Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিশুশ্রম বন্ধের বার্তা থেকে ইন্দোনেশিয়ার বৌদ্ধ মন্দির, বারাসতে জমজমাট থিম যুদ্ধ

কালীপুজো বা দীপাবলি মানে আলো। অন্ধকার থেকে আলোর পথে হাঁটার ইঙ্গিত। কিন্তু এত আলো কি সেই সব মুখে পৌঁছয় যাদের শৈশব ক্রমশ কাজের বোঝায় হারিয়ে যাচ্ছে।

শিশুশ্রম বন্ধের বার্তা থেকে ইন্দোনেশিয়ার বৌদ্ধ মন্দির, বারাসতে জমজমাট থিম যুদ্ধ
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: কালীপুজো বা দীপাবলি মানে আলো। অন্ধকার থেকে আলোর পথে হাঁটার ইঙ্গিত। কিন্তু এত আলো কি সেই সব মুখে পৌঁছয় যাদের শৈশব ক্রমশ কাজের বোঝায় হারিয়ে যাচ্ছে। এই ভাবনাই ভাবাতে চাইছে বারাসতের একটি কালীপুজো। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে সাউথ ভাটরার থিম, ‘অন্ধকারে আলো ফেরানোর শৈশব’। পুজো কমিটি বার্তা দিচ্ছে, শিশুশ্রম বন্ধ হোক, সমাজের অন্ধকার থেকে মুক্তি আসুক। উদ্যোক্তাদের কথায়, সমাজের অন্ধকার দূর করে শিশুদের জীবনে শিক্ষার, আনন্দের আলো ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতেই এই ভাবনা। গ্রাম্য আদলে তৈরি কালীমূর্তি। দেবী দাঁড়িয়ে মানবতার প্রতীক হয়ে। সহজ-সরল গ্রাম্য ধাঁচের মূর্তি। মাটির ঘর, প্রদীপের আলো, শিশুর হাসিমুখ ইত্যাদি বিভিন্ন মডেল থাকবে মণ্ডপে। আধুনিক শহরে উৎসব চলছে। সেখানে এক টুকরো কঠোর বাস্তব তুলে ধরতে উদ্যোগ নিয়েছে কমিটি। পুজোর কোষাধ্যক্ষ কৌশিক কর্মকার বলেন, আমরা চাই সমাজ সেরে উঠুক। শত চেষ্টা করেও আমাদের সমাজের সেই পুরনো ব্যাধি, শিশুশ্রমে লাগাম টানা যাচ্ছে না। অনেক পরিবার টাকার অভাবে শিশুদের কাজে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। কেউ চায়ের দোকান কেউ কাজ করছে ইটভাটায়। এই অশুভ শক্তিকে আমরা দূর করতে চাই দেবীর আশীর্বাদে। এবার পুজোর ৩৬ তম বর্ষ। বাজেট প্রায় আট লক্ষ টাকা।

Advertisement

এর পাশাপাশি বারাসতে অন্যতম নামী পুজো হল নওপাড়ার রাইজিং স্টার ক্লাবের। ১২ তম বর্ষে তাদের থিম ইন্দোনেশিয়ার বৌদ্ধ মন্দির। এখানে আসতে প্রয়োজন নেই পাসপোর্টের। শুধু দরকার সময় আর আবেগ। বলছেন উদ্যোক্তারা। পুজোর মূল ভাবনা হল, সীমান্ত টপকে গিয়ে কল্পনার ভুবনে প্রবেশ করা। ইন্দোনেশিয়া এমন এক দেশ যেখানে হিন্দু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আজও জীবন্ত। ভিনদেশের স্থাপত্য ও সাধনার প্রভাব এবার দেখা যাবে রাইজিং স্টারের প্যান্ডেলে। দূর দেশে না গিয়েও মানুষ যেন ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্য অনুভব করতে পারেন। প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত বৌদ্ধ মন্দির অনুকরণ করে। সুউচ্চ গম্বুজ, সূক্ষ্ম কারুকাজ, নকশা আর আলোকসজ্জা মিলিয়ে দর্শনার্থীরা যেন এক অন্য জগতে প্রবেশ করবেন। মূল মণ্ডপে পৌঁছতে হলে দর্শনার্থীদের ১৫ ফুট সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হবে। মদিরের উচ্চতা ৯০ ফুট। চওড়া ১০০ ফুট। বাইরে থেকে নিয়ে আসা শিল্প উপকরণ। প্রতিমা ঐতিহ্যবাহী। পুজো কমিটির কর্মকর্তা অরূপ সেন ও উত্তম দত্ত বলেন, আমরা চাই মানুষ ইন্দোনেশিয়ার বৌদ্ধ মন্দির দেখে আনন্দ পান। আমাদের কাছে কালীপুজো শুধু ধর্ম নয়, সৃজনশীলতার উৎসবও বঠে। স্থানীয় মানুষ ইতিমধ্যেই প্যান্ডেল ঘিরে উৎসাহী। নওপাড়া পোস্ট অফিসের বিপরীতে আমাদের পুজো। মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ