো দায় হয়ে পড়ছে। আমরা সকলেই এখন তাঁর দিকেই তাকিয়ে রয়েছি।’ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ