Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

বিনামূল্যে লাইফ সার্টিফিকেট! মোদি সরকারের প্রতিশ্রুতিই সার, গ্যাঁটের কড়ি খরচ করেই ‘জীবন প্রমাণ’ পেনশনভোগীদের

নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতিশ্রুতিই সার! বিনামূল্যে ‘জীবন প্রমাণ’ বা লাইফ সার্টিফিকেট এবারও মিলল না। কেন্দ্র জানিয়েছিল, বর্তমানে এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমের (ইপিএস) আওতায় পেনশন পান, তাঁদের লাইফ সার্টিফিকেট জমা করতে কোনও খরচ লাগবে না।

বিনামূল্যে লাইফ সার্টিফিকেট! মোদি সরকারের প্রতিশ্রুতিই সার, গ্যাঁটের কড়ি খরচ করেই ‘জীবন প্রমাণ’ পেনশনভোগীদের
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৪:১২

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতিশ্রুতিই সার! বিনামূল্যে ‘জীবন প্রমাণ’ বা লাইফ সার্টিফিকেট এবারও মিলল না। কেন্দ্র জানিয়েছিল, বর্তমানে এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমের (ইপিএস) আওতায় পেনশন পান, তাঁদের লাইফ সার্টিফিকেট জমা করতে কোনও খরচ লাগবে না। ডাক বিভাগের আওতাধীন ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্ক (আইপিপিবি) বিনামূল্যে সেই পরিষেবা দেবে। বাড়ি বসেই তা মিলবে। কিন্তু বাস্তবটা হল, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের এই প্রতিশ্রুতি স্রেফ ভাঁওতা! তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ পেনশনভোগীর লাইফ সার্টিফিকেট জমা হয়ে গিয়েছে। প্রবীণরা নিজের দায়িত্বে গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে সেই কাজ করেছেন।

Advertisement

পেনশনপ্রাপকদের প্রতি বছরই জমা করতে হয় লাইফ সার্টিফিকেট। ‘জীবন প্রমাণ’ ব্যবস্থায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে বা আধার যাচাইকরণের মাধ্যমে তা করা যায়। সাধারণত নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয় জীবন প্রমাণ জমা করার উদ্যোগ। এতদিন পরিষেবাটির জন্য আইপিপিবি খরচ বাবদ ৭০ টাকা নিত। সেদিকে নজর রেখেই গত ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য দিল্লিতে ঘোষণা করেন, আইপিপিবি এবং এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও) যে চুক্তি করেছে, তাতে বিনামূল্যে জীবন প্রমাণ দাখিলের সুযোগ মিলবে। দেশের ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ডাকঘরের তিন লক্ষেরও বেশি ডাক কর্মী ওই পরিষেবা দেবেন প্রবীণদের বাড়ি গিয়ে। দু’টি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানও হয় ঘটা করে।
কিন্তু তারপরও কী পরিস্থিতি বাংলায়? তথ্য বলছে, এরাজ্যে ইপিএসের আওতায় পেনশন পান প্রায় ৭ লক্ষ ৯১ হাজার প্রবীণ। তাঁদের মধ্যে এক বছরের কম সময়ের জন্য লাইফ সার্টিফিকেট জমা বাকি আছে প্রায় ৫৮ হাজার জনের। এক থেকে তিন বছরের জন্য তা জমা করা বাকি আছে ৩১ হাজার জনের। এঁদের মধ্যে অনেকেই মৃত। অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে জীবন প্রমাণ দাখিল করে ফেলেছেন প্রবীণরা। কিন্তু বিনামূল্যে পরিষেবা এরাজ্যে চালু হয়নি। কেন? জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্তরে দু’টি প্রতিষ্ঠানের ম঩ধ্যে গাঁটছড়া হলেও, আঞ্চলিক স্তরে প্রশাসনিক গেরোয় নাকি তা আটকে রয়েছে। অর্থাৎ মন্ত্রক ঘোষণা করেই দায়িত্ব সেরেছে। তার বাস্তবায়নে কোনও মাথা ব্যথা নেই সরকারের।
ইপিএস-৯৫ স্কিমের আওতায় যাঁরা পেনশন পান, তাঁরা দুষছেন কেন্দ্রকেই। তাঁদের অন্যতম সংগঠন ন্যাশনাল অ্যা঩জিটেশন কমিটির রাজ্য সভাপতি তপন দত্ত বলেন, আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। কেন্দ্রের প্রচার করা উচিত ছিল। বাংলার বাইরেও এ নিয়ে বিরাট সচেতনতা তৈরি হয়নি। কারণ, এই ঘোষণার পরও ইপিএফও অফিসে গিয়ে ৪০ টাকা দিয়ে লাইফ সার্টিফিকেট করিয়েছেন আমাদের অনেক সদস্য। যাঁরা যেতে পারেননি, তাঁদের অনেকে সাইবার কাফেতে গিয়ে ১৫০-২০০ টাকা দিয়ে করিয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ