Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

‘বন্ধু’ ট্রাম্প! পড়শি সব দেশের থেকে কর বেশি মোদির ভারতে

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার কাছে এখন দুয়োরানি শুধুই মোদির ভারত। বাকি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতিবেশী সব দেশের প্রতিই কমবেশি সদয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

‘বন্ধু’ ট্রাম্প! পড়শি সব দেশের থেকে কর বেশি মোদির ভারতে
  • ২ আগস্ট, ২০২৫ ০৯:০৮
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি; ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার কাছে এখন দুয়োরানি শুধুই মোদির ভারত। বাকি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতিবেশী সব দেশের প্রতিই কমবেশি সদয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও ওইসব দেশের সিংহভাগ রাষ্ট্রপ্রধান সেভাবে ট্রাম্পকে নিজের বন্ধু বলে প্রচার করেননি। দীর্ঘ টানাপোড়েন, কৌতূহল, টেনশন এবং জল্পনার পর অবশেষে শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু প্রতীক্ষিত সংশোধিত বাণিজ্য শুল্ক ঘোষণা করলেন। আর সেখানে দেখা গেল, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশের পণ্য রপ্তানির উপর ট্রাম্প যে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন, তার পরিমাণ ভারতের তুলনায় অনেক কম। এই প্রতিটি দেশের উপর বলবৎ হতে চলেছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শুল্ক। এমনকী উন্নত অর্থনীতি জাপানকেও দিতে হবে ১৫ শতাংশ। একমাত্র ব্যতিক্রম ভারত। নরেন্দ্র মোদির বন্ধু ট্রাম্প ভারতের রপ্তানিকৃত পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এই তালিকায় মায়ানমার বিশেষভাবে পৃথক। কেন? তাদের পাঠানো পণ্যের উপর আমেরিকার আমদানি শুল্ক বসবে ৪০ শতাংশ। এর কারণও আছে। ২০২১ সালেই অভ্যুত্থানের সাজা হিসেবে মায়ানমারের উপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা। 

Advertisement

ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার উপর ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে স্বল্প শুল্ক আরোপ করার উদ্বেগজনক তাৎপর্য কী? সেটি হল, টেক্সটাইল ও রেডিমেড গার্মেন্ট এক্সপোর্ট সেক্টরে ভারতকে রীতিমতো কোণঠাসা করে দিলেন ট্রাম্প। এই দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সবথেকে বড় প্রতিযোগিতাই হল টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট রপ্তানিতে। ২০২৪ সালে ভারত যে পরিমাণ টেক্সটাইল এবং রেডিমেড জামাকাপড় রপ্তানি করেছে, তার ৩৩ শতাংশই আমেরিকায়। সুতরাং ভারতের এই সেক্টর বিপুল ধাক্কা খেতে চলেছে। এবং সরাসরি সঙ্কটে পড়বে সাধারণ কর্মীরা। শুক্রবারই এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সুধীর সেখরি আশঙ্কা করেছেন, গার্মেন্ট কারখানা ও সংস্থা এই লোকসান সামলাতে বিপুল কর্মী ছাঁটাইয়ের করতে পারে। এরপরও সরকারের অন্দর থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই শুল্কের ফলে ভারতের সামান্যই লোকসান হবে—মোট জিডিপির ০.২ শতাংশ।
বাণিজ্যশুল্ক নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট বুঝিয়েছেন, ভারত তাঁর বন্ধুরাষ্ট্রই নয়। বরং পাকিস্তান তাঁর অনেক কাছের। তাই তাদের দিতে হবে মাত্র ১৯ শতাংশ শুল্ক। সোজা কথায়, স্বাধীনতার পর থেকে আমেরিকা যেভাবে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েই ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে গিয়েছে, সেই প্রবণতা মোদি-ট্রাম্পের তথাকথিত বন্ধুত্বে বদলায়নি। বরং প্রতিটি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সমর্থন ও সামরিক সাহায্য বেড়েছে। ট্রাম্প এই নয়া বাণি‌জ্যশুল্ক সংক্রান্ত এগজিকিউটিভ অর্ডারে স্বাক্ষর করে শুক্রবার বলেছেন, ‘কয়েকটি দেশ সম্পর্কে আমি সম্প্রতি কিছু অতিরিক্ত তথ্য পেয়েছি। তাই সেইসব দেশের উপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আগামী ৭ আগস্ট থেকে বলবৎ হবে এই নয়া শুল্ক নীতি।’ প্রশ্ন হল, ভারত বারংবার বলে এসেছে, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে এবং ইতিবাচক দিকেই এগচ্ছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর অথবা বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বারবার বলেছেন, ভারত ও আমেরিকা উভয় পক্ষেরই লাভ হবে—এমন চুক্তি হচ্ছে। কিন্তু সেই চুক্তি এখনও হল না। বরং চুক্তির আগেই ট্রাম্প ভারতের উপর চড়া শুল্ক চাপিয়ে দিলেন। বাণিজ্যনীতি, কূটনীতি, বিদেশনীতি—মোদি সরকার কিন্তু ব্যাকফুটেই! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ