সংবাদদাতা,পুরুলিয়া: গ্রামের মধ্যেই যখন তখন শিয়ালের দল হানা দিচ্ছে। গ্রামবাসীদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। মাঠ ভরা ফসলের দফারফা করছে। বৃহস্পতিবার ঝালদার ইচাগ গ্রামের মধ্যে শিয়ালের হানায় পাঁচ মহিলা সহ মোট ছয় জন জখম হন। জখমদের মধ্যে একজন নাবালিকাও রয়েছে। আহতদের এদিনই ঝালদা ব্লক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। আচমকা শিয়ালের এই হানায় আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসী। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন বনকর্মীরা।
স্থানীয় ও বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোরে ইচাগ ও কুকি গ্রাম মিলিয়ে মোট ছ’জন বাসিন্দা শিয়ালের হানায় জখম হন। এলাকায় মাঝেমধ্যেই শিয়াল ঘোরাফেরা করলেও এভাবে মানুষের ওপর আক্রমণের ঘটনা মনে করতে পারছেন না এলাকার বাসিন্দা থেকে বন দপ্তরের কর্মীরাও।
এবিষয়ে ইচাগ গ্রামেরই বাসিন্দা শিশির মাহাত বলেন, বাড়ি লাগোয়া খামার বা উঠোনের একবারে শেষ প্রান্তে শৌচালয় রয়েছে। ভোরে আমার মা রমনীদেবী সেখানেই যাচ্ছিলেন। বাড়ি থেকে বেরনোর পরেই আচমকা একটা শিয়াল সামনে এসে মাকে আক্রমণ করে। মায়ের পায়ে কামড় দেয় বন্যপ্রাণটি। হাতে থাকা বালতি দিয়েই শিয়ালটিকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন মা। বালতির জল ঢেলে দিতেই ভিজে গিয়ে পালায় সেটি। শিয়ালের আক্রমণে গ্রামের আরও কয়েকজন জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন শৌচকর্মের জন্য মাঠে গিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তির গুরুতর অবস্থা। গ্রামবাসীরা জানান, মাঝে মধ্যেই শিয়াল গ্রামে ঢুকে হাঁস, মুরগি নিয়ে যায়। কিন্তু মানুষের ওপর আক্রমণ করতে দেখা যায়নি। এদিন কীভাবে একসঙ্গে এতজনকে আক্রমণ করল বোঝা যাচ্ছে না।
এবিষয়ে স্থানীয় বন দপ্তরের এক কর্মী জানান, এদিন সকালে ঘটনাটি জানার পরই জখম ছ’জনকেই ঝালদা ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা হয়। আইন অনুযায়ী আহতদের ক্ষতিপূরণেরও ব্যবস্থা হবে।
বন দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, স্থানীয় বানসার জঙ্গলের দিক থেকে শিয়ালগুলো এসেছিল। গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন বন দপ্তরের কর্মীরা।