কসবার স্কুলে  শ্লীলতাহানি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর, অধরা অভিযুক্ত যুবক
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুলের পড়ুয়াদের বই দিতে এসে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নাকতলার একটি স্কুলে এই ঘটনা ঘটে। স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফেই নেতাজিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। তার ভিত্তিতে কিশোরীর শ্লীলতাহানি ও পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিস। তবে দু’দিন কেটে গেলেও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি তারা। 

Advertisement

স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিসকে জানিয়েছে, ১৪ আগস্ট দু’জন স্কুলে সরকারি বই নিয়ে আসে। তখন শৌচালয় থেকে ক্লাসরুমের দিকে যাচ্ছিল বছর দশেক বয়সের ওই ছাত্রী। অভিযোগ, স্কুলের করিডরেই বই দিতে আসা একজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করে। কিশোরীর গোপনাঙ্গ স্পর্শ করে সে। সেই সময় ছাত্রীটি পড়ে যায়। মাথায় চোট লাগে তার। ছাত্রীর কান্নায় ক্লাসরুম থেকে শিক্ষিকারা বেরিয়ে আসেন। ততক্ষণে স্কুল থেকে চম্পট দিয়েছে বই দিতে আসা দু’জনই। ঘটনার পরই ওই ছাত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের সম্মতিতেই স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে নেতাজিনগর থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে স্কুল চত্বরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। লালবাজার জানিয়েছে, অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। 
তবে ঘটনার পর দু’দিন কেটে গেলেও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিসের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে অভিভাবক মহলে। এই ঘটনা নিয়ে ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা হয়েছিল। তবে তাঁরা দাবি করেছেন, ‘এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি’। উল্লেখ্য, সম্প্রতি জোকা আইআইএমে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানেরই এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। হরিদেবপুর থানায় মামলা রুজু করেন নির্যাতিতা। সেই ঘটনায়ও অভিযোগকারিণীর বাবা বলেছিলেন, ‘মেয়ের সঙ্গে কিছু হয়নি।’ তাহলে কি হরিদেবপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তিই হতে চলেছে নেতাজিনগরে? বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশায় রয়েছে পুলিসও। এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কলকাতা পুলিসের ডেপুটি কমিশনার (সাউথ সাবার্বান) বিদিশা কলিতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও উত্তর দেননি।