নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: খুনের অভিযোগে স্বামী বিচারাধীন বন্দি। তাই কলকাতা হাইকোর্ট থেকে তার জামিন করানোর কথা ভেবেছিলেন তার স্ত্রী। তারজন্য দ্বারস্থ হয়েছিল ‹বড়› উকিলবাবুর। কিন্তু, জামিন তো দূরের কথা, এক লক্ষ ৩১ হাজার টাকা নিয়ে বেপাত্তা হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল ওই ‘উকিলে’র বিরুদ্ধে। অগত্যা গোটা ঘটনাটি জানিয়ে রানাঘাট এসডিপিও-র কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতারিত মহিলা।
জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর তাহেরপুরের জালালখালিতে ছোট পণ্যবাহী গাড়ির চাকায় পিষে মৃত্যু হয় তন্দ্রা বিশ্বাস নামে এক গৃহবধূর। ওই গাড়ির চালক বিপুল মুস্তাফির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে পিষে মারার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, গভীর রাতে মাঝপথে ওই গৃহবধূ ও তাঁর স্বামীকে হেনস্তা করে এক ইঞ্জিনভ্যান চালক। পরে বচসা বাড়লে সে ডেকে পাঠায় গাড়ির চালক বিপুল মুস্তাফিকে। অভিযোগ, এরপর গাড়ির হেডলাইট বন্ধ করে ওই পণ্যবাহী গাড়ি মহিলার উপর চালিয়ে দেয়। ঘটনার তদন্তে নেমে বিপুলকে গ্রেপ্তার করেছিল তাহেরপুর থানার পুলিস। তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হয়। আপাতত সেই অভিযোগেই রানাঘাট উপ-সংশোধনাগারে বিচারাধীন বন্দি বিপুল।
সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে স্বামীর জামিন করাতে উদ্যোগী হন বিপুলের স্ত্রী মুক্তা মুস্তাফি। পরিচিত মারফত তাঁর যোগাযোগ হয় হুগলির বাসিন্দা অনিল গোস্বামী নামে এক ব্যক্তির। যিনি নিজেকে হাইকোর্টের বড় আইনজীবী বলে দাবি করে। সে তাঁর স্বামীর জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। মহিলার দাবি, ওই আইনজীবী জানিয়েছিল এই জামিন করাতে মোটা টাকা লাগবে। তবে কাজ হবে নিশ্চিত। সেই বাবদ বেশ কয়েক দফায় বিপুলের স্ত্রী অনিলকে এক লক্ষ ৩১ হাজার টাকা দেন। কিন্তু, তারপর ওই ব্যক্তি জানিয়ে দেন, কলকাতা হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করেনি। মুক্তা মুস্তাফি বলেন, হাইকোর্টে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমার স্বামীর জামিনের জন্য কোনও আবেদনই জমা পড়েনি। এরপর আমি একাধিকবার ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। অন্যভাবেও যোগাযোগ করা যায়নি। আমি প্রতারিত হয়ে পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছি। আশা করি, তারা তদন্ত করে সুরাহা করবে।
সম্প্রতি ওই প্রতারিত মহিলা রানাঘাটের এসডিপিও-র দ্বারস্থ হন। তার পরিপ্রেক্ষিতে এসডিপিও সবিতা গটিয়াল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে কী কী তথ্য উঠে আসছে তা দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে, এই অভিযোগ নিয়ে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল আইনজীবী বলে পরিচয় দেওয়া ওই অনিল গোস্বামীর সঙ্গে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। মেসেজ করা হলে তার কোনও উত্তরও দেননি।