বয়স বেড়ে যাওয়া মানে সবসময় একলা হওয়া নয়। নতুন বন্ধু তৈরি করতে পারেন। নানা বাধা পেরিয়ে অচেনা মানুষকে বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করবেন কীভাবে?
বয়স বেড়ে যাওয়া মানে সবসময় একলা হওয়া নয়। নতুন বন্ধু তৈরি করতে পারেন। নানা বাধা পেরিয়ে অচেনা মানুষকে বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করবেন কীভাবে?
হাত বাড়ালেই বন্ধুত্বের হাতছানি। বন্ধুত্বের তো আসলে কোনও বয়স হয় না। কোনও পরিধিতে মাপা যায় না এই সম্পর্ক। বন্ধু মানে যার কাছে মনের কথা উজাড় করে বলে মনের ভার কমানো যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্বের সমীকরণও বদলায়। চেনা বন্ধু অনেকেই হাত ছেড়ে দেয়। আবার অনেক নতুন বন্ধুর সঙ্গে জীবনপথে আলাপ হয়। বেশি বয়সে নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আদৌ বন্ধুত্ব করা সম্ভব কি? কারণ বন্ধু শব্দের সঙ্গে আমাদের পরিচয় শৈশবে। গুটিগুটি পায়ে স্কুল-কলেজ পেরিয়ে জীবনে বন্ধুর সংখ্যা যেমন বাড়তে থাকে তেমনই বন্ধুত্বের সংজ্ঞাও বদলাতে থাকে। মন পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্বে কি পরিবর্তন আসে? নিজেকে গুটিয়ে না রেখে কীভাবে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ জমাবেন?
• বর্তমানে পরিস্থিতির কারণে অনেকেই একাকিত্বের শিকার। কেউ হয়তো সঙ্গীকে হারিয়েছেন। আবার কারও সন্তান-সন্ততি কর্মসূত্রে রাজ্য বা দেশের বাইরে। এহেন পরিস্থিতিতে বড় সহায় হতে পারে বন্ধু। প্রতিদিন মর্নিং ওয়াকে যাওয়া হয়তো আপনার অভ্যাস। পাড়ার পার্ক হোক বা পাশের পাড়ার রাস্তায় নিয়মিত হাঁটেন। সেখানে আপনার মতো আরও অনেকে শরীরচর্চায় ব্যস্ত। তাঁদের সঙ্গে পরিচয় বন্ধুত্বে গড়াতে পারে। অনেকেই নতুন বন্ধুদের গ্রুপে ভালো থাকার মন্ত্র খুঁজে পান। হইহই করে বাঁচেন। সেই বন্ধুর গ্রুপের সঙ্গেই হয়তো শীতের দিনে পিকনিকে অংশ নিলেন। অথবা কারও জন্মদিনের পালন করলেন সকলে মিলে।
• মধ্য পঞ্চাশ থেকে মধ্য ষাটের কোটায় যাঁরা রয়েছেন, বয়সের কারণেই হয়তো অসুখ নিয়েই বসবাস। সুস্থ থাকার তাগিদে যোগচর্চা করেন অনেকে। যোগাভ্যাসের ক্লাসেও পেতে পারেন নতুন বন্ধুর সন্ধান। তাঁদের সঙ্গে বিকেলে চায়ের আড্ডা বসান। অন্য একদিন শপিংয়ে যান। দেখবেন মন ভালো থাকবে।
• ইদানীং মধ্যবয়স্ক বা বয়স্ক মানুষদের মধ্যে বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক সংস্থা আছে শুধুমাত্র নারীদের বা মধ্যবয়স্কদের নিয়েই ট্যুর করে। এক্ষেত্রে এই ট্যুরে গিয়েও অনেকে বন্ধু খুঁজে পান। ক্ষণিকের আলাপের পর বেড়াতে গিয়ে দীর্ঘ আলাপের সুযোগ হয়। তৈরি হয় বন্ধুত্ব। সেই সম্পর্ক কিন্তু ট্যুরেই শেষ হয়ে যায় না। ফিরে এসেও বন্ধুত্বের গাড়ি গড়গড়িয়ে চলতে থাকে।
• আপনি যে আবাসনে থাকেন, সেখানে নিশ্চয় কোনও কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। কোনও অনুষ্ঠানে সকলের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয় তো? তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। সমমনস্ক প্রতিবেশীর বাড়ি যান। খোঁজ নিন কেমন আছেন তিনি। দেখবেন, তিনিও আপনার বাড়িতে ঢুঁ মারবেন। পাড়ার যে কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিন। সকলের সঙ্গে মেলামেশা বাড়ান। একদিন পাড়ার চায়ের দোকানে গিয়ে আড্ডা দিন না, এভাবেও তো আলাপ হয়। বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এখন ব্যস্ত জীবনে হয়তো নিয়মিত প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলাপ জমানো হয়ে ওঠে না। খাবার দেওয়া-নেওয়ার চলও প্রায় উঠেই গিয়েছে, তা সত্ত্বেও এই ধরনের অভ্যাস আপনার একাকিত্ব দূর করতে পারে।
• বই পড়া কি আপনার নেশা? তাহলে লাইব্রেরি হতে পারে আপনার পছন্দের ডেস্টিনেশন। দেখবেন সেখানে আপনার সমমনস্ক কত মানুষের আনাগোনা। এখনও বেশ কিছু পাড়ায় গুটিকয়েক লাইব্রেরি রয়েছে। গিয়ে দেখুন। হতেই পারে সেখানেই পেলেন গল্প করার মানুষ!
• হাতের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া তো আছেই। পুরনো কোনও বন্ধুর খোঁজ হোক বা নতুন বন্ধু তৈরি, সব হয় সমাজমাধ্যমে। তবে খেয়াল রাখবেন, যাচাই না করে কাউকে বিশ্বাস করবেন না। অল্পদিনের পরিচয়ে অনলাইনে কাউকে আর্থিক সাহায্য না করাই ভালো।
• নাচ, গান, ছবি আঁকা, থিয়েটার— আপনার পুরনো শখ হলে, তা আবার শুরু করতে পারেন। এখন অনেক জায়গায় প্রবীণদের জন্য এই ধরনের ক্লাস হয়। সেখানেও বন্ধু পেতে পারেন। নতুন কোনও ক্রিয়েটিভ জিনিস শিখতে পারেন। কম্পিউটার, নতুন ভাষা— কত কিছু শেখার আছে। যোগ দিতে পারেন লাফিং ক্লাবেও। সেখানেও তৈরি হতে পারে নতুন বন্ধু।
সাবধানতা
• নতুন বন্ধুর সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য ভাগ করবেন না। বিশেষত অনলাইনে পরিচয় হওয়া বন্ধুর ক্ষেত্রে এই বিষয়টা খেয়াল রাখবেন।
• অত্যধিক প্রত্যাশা থেকে দূরে থাকুন।
• স্পেস দিন। ব্যক্তিজীবনের
ব্যস্ততাকে সম্মান করুন। আপনার নতুন বন্ধু কথা বলতে পারছেন না বা চাইছেন না, যাই ঘটুক, সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করুন। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ঠিক রাখতে হবে।
• বন্ধুত্ব গাঢ় হলে দেখা করতে যেতেই পারেন। তবে ভালো করে খোঁজ নিয়ে তবেই যাবেন। জনবহুল এলাকা ছাড়া অন্যত্র দেখা না করাই শ্রেয়।
পূর্বাশা দাস