Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মোটা টাকা রিটার্নের টোপ দিয়ে প্রতারণা

মাসিক ১০ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে একাধিক বিনিয়োগকারীর লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয়েছিল।

মোটা টাকা রিটার্নের টোপ দিয়ে প্রতারণা
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালনা: মাসিক ১০ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে একাধিক বিনিয়োগকারীর লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয়েছিল। ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করল কালনা থানার পুলিস। ধৃতরা হল পুষ্পেন মণ্ডল ও নির্মল ঘোষ। তাদের বাড়ি যথাক্রমে কালনার কৃষ্ণপুর ও নেপাকুলি এলাকায়। রবিবার ধৃতদের কালনা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতে নির্দেশ দেন। এর পিছনে বড়সড় কোনও প্রতারণার চক্র রয়েছে কি না, তা পুলিস খতিয়ে দেখছে।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনা থানার পিণ্ডিরা পঞ্চায়েতের দক্ষিণ দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা নবিরুল মল্লিকের সঙ্গে পাশের গ্রাম কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা পুষ্পেন মণ্ডলের দীর্ঘদিনের পরিচয়। নবিরুল জানতেন পুষ্পেন কলকাতায় একটি বড় কোম্পানিতে কাজ করে। ভালোই রোজগার করে। পুষ্পেন বছর খানেক আগে নবিরুল সহ কয়েকজনকে জানায়, সে একটি ফিনান্স কোম্পানিতে কাজ করে। সেখানে টাকা বিনিয়োগ করলে মাসিক ১০ শতাংশ হারে সুদ মিলবে। এক লক্ষ টাকা জমা দিলে মাসে ১০ হাজার টাকা রিটার্ন মিলবে। পুষ্পেনের কথায় বিশ্বাস করে নবিরুল, রবিউল মল্লিক, সঞ্জয় সোরেন সহ একাধিক ব্যক্তি শেষ সঞ্চয় টুকু পুষ্পেনের হাতে তুলে দেয়। নবিরুল অনলাইনে দফায় দফায় তিন লক্ষ ও নগদে আরও ৫০ হাজার টাকা পুষ্পেনকে দেয়। নির্মলও এই অর্থ সংগ্রহে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ। মাসে মাসে রিটার্ন দেওয়ার কথা থাকলেও কোনওরকম রিটার্ন পাচ্ছিলেন না নবিরুল সহ অন্যান্যরা। তাদের মাসের পর মাস ঘোরানো হচ্ছিল। জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও কোনও সমাধান হচ্ছিল না। শনিবার নবিরুল কালনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস তদন্তে নেমে রাতে পুষ্পেন ও নির্মলকে গ্রেপ্তার করে। 
অভিযোগকারী নবিরুল বলেন, দীর্ঘদিনের বন্ধু এমন করবে বুঝতেই পারিনি। মাসিক ১০ শতাংশ হারে রিটার্ন দেওয়ার নামে আমার সাড়ে তিন লক্ষ টাকা সহ আরও বহু লোকের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে। স্ত্রীর জমানো টাকা, বাইক ও জমির ফসল বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। আমাদের টাকায় প্রসাদের মতো বাড়ি করেছে। চারচাকা গাড়ি নিয়ে ঘুরছে। টাকা চাইতে গেলে দিচ্ছি, দেব বলছে। একটু জোরাজুরি করলে এখন বলছে, কোম্পানি উঠে গিয়েছে, টাকা কোথা থেকে দেব। তাই বাধ্য হয়ে কালনা থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। কালনা থানার এক আধিকারিক বলেন, আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
এক আধিকারিক বলেন, সংবাদ মাধ্যমে প্রায়ই এই ধরনের আর্থিক প্রতারণার ঘটনা আমাদের সামনে আসছে। সেই সঙ্গে এত সরকারি প্রচার সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ এভাবে আর্থিক প্রতারণার শিকার হচ্ছে, যা চিন্তার বিষয়। সাধারণ মানুষের কষ্ট করে অর্জিত টাকা সঠিক জায়গাতেই বিনিয়োগ করা উচিত। এনিয়ে সরকারিভাবে আরও বেশি করে প্রচার করতে হবে। যাতে আর কাউকে অনলাইনে বা অফলাইনে কোনও প্রতারণার শিকার হয়ে পথে না বসতে হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ