নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: নামী সংস্থার ওয়েবসাইট নকল করার পর সামান্য অদলবদল ঘটিয়েই মানুষকে ঠকাচ্ছে প্রতারকরা। নামী সংস্থার ওয়েবসাইটের মাঝে ‘ডট’ বা ‘আন্ডারস্কোর’ ব্যবহার করে তারা নতুন পেজ খুলছে। তারপর লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বাঁকুড়ায় এক ফ্রায়েড চিকেন সংস্থার ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার নামে ৩১ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিস এমনটাই জানতে পেরেছে। এছাড়া কিছুদিন আগে বাঁকুড়া শহরের ভৈরবস্থান মোড় এলাকায় গ্যাস এজেন্সির এক কর্তার ন’লক্ষ টাকা প্রতারকরা গায়েব করেছিল। তাঁকেও ওই ফ্রায়েড চিকেন সংস্থার ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার টোপ দেওয়া হয়। একই কায়দায় অন্য এক বহুজাতিক বেকারি সংস্থার আউটলেট খোলার নাম করে শহরের দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দফায় দফায় বেশ কয়েক লক্ষ টাকা প্রতারকরা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারিতরা টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।
বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অনলাইনে কাউকে টাকা পাঠানোর আগে সবদিক খতিয়ে দেখার জন্য জেলাবাসীকে অনুরোধ করা হচ্ছে।
বাঁকুড়া সাইবার ক্রাইম থানার এক আধিকারিক বলেন, গত কয়েকমাসে শহরের চারজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতারকরা প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রত্যেকের সঙ্গেই বহুজাতিক সংস্থার ওয়েবসাইট নকল করে প্রতারণা করা হয়। প্রতারকরা ওয়েবসাইটের মাঝে ‘ডট’ বা ‘আন্ডারস্কোর’ ব্যবহার করে নতুন পেজ খুলছে। আসলের সঙ্গে হুবহু মিল রাখারও চেষ্টা করছে। ফলে একঝলক দেখে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট বলেই মনে হচ্ছে। তবে ভালো করে খুঁটিয়ে দেখলে পার্থক্য বোঝা যাবে। কিন্তু, প্রতারিত ব্যবসায়ীরা লোভনীয় ‘অফার’ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি প্রতারকদের টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তারফলে তাঁরা সহজেই প্রতারকদের শিকার হয়ে যাচ্ছেন। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুজাতিক সংস্থার ফাস্টফুড বা অন্যান্য খাবার বর্তমানে কলকাতার বাইরে মফস্সল এলাকাতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে ওইসব সংস্থার আউটলেট খোলার জন্য স্থানীয় রেস্তরাঁ মালিকরা উঠেপড়ে লেগেছেন। তাঁদের মধ্যে এনিয়ে প্রতিযোগিতাও শুরু হয়ে গিয়েছে। নতুন অনেকে ওই ব্যবসায় যোগ দিচ্ছেন। সেই সুযোগে প্রতারকরাও ময়দানে নেমে পড়েছে। যে ফ্রায়েড চিকেন সংস্থার নাম করে বাঁকুড়ার দু’জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে, তারা কাউকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দেয় না বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। ফলে প্রতারিত ব্যবসায়ীরা সেভাবে খোঁজ না নিয়েই যে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা কার্যত জলে দিয়েছেন, সেব্যাপারে সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিকরা নিশ্চিত।
এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, আমেরিকা ভিত্তিক ওই বহুজাতিক ফ্রায়েড চিকেন সংস্থা কাউকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দেয় না। ওই সংস্থা সরাসরি শহরে আউটলেট চালু করে। তা খোলার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ফ্রায়েড চিকেনের কেমন চাহিদা রয়েছে, তা তারা খতিয়ে দেখে। মাসে কমপক্ষে তিন লক্ষ টাকার সামগ্রী বিক্রির সম্ভাবনা না থাকলে আউটলেট চালু করে না। প্রতারিত ব্যবসায়ীরা সেইসব বিষয় না জেনেই অনলাইনে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন।