Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘রিজার্ভ ব্যাঙ্কে’র পুরনো কয়েন বিক্রির টোপে প্রতারণা, প্রতারকদের নয়া ফাঁদ

‘রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া’র ভাণ্ডারে থাকা পুরনো কয়েন বিক্রির টোপ দিয়ে ময়দানে নেমেছে সাইবার প্রতারকরা।

‘রিজার্ভ ব্যাঙ্কে’র পুরনো কয়েন বিক্রির টোপে প্রতারণা, প্রতারকদের নয়া ফাঁদ
  • ৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া’র ভাণ্ডারে থাকা পুরনো কয়েন বিক্রির টোপ দিয়ে ময়দানে নেমেছে সাইবার প্রতারকরা। কয়েন নেওয়ার আগে একটা চার্জ দিতে হচ্ছে। তারপরই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের লোগো লাগানো শংসাপত্র তারা পৌঁছে দিচ্ছে। পুলিস আধিকারিকরা বলছেন, ৭৫০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চার্জ প্রতারকরা আদায় করছে। তবে টাকা পাঠানোর পর আর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। সাইবার প্রতারকদের এই নয়া কৌশল নিয়ে সতর্ক করছেন আধিকারিকরা।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে সাইবার প্রতারকরা সমাজ মাধ্যমে মেসেজ করে পুরনো কয়েন বিক্রির টোপ দিচ্ছে। কয়েনের ছবিও তারা পাঠিয়ে দিচ্ছে। প্রতারকরা বিজ্ঞাপনে লিখছে, রির্জাভ ব্যাঙ্কের কাছে পুরনো এই কয়েনগুলি বহুদিন ধরেই মজুত রয়েছে। এখন সেগুলি বেচার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ তা নিতে আগ্রহী হলে আবেদনপত্র পূরণ করে পাঠাতে হবে। সঙ্গে চার্জ দিতে হবে। কয়েক দিন পরই ডাকঘরের মাধ্যমে পুরনো কয়েন বাড়ি পৌঁছে যাবে। এমনই আশ্বাস দিয়ে সমাজ মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞাপন। তারা ডেমো হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিও পাঠিয়ে দিচ্ছে। অনেক ব্যক্তি এই কয়েন কিনেছেন। সেই প্রমাণও তারা পাঠিয়ে দিচ্ছে।
নকল কয়েন বিক্রির চক্র বহুদিন ধরেই বীরভূমের লাভপুরে সক্রিয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তারা নকল সোনার কয়েন বিক্রি করে লোক ঠকাচ্ছে। পুরনো বাড়ি ভাঙতে গিয়ে সোনার কয়েন পাওয়া গিয়েছে বলে এসব প্রতারকরা ক্রেতাদের মগজ ধোলাই করে। তবে তারা প্রতারণা করতে প্রযুক্তিরসহযোগিতা নেয়না। ফোন করে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যায়। প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে মূলত জামতারার মতো গ্যাংগুলি প্রতারণা করে। সেই কারণেই পুলিস বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছে না। কয়েকজনের থেকে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিস তদন্তে নেমেছে। 
পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, প্রতারণা করতে সাইবার আধিকারিকরা নিত্যনতুন কৌশল নিচ্ছে। প্রলোভনের ফাঁদে পা দিলে চলবে না। প্রতারিত হলে দ্রুত থানায় অভিযোগ জানাতে হবে।
তদন্তকারীদের মতে, সাইবার প্রতারণা নিয়ে লাগাতার প্রচারের পরেও অনেকেই বেমালুম ফাঁদে পা দিচ্ছেন। ডিজিট্যাল অ্যারেস্ট নিয়ে বহুদিন ধরেই প্রচার চলছে। কোনও তদন্তকারী সংস্থা ডিজিট্যাল অ্যারেস্ট করে না। এমনটা বিভিন্ন মাধ্যমে আমজনতাকে জানানোর পরও অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। 
কয়েকদিন আগেই আসানসোলের এক ব্যক্তি ডিজিট্যাল অ্যারেস্টের ফাঁদে পড়ে প্রায় দু’কোটি টাকা খুইয়েছেন। এবার প্রতারকরা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কয়েন বিক্রির নামে প্রতারণা শুরু করেছে। অনেকেরই ধারণা,পুরনো কয়েন বিভিন্ন কাজে লাগে। অনেকে আবার শখে পুরনো কয়েন সংগ্রহ করেন। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই সাইবার প্রতারকরা ডালপালা মেলছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ