Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শালতোড়ায় আবাসের টাকা ভিনরাজ্যে পাঠায় প্রতারকরা

শালতোড়ায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকা টাকা ভিনরাজ্যে বসে থাকা প্রতারকরা হাতিয়ে নিয়েছে।

শালতোড়ায় আবাসের টাকা ভিনরাজ্যে পাঠায় প্রতারকরা
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শালতোড়ায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকা টাকা ভিনরাজ্যে বসে থাকা প্রতারকরা হাতিয়ে নিয়েছে। তদন্তে নেমে শালতোড়া থানার পুলিশ ভিনরাজ্যে থাকা প্রতারকদের ডেরার হদিশ পেয়েছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে ওইসব ডেরার ঠিকানা পুলিশ জানাতে চায়নি। তবে, প্রতারণা চক্রের চাঁইদের ধরতে পুলিশ ভিনরাজ্যেও যেতে পারে বলে আধিকারিকরা আভাস দিয়েছেন। পুলিশের আশঙ্কা, উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়া আবাসের টাকা বিদেশেও পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।বাঁকুড়া জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, আগাম সংবাদ মাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশিত হলে প্রতারকরা সতর্ক হয়ে যেতে পারে। ভিনরাজ্যে বসে প্রতারণার ছক কষলেও চক্রের পান্ডাদের লোকজন বাংলায় ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে, আমরা গোপনে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দ্রুত ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisement


উল্লেখ্য, শালতোড়া থানা এলাকার ১০-১২ জন উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সাইবার প্রতারকরা লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ‘আধার এনাবেলড পেমেন্ট সিস্টেমে’র মাধ্যমে উপভোক্তাদের টাকা গায়েব করা হয়েছে। প্রতারকদের নাগাল পেতে পুলিশ সাইবার বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিচ্ছে। জেলা পুলিশের তরফে শালতোড়া থানাকে এব্যাপারে সাহায্য করা হচ্ছে। তদন্তে প্রতারকদের সঙ্গে ভিনরাজ্যের যোগ পাওয়া গিয়েছে। এর আগেও দুষ্কৃতীরা উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বসে সাইবার প্রতারণা করেছে। এবারও তেমনটা হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জেনেছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, সাইবার প্রতারণার টাকা ভিনরাজ্যে, এমনকি বিদেশেও পাঠানো হয়ে থাকে। প্রতারকরা নানা পন্থা অবলম্বন করে ওই চক্র চালিয়ে থাকে। এর আগেও বাঁকুড়ার কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছিল। সেই তদন্তে নেমে বাঁকুড়ার টাকা অন্যত্র সরানোর ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত জানতে পারি।কীভাবে প্রতারণার টাকা বিদেশে পাঠানো হয়? ওই তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রতারকরা প্রথম ‘টার্গেট’ বেছে নেয়। ওইসময় তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করে। কার অ্যাকাউন্টে মোটা টাকা লেনদেন হয়, তা তারা কৌশলে জেনে নেয়। অনেক সময় ব্যাংক কর্মীদের একাংশও তাদের সাহায্য করে। পরে প্রতারকরা নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে নেয়। তবে, সেই অ্যাকাউন্টেও বেশিক্ষণ টাকা রেখে দেওয়া হয় না। টাকা হাতিয়ে নেওয়ামাত্র দ্রুত তা অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হয়। পরে অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নগদ টাকা ‘ডাম্প’ করা হয়। ধাপে ধাপে হাওয়ালার মাধ্যমে ওই টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় সেই টাকায় সোনা বা বিট কয়েন কিনে নেওয়া হয়। এভাবেও বিদেশে টাকা গচ্ছিত রাখা হয়। যার নাগাল পাওয়া পুলিশের পক্ষে কার্যত মুশকিল হয়ে পড়ে। শালতোড়ার মতো অন্য কোথাও অপরাধ করা হয়েছে কি না, আমরা খোঁজ নিচ্ছি। তা জানা গেলে তদন্তের সুবিধা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ