সংবাদদাতা, হলদিবাড়ি: লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণা। এমন অভিযোগে কোচবিহার জেলা পরিষদের সদস্য হাসিনাবানু সরকারের ছেলেকে হলদিবাড়ি থানার পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, দু’জনকে ধরা হয়েছে। ধৃতরা হল বুলবুল হক সরকার ও সুধাংশুশেখর রায়। বুলবুল হাসিনাবানুর ছেলে। এনিয়ে তোপ দেগেছে বিরোধীরাও। খবর জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হলদিবাড়ি ব্লকজুড়ে।
বুলবুল ও সুধাংশু লোন দেওয়ার জন্য হলদিবাড়ি শহরে একটি অফিস খুলছিল। তারা হলদিবাড়ি ব্লকের বেশ কয়েকজনকে সহজে লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকাও তোলে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পরও লোন না পাওয়ায় তাঁরা বুঝতে পারেন আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর তাঁরা ওই দু’জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার হলদিবাড়ি থানার পুলিস দু’জনকে আটক করে। টানা জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে। বুধবার তাদের পুলিস গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি তাদের অফিস থেকে ৬০ হাজার টাকাও উদ্ধার করে। এদিন ধৃতদের মেখলিগঞ্জ মহকুমার আদালতে তোলা হলে বিচারক চারদিনের পুলিসি হেফাজতে নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিস জানিয়েছে, বুলবুলহক সরকারের বাড়ি হলদিবাড়ি ব্লকের বক্সিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের হাকির মোড়ে। সুধাংশুর বাড়ি হলদিবাড়ি ব্লকের উত্তর বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পয়ামারীতে।
বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সদস্য অপূর্বকুমার রায় বলেন, তৃণমূলে যত দুর্নীতি তত পদোন্নতি। কোচবিহার জেলা পরিষদের সদস্যার ছেলে গ্ৰামের সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে লোন করে দেওয়ার নামে টাকা তুলে প্রতারণা করেছে। আমরা পুলিসের কাছে আবেদন রাখব বুলবুলহক সরকারের সঙ্গে জড়িত তৃণমূলের নেতারাও যেন ছাড় না পায়।
এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের সদস্যা হলদিবাড়ির তৃণমূল নেত্রী হাসিনাবানু সরকারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে মেখলিগঞ্জের বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।
মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিস সুপার সন্দীপ গড়াই জানান, লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে দু’জনকে গ্ৰেপ্তার করার পাশাপাশি তাদের অফিস থেকে টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। এই চক্রে আর কেউ জড়িত কি না দেখা হচ্ছে।