নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভুয়ো অ্যাপ খুলে বিশ্বাস অর্জনের জন্য শচীন, কোহলি, সলমন খানের মতো সেলিব্রিটিদের ভয়েস ক্লোন করছে সাইবার প্রতারকরা। শুনলে মনে হবে, ওই সেলিব্রিটিরাই এই অ্যাপগুলির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার। অ্যাপে বিনিয়োগের অল্প দিনের মধ্যেই দ্বিগুণ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। এমনই আশ্বাসবাণী শোনা যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা নয়। ওই সেলিব্রিটিদের অজান্তেই তাঁদের ভয়েস ক্লোন করে প্রতারকরা টাকা হাতাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনা হওয়ার পর সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ নড়েচড়ে বসেছে।
এক আধিকারিক বলেন, ক্লোন করা ওই সমস্ত ভিডিওগুলি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরানো হচ্ছে। এই ধরনের বেশকিছু অ্যাপ আগেই চিহ্নিত করা হয়েছে। সেলিব্রিটিদের সামনে আনায় প্রতারকরা আমজনতার বিশ্বাস অর্জন করছে। সাধারণ মানুষ নিজেদের উপার্জনের টাকা অ্যাপে উল্লেখ করা অ্যাকাউন্টে দিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে এরাজ্য থেকে প্রতারকরা এই কায়দাতেই কয়েক কোটি টাকা প্রতারণা করে চম্পট দিয়েছে। সেলিব্রিটিরা তাদের অ্যাপে টাকা বিনিয়োগ করছে, এমন বার্তা তারা ছড়িয়ে দেয়। সেলিব্রিটিদের ছবিও ব্যবহার করে। পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, দুই ২৪পরগনা সহ বিভিন্ন জেলার কয়েক হাজার যুবক-যুবতী অল্পদিনে দ্বিগুণ টাকা ফেরতের আশায় বিনিয়োগ করেছিলেন। প্রথমদিকে তাঁদের কয়েকজন টাকা ফেরত পান। কিন্তু মোটা টাকা বিনিয়োগ হওয়ার পর অ্যাপগুলি বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে প্রতারকরা কিউআর কোডের মাধ্যমে টাকা নিয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে বা কারা নিচ্ছে, সেসব কিছুই বিনিয়োগকারীরা জানতে পারেননি।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বেশকিছু অ্যাপ আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতারকরা ফের নতুন ফরম্যাটে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাপ এনেছে। অনেক সময় লোন দেওয়ার নাম করেও তারা প্রতারণা করছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মোটা টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। তার আগে তাদের অ্যাকাউন্টে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা জমা করতে হয়। সেই টাকা জমা হওয়ার পর আর লোন পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রেও তারা সেলিব্রিটিদের ভয়েস এবং ছবি ব্যবহার করছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ আসতে থাকে। সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ হয়। তারপর থেকে সাইবার প্রতারকরা কিছুটা ব্যাকফুটে গিয়েছে। কিন্তু প্রতারণা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। তারা কোনও সেলিব্রিটির ছবি এক বা দু’বারের বেশি ব্যবহার করে না। অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করায় আমজনতা ধন্দে পড়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিশ্চিত না হয়ে কোথাও টাকা বিনিয়োগ করা উচিত নয়। তাছাড়া, চটজলদি লোন পাওয়ার আশায় ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ।
এই সমস্ত তথ্য হাতে থাকলে অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করতে প্রতারকদের বেশি সময় লাগে না।