Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসএসকেএমে বিনা খরচায় প্রতিস্থাপন! কিডনি দিয়ে বাঁচালেন মা, অন্ধকার থেকে আলোয় বাঘমুণ্ডির দেবাশিস

ছেলের দু’টো কিডনিই বিকল হয়েছিল। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ১৬ লাখ টাকার।

এসএসকেএমে বিনা খরচায় প্রতিস্থাপন! কিডনি দিয়ে বাঁচালেন মা, অন্ধকার থেকে আলোয় বাঘমুণ্ডির দেবাশিস
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: ছেলের দু’টো কিডনিই বিকল হয়েছিল। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ১৬ লাখ টাকার। মা ছেলেকে কিডনি দিয়ে জীবন ফিরিয়ে দিলেন। সেই সঙ্গে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য কোনও খরচই করতে হল না বাঘমুন্ডির নিধিয়াটাঁড় গ্রামের দেবাশিস কুমারকে। এসএসকেএম হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপন  হল ছেলের দেহে। বর্তমানে দু’জনেরই অবস্থা স্থিতিশীল। নিজের মা ও মুখ্যমন্ত্রী ‘মমতা দিদি’ই তাঁকে নবজন্ম দিয়েছেন বলে জানাচ্ছেন সুইসা কলেজের স্নাতক দেবাশিস।

Advertisement

বাঘমুন্ডির সেরেংডি পঞ্চায়েতের নিধিয়াটাঁড় গ্রাম। ওই গ্রামেরই দম্পতি নীলাম্বর কুমার ও অহল্যা কুমার। সামান্য‌ চাষবাস করেই তাঁদের সংসার চলে। দুই ছেলে মধুসূদন এবং দেবাশিস। ছোট ছেলে দেবাশিস ২০২৪ সালে শুরুর দিকেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেবাশিসের কথায়, ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রথম জানতে পারি দু’টি কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছে। ডায়ালিসিস শুরু হলেও চিকিৎসকরা জানান, কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। গোটা পরিবারের মাথার যেন ছাদ ভেঙে পড়ে। ঝাড়খণ্ডের টাটা থেকে দক্ষিণ ভারতের ভেলোর অনেক জায়গায় ছুটেছি। কিন্তু কিডনির অন্য ডোনার জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। শেষমেশ আমার মা কিডনি দিতে রাজি হন।
দেবাশিস আরও জানান, কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপনের কয়েক লক্ষ টাকা জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। বেঁচে থাকার আশা কার্যত ছেড়ে দিয়েছিলাম। এরপরই বাঘমুন্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাতর সঙ্গে যোগাযোগ করি। কলকাতার এসএসকেএমে চিকিৎসা শুরু হয় আমার। বিধায়ককে বলার পরই কাজ হয়। তিনি উদ্যোগী হয়ে চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করেন। 
দেবাশিসের সংযোজন, মা যেন দ্বিতীয়বার আমাকে জন্ম দিলেন। তবে এই দ্বিতীয় জন্ম সম্ভব হত না মমতা দিদির সাহায্য ছাড়া। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবস্থাপনার জন্যই এক টাকাও খরচ না করে এসএসকেএমে কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে আমার। 
এদিকে দেবাশিসের মা অহল্যাদেবী বলেন, ছেলেটাকে বাঁচানোর আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। ১৬ লক্ষ টাকা জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। ছেলেকে একটা কিডনি দেওয়ার পরেও বর্তমানে সুস্থ রয়েছি। প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করছি। প্রতিস্থাপনের পর ছ’মাস ছেলেটাকে যা নিয়মে রাখার কথা সেভাবেই রাখা হয়েছে। এখন হাঁটাচলা করতে পারছে ও। 
দেবাশিষের বাবা নীলাম্বর কুমার বলেন, চাষ করে সংসার চলে। ছেলের চিকিৎসায় আত্মীয়স্বজন সহ অনেকেই সাহায্য করেছেন। নিজেদেরও সব শেষ হয়েছে আগেই। এরপর আর ভেলোরে ১৬ লক্ষ টাকা খরচ করে অস্ত্রোপচার সম্ভব ছিল না। কিন্তু এসএসকেএমে বিনা খরচে স্ত্রীর কিডনি ছেলের দেহে প্রতিস্থাপন করা হল। 
দেবাশিসদের প্রতিবেশী জহরলাল কুমার বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনা ছাড়া দেবাশিসকে বাঁচানো সম্ভব ছিল না। নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে ছেলেটা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ