নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি দপ্তরের লোগোযুক্ত বেতনের খতিয়ান। শেষ তিনমাসের ভুয়ো ‘স্যালারি স্লিপ’ দেখিয়ে বেসরকারি ব্যাঙ্ক থেকে সরকারি কর্মী পরিচয়ে ৬২ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ উঠল। সেচ, স্বাস্থ্য ও বনদপ্তরের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ৬টি ব্যক্তিগত লোন নেওয়া হয় হেয়ার স্ট্রিট থানা এলাকার একটি ব্যাঙ্ক থেকে। একের পর এক কিস্তির টাকা জমা না-পড়ায় ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সবক’টি ঋণের গ্রাহকই একজন এবং ভুয়ো। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বাঁকুড়ার সোনামুখী থেকে প্রতারণা চক্রের পান্ডাকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম আকাশ ধীবর (২৮)। চক্রের বাকি সদস্যদের খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
পুলিস সূত্রের খবর, মাস তিনেক আগে ওই ব্যাঙ্কের ধর্মতলা শাখায় ৬টি ঋণের আবেদন জমা পড়ে। সব মিলিয়ে ঋণের অঙ্ক ৬২ লক্ষ টাকা। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, ছ’টি ক্ষেত্রেই দেখা যায় গ্রাহক রাজ্য সরকারি কর্মী। তাঁদের স্যালারি স্লিপগুলিও ‘বৈধ’। কিন্তু, বদলে দেওয়া হয়েছে নাম ও অ্যাকাউন্টের তথ্যাদি। কিস্তি জমা না-পড়ায় তদন্তে নামে ব্যাঙ্ক। আর তখনই বিষয়টি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং পুলিসের দ্বারস্থ হন ব্যাঙ্কের শীর্ষকর্তারা। রুজু হয় প্রতারণার মামলা। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, ঋণের আবেদন কলকাতা থেকে হলেও টাকা জমা হয়েছে বাঁকুড়ার ছ’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সেখানেই সন্দেহ হয় পুলিসের।
বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্রাঞ্চে যোগাযোগ করেন তদন্তকারীরা। জানা যায়, সবক’টি অ্যাকাউন্টই রয়েছে আকাশ ধীবরের নামে। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক থেকে ঠিাকানা জোগাড় করে অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দেয় পুলিস। মঙ্গলবার রাতে সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। তাঁকে কলকাতায় আনা হয়েছে। বুধবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হয়। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাব খুঁজছে পুলিস।
প্রথমত, সরকারি তিনদপ্তরের কর্মীদের আসল স্যালারি স্লিপ তিনি কীভাবে পেলেন? সেগুলির তথ্য ঠিক রেখে নাম-ঠিকানা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রভৃতি পাল্টানো হল কোন কায়দায়? তাহলে কি সেচ, স্বাস্থ্য ও বনদপ্তরের কোনও ব্যক্তির বেতনের খতিয়ান হাতিয়েছিলেন আকাশ? নাকি অভিযুক্তের সঙ্গে সরকারি দপ্তরের কোনও যোগসাজশ রয়েছে? আসল স্যালারি স্লিপগুলি তাহলে কার? ধৃতকে ‘গ্রিল’ করে এখন সেই তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। আকাশ বাঁকুড়ায় বসে থাকলেও তাঁর কলকাতা-যোগ কারা? ধৃতের কল ডিটেলস রেকর্ড ঘেঁটে তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।