Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রান্নার গ্যাসে ভর্তুকির নামে প্রতারণা, ধৃত ১, বড়ঞায় প্রতারিত শতাধিক গ্রাহক

রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি পাইয়ে দেওয়ার নামে গ্রাহকদের লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল এক ডেলিভারিম্যান

রান্নার গ্যাসে ভর্তুকির নামে প্রতারণা, ধৃত ১, বড়ঞায় প্রতারিত শতাধিক গ্রাহক
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি পাইয়ে দেওয়ার নামে গ্রাহকদের লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল এক ডেলিভারিম্যান। বড়ঞা থানার কল্যাণপুর পঞ্চায়েতে এঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃত সুব্রত বায়েন স্থানীয় সিদ্ধেশ্বরী গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ, সে গ্রাহকদের অজ্ঞতার সুযোগে তাঁদের আঙুলের ছাপ নিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিয়েছে। মাসের পর মাস ধরে সে এই প্রতারণা চালিয়ে গিয়েছে। সোমবার ধৃতকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

বড়ঞার আন্দি গ্রামে একজন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর রয়েছেন। ওই ডিস্ট্রিবিউটরের গোডাউন থেকে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করত সুব্রত। সেই সূত্রে এলাকার অসংখ্য গ্রাহকের বিশ্বাসভাজন হয়ে উঠেছিল সে। এমনকী, প্রচুর গ্রাহক তাঁদের গ্যাস বুকিংয়ের বইটিও সুব্রতর কাছে রেখে দিয়েছেন। অভিযোগ, গ্রাহকদের সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়েই কয়েকমাস ধরে তাঁদের প্রতারণা করে গিয়েছে সে।
গ্রাহকরা জানান, ওই যুবকের কাছে একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার যন্ত্র রয়েছে। সেটা নিজের মোবাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করত। ওই যন্ত্র ও মোবাইল নিয়ে সে বাড়ি বাড়ি যেত। গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা ঢুকছে কি না-তা দেখার ও কথা বলে তাঁদের ব্যাঙ্কের পাসবই ও আধার কার্ড নিত। সেইসঙ্গে তাঁদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হতো। তা কাজে লাগিয়েই গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে হাজার হাজার টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নিত সে।
সম্প্রতি বিষয়টি কুনিয়া গ্রামের কয়েকজন গ্রাহকের বিষয়টি নজরে আসে। অভিযোগ, তাঁদের কারও অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০হাজার, কারও ৩০হাজার, কারও বা আরও কম টাকা ওই ডেলিভারিম্যানের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁরা ওই যুবককে প্রশ্ন করলে সে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু প্রায় ১৫দিন আগে হঠাৎ সে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এতে ওই গ্রাহকরা চরম ক্ষুব্ধ হন। রবিবার বিকেলে গ্রাহকরা জানতে পারেন, ওই যুবক গ্রামে ফিরেছে। এরপরই তাকে স্থানীয় কুনিয়া গ্রামে নিয়ে এসে একটি বাড়িতে আটকে রাখেন তাঁরা। পরে পুলিসে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই পুলিস ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগকারী তথা কুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাসারুল শেখ বলেন, আমাদের বলত, গ্যাসে ভর্তুকির টাকা ঢুকছে কি না, তা দেখে দেবে। এই অজুহাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আধার কার্ড নিয়ে প্রচুর গ্রাহকের টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, ওই ডেলিভারিম্যান এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা গায়েব করেছে। আমরা ওই যুবকের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। 
ধৃত যুবকের বাবা জিতেন বায়েন বলেন, ছেলে যে এধরনের কাণ্ড করে বেড়িয়েছে, সে সম্পর্কে আমাদের ধারণাও ছিল না। ও কারও টাকা নিয়ে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ